সরকারী সেবা সহজীকরণ: পাসপোর্ট সেবা
পাসপোর্ট নিয়ে বিরক্ত বা হয়রানি হয়নি এমন কোনো নাগরিক মনে হয় দেশে নেই। একটি যুগান্তকারী ঘোষণা এসেছে যে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দরকার নেই পাসপোর্ট এর জন্য। যদিও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এর হিসেবটা সহজ ছিল। থানায় কারো নামে ওয়ারেন্ট বা পলায়ন অযোগ্য মামলা বা মামলা এক ধরনের রিপোর্ট দেবে। আর না থাকলে ভিন্ন । এজন্য থানার রেজিস্টার যথষ্ঠে। এখানে ব্যক্তিকে নতুন করে ভেরিফাই করার কিছু নেই। কিন্তু এখান ডজন ডজন নাটকের জন্ম দিয়ে মানুষকে হয়রানি করে টাকা আদায় করা হতো। যাই হোক মানুষ সেখান থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছে।
তবুও এই সেবাকে আরো সহজ করার জন্য কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরছি।
কিন্তু মূল সমস্যা থেকে এখনো নিষ্কৃতি মেলেনি
১) এখনো সত্যায়িত কাগজপত্র চায়। সেগুলোতে নানা ভুল ধরে দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট বানাতে বাধ্য করে। উত্তরা পাসপোর্ট অফিসে আমি নিজে ভূক্তভোগী।
২) এখনো নতুন পাসপোর্ট, রিনিউ, সংশোধন দিনের পর দিন ঘোরাতে থাকে। বলে বই নাকি নাই। টাকা দিলে নাকি বই পাওয়া যাবে। পাসপোর্ট অফিসকে ঘিয়ে সারাদেশে বিশাল দালাল চক্র গড়ে উঠেছে।
সমাধান কি?
*** পাসপোর্ট ফর্ম সহজ করুন। পাসপোর্ট ফর্ম নিজে নিজে পূরণ করার সুযোগ থাকলেও ৭০ ভাগ মানুষই তা করে না। তাহলে এই বাস্তবতার আলোকে ফর্ম দালালেরা পূরণ করার দরকার কি? দালালদেরকে ‘‘সেবা এজেন্ট’’ নামে স্বীকৃতি দিয়ে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে জায়গা দিয়ে দিন। তারা বিদ্যুৎ বিল দেবে আলাদা মিটারে, চেয়ার টেবিল ও ল্যাপটপ নিয়ে বসবে। মানুষের ফর্ম ফিলাপ করবে ৩০০ টাকা নিবে। সেখান থেকে সরকারকে ১৫% হারে ভ্যাট দেবে। আর পাসপোর্ট অফিসকে বছরে একটা মিনিমাম ফ্যাসিলেশন ফি দেবে। বর্তমান ব্যবস্থায় মানুষ সেবা পাচ্ছে সাথে পাচ্ছে ফ্রিব্যবহার, মিথ্যা তথ্য আর বাড়তি মূল্যশোধ।
*** তারচেয়ে বরং অফিসের ভেতরে বাইরে জোনাল এলাকায় কিছু লোককে এজেন্ট দিয়ে দেন। তাদের ‘‘দালাল’’ তকমা থেকে সম্মানের পেশায় নিয়ে আসেন। প্রত্যেক ৫ বছরের জন্য দেন। সরকারের কিছু আয় হোক। লোকগুলোর কর্সংস্থান হোক এবং সেবার মান নিশ্চিত হোক।
এতে তারা যেন দালাল হিসেবে বই নেই বলে বাড়তি অর্থ ফরম ভুল হয়েছে বাড়তি অর্থ নিবে। সেটা বন্ধ করেন। কারণ কোনো দালালী ও দূর্নীতি ধরা পড়লে সে জীবনে আর এজেন্ট হতে পারবেনা। তার অনুমোদন বাতিল হবে। যে পদক্ষেপটা সরকার চাইলে এখন দালালদের বিরুদ্ধে নিতে পারে না তখন সেটা এজেন্টদের বিরুদ্ধে নিতে পারবে।
*** পাসপোর্টে অপশন করে দেন: ৪৮ পাতা কত টাকা, ৯৬ পাতা কত টাকা|
(লেখা: জাহাঙ্গীর আলম শোভন)

