বিশ্বমানবতার প্রতীক: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস

বিশ্বমানবতার প্রতীক: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস

বিশ্বমানবতার প্রতীক: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস

( এই লেখাটি চ্যাটজিপিটিকে দিয়ে লেখা হয়েছে। প্রফেসর উইনুসকে নিয়ে অসংখ্য লেখা রয়েছে। প্রতিদিন তার কাজ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। তাই তাকে নিয়ে নতুন কিছু লেখার বা বলার নেই। আমি চ্যাট জিপিটির চোখ দিয়ে তাকে দেখতে চেয়েছি। আপনিও দেখেন)

পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ জন্মান, যাঁরা শুধু একটি জাতির নয়—সমগ্র বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠেন। তেমনই একজন মানুষ হলেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস। একজন অর্থনীতিবিদ, সমাজসংস্কারক এবং মানবতার জন্য নিবেদিত প্রাণ, যিনি ‘মাইক্রোক্রেডিট’ বা ক্ষুদ্রঋণ ধারণার মাধ্যমে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নতুন পথ তৈরি করেছেন।

বিশ্বে যখন দারিদ্র্য একটি অপরিবর্তনীয় বাস্তবতা বলে বিবেচিত হচ্ছিল, তখন ইউনুস স্যার দেখালেন, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ালে, তাদের আত্মমর্যাদা ও কাজের সুযোগ দিলে, তারাও সমাজের সমান সদস্য হয়ে উঠতে পারে। তাঁর এই দর্শনই প্রতিষ্ঠিত হয় ‘গ্রামীণ ব্যাংক’-এর মাধ্যমে, যা আজ বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসার রোল মডেল।

 নোবেলসহ বিশ্বের শীর্ষ তিন সম্মান একমাত্র একজন বাংলাদেশির হাতে!

আপনি নিশ্চয়ই জানেন, নোবেল পুরস্কার হলো পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক স্বীকৃতি। অনেকেই জানেন না, বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন তিনটি পুরস্কার হলো:

১. নোবেল পুরস্কার
২. যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম
৩. যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল

বিশ্ব ইতিহাসে মাত্র ১২ জন ব্যক্তি আছেন, যাঁরা এই তিনটি সম্মানই পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনই মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয়—আমাদের বাংলাদেশের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস। এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্যও এক গর্বের বিষয়।

 সামাজিক ব্যবসার ধারণা ও ইউনুস স্যারের পথচলা

ড. ইউনুসের সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবত “সামাজিক ব্যবসা” ধারণাটি। এটি এমন এক ব্যবসা যেখানে মুনাফা নয়, সমাজে প্রভাব তৈরি করাই মূল লক্ষ্য। তিনি প্রমাণ করেছেন, ব্যবসা কেবল ধনী হওয়ার মাধ্যম নয়; বরং দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

এই ধারণার উপর ভিত্তি করেই বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছে “Yunus Social Business Center”, যার সংখ্যা বর্তমানে ১০৭টি

 জীবনের অনন্য কিছু ঘটনা

  •  ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি একবার এক লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শুধু প্রফেসর ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য।

  • ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে তাঁকে করা হয় অলিম্পিক মশাল বাহক, যা কেবল বিশ্বমান্য ব্যক্তিদেরই দেওয়া হয়।

  • মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস নিজ হাতে গাড়ি চালিয়ে ইউনুস স্যারকে সিলিকন ভ্যালি ঘুরিয়েছিলেন—এই ঘটনাই বলে দেয় তিনি কতটা শ্রদ্ধেয়।

  •  ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সম্মাননা ও পুরস্কারসমূহ

আন্তর্জাতিক প্রধান প্রধান পুরস্কারসমূহ

পুরস্কার সাল
নোবেল শান্তি পুরস্কার ২০০৬
প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম (যুক্তরাষ্ট্র) ২০০৯
কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল (যুক্তরাষ্ট্র) ২০১৩
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ১৯৯৪
গাঁধী শান্তি পুরস্কার (ভারত) ২০০০
ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার (ভারত) ১৯৯৮
সিউল পিস প্রাইজ (দক্ষিণ কোরিয়া) ২০০৬
ফ্র্যাংকলিন ডি রুজভেল্ট ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড ২০০৬
ইউনেস্কো সাইমন বলিভার প্রাইজ ১৯৯৬
সিডনি পিস প্রাইজ (অস্ট্রেলিয়া) ১৯৯৮
কিং হুসেইন হিউম্যানিটারিয়ান লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড (জর্ডান) ২০০৮

একাডেমিক সম্মাননা

  • পৃথিবীর ৬০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি, যার মধ্যে রয়েছে:

    • হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র)

    • অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাজ্য)

    • টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় (জাপান)

    • সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

    • ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয় (ইতালি)


 অবমূল্যায়নের দুঃখগাথা

বাংলাদেশের এই মহান মানুষটি যখন বাংলাদেশের সদ্য উচ্ছেদকৃত ফ্যাসিবাদী সরকার কতৃক দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায়   আদালতে হাজিরা দিতে যান, তখন তাঁর বয়স ছিল ৮০-এর বেশি। কিন্তু তাঁকে ৮তলা পর্যন্ত হেঁটে উঠতে হয়, কারণ আদালতের লিফট বন্ধ করে দেওয়া হতো। এটি প্রায় ৪০ বার ঘটেছে বলে জানা যায়। ষ্বেরাচার ও হাজার হাজার মানুষের হত্যাকারী শাষক শেখ হাসিনার নির্দেশে এমনটা হয়েছে।

 দুঃখজনক ব্যাপার হলো—ড. ইউনুসকে ‘সুদখোর’ বলে কটাক্ষ করা হয় প্রায়ই। অথচ, বাস্তবতা হলো—গ্রামীণ ব্যাংকে তাঁর এক টাকাও মালিকানা নেই, কোনো শেয়ার নেই, মুনাফা নেননি কোনোদিন। এটি এক বিস্ময়কর অথচ গর্বের সত্যি! এই ব্যাংকের এমডির পদ থেকে অপসারণের আগে তিনি কেবল মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতন নিতেন। যেখানে বাংলাদেশে একজন ব্যাংক এমডির বেতন ১০ লাখ টাকা হয়ে থাকে। ৩০ হাজার টাকায় এই দেশে কি পাওয়া যায় তা সবাই জানেন।

কথিত আছে  একটি মনোমুগ্ধকর বক্তব্যের জন্য তিনি ৭৫ হাজার ডলার সম্মানি পেয়ে থাকেন। কখনও কখনও আরো বেশী। এটাই তার আয়ের মুল উৎস।

 একজন বাঙালির গর্ব

ড. মুহাম্মদ ইউনুস শুধু বাংলাদেশের নয়, তিনি বিশ্ব মানবতার প্রতিনিধিত্ব করেন। বর্তমান বিশ্বে যাঁরা শীর্ষ দশ চিন্তাবিদ হিসেবে বিবেচিত, তাদের মধ্যেও তাঁর নাম আছে। মুসলিম বিশ্বে তাঁর মত নোবেলজয়ীর সংখ্যা হাতে গোনা, কিন্তু এমন সমাজপ্রভাব সৃষ্টিকারী মানুষের উদাহরণ বিরল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ড. ইউনুস এমন এক মানুষ, যাঁর অবদান সময় যত যাবে, ততই মূল্যায়িত হবে। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, একজন মানুষ, একটি ধারণা, একটি উদ্যোগ—সমগ্র বিশ্বের চেহারা বদলে দিতে পারে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply