দূর্নীতি থেকে মুক্তির উপায়
File source: http://www.wikihow.com/Image:Start-Your-Own-Business-Step-10-Version-3.jpg

দূর্নীতি থেকে মুক্তির উপায়

দূর্নীতি থেকে মুক্তির উপায়

(বিস্তারিত ও বহুমুখী)

– জাহাঙ্গীর আলম শোভন

বাংলাদেশে দুর্নীতি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা, যার শিকড় সমাজ, রাজনীতি, প্রশাসন এবং অর্থনীতির নানা স্তরে গাঁথা। উপরোক্ত বিশ্লেষণে দুর্নীতির প্রধান কারণগুলো সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে। এখন আমরা এ সমস্যার সমাধানে কী কী করণীয়, তা নিয়ে কিছু বিষয় তুলে ধরছি:

 দুর্নীতি নিরসনে করণীয় ও দিকনির্দেশনা

১. রাজনৈতিক সংস্কার ও সদিচ্ছা নিশ্চিতকরণ

  • রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ দলে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নির্বাচনের পূর্বে প্রথমে দলীয় হলফনামা জমা নিতে হবে। এবং প্রতি বছর তাদের কমিটি গঠন ও আর্থিক বিবরণী দাখিল করতেহবে।  দলে গণতন্ত্র আছে কিনা তা তদন্তের জন্য নির্বাচন কমিশনের আলাদা সেল বা রাজ-গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
  • দলকে যারা অনুদান দেবে তাদের নাম প্রকাশিত হতে হবে। তাদের আয়কর রিটার্ণসহ জমা নিতে হবে।
  • অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (zero tolerance) নীতি গ্রহণ করতে হবে—নিজ দলের হলেও ছাড় নয়।
  • নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও তহবিল ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
  • বিভিন্ন সূচকে কোন দলের অবস্থান কেমন তা প্রকাশিত হতে হবে।

 

২. একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী সাংবিধানিক আদালত প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়পাল নিয়োগ দিতে হবে।

  • জনগণের অভিযোগ সরাসরি গ্রহণ ও বিচার করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • সাংবিধানিক আদালত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনীতি, বিতর্কিত বিষয়, রাজনৈতিক দলের বিচার ও রাজনৈতিক মতদ্বৈততা দূর করতে হবে। একটি মূল বোর্ড ও একটি আপিল বোর্ড এবং একজন ন্যায়পাল নিয়ে এই আদালত গঠিত ও পরিচালিত হবে।
  • জাতীয় সংসদ হবে সাংবিধানিক আদালতের অবস্থান।
  • সাংবিধানিক আদালনের অধীনে রাজ-গোয়েন্দাদের দ্বারা সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এমনকি মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধেও তদন্তের ক্ষমতা থাকতে হবে।
  • সাংবিধানিক আদালত ও ন্যায়পালকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে হবে।
  • সাংবিধানিক আদালত ও ন্যায়পাল সংক্রান্ত আইন বিধি ও নীতিমালা নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে।

৩. প্রশাসনিক সংস্কার

  • কর্মদক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও বদলি নিশ্চিত করতে হবে।
  • কর্মদক্ষতা, পেশাদক্ষতা, কারিগরি দক্ষতা, কোমল দক্ষতা অনুসারে কর্মকর্তাদের ব্যাজ চালু করতে হবে।
  • ঘুষগ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ও অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ডিজিটাল ফাইলিং ও ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করে সরকারি সেবা সরলীকরণ ও স্বচ্ছতা আনতে হবে।
  • প্রতিটি বিভাগে নিজস্ব মনিটরিং সেল থাকতে হবে। যাতে জনগন তাদের সমস্যার কথা তাদেরকে জানাতে পারে এবং আন্ত-বিভাগীয় ও অন্তবিভাগীয় ইস্যু নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।
  • বিভাগীয় মনিটরিং সেল যেকোনো সমস্যা ও অভিযোগ প্রশাসন ও আদালতে যাওয়ার পূর্বে সমাধান করবে।
  • তারপূর্বে সকল সরকারী সেবা সহজ, শর্তশিথিল, শ্রেণীভূক্তিকরণ ও জবাদিহিমূলক করতে হবে।
  • সরকারী চাকুরির বেতন, ভাতা, ঋণ সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।
  • সরকারী চাকুরীজীবি সম্পদ অর্জন স্ব স্ব বিভাগকে অবহিত করতে হবে।
  • সরকারী চাকুরীজীবিদের সন্তানদের ব্যাপক ভিত্তিক স্কলারশীপ ব্যবস্থা করতে হবে।
  • চিকিৎসা অনুদান ও বাড়ি ঋণ সহজ ও ব্যাপক করতে হবে।

 

৪. দণ্ডহীনতার সংস্কৃতি ভাঙা

  • দুর্নীতির প্রমাণ মিললে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
  • দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
  • বিশেষ দুর্নীতি দমন আদালত গঠন করে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা যেতে পারে।
  • সুনিদিষ্ঠ চাকরী ও ব্যবসা ছাড়া আয় দেখালে তা তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
  • হাউজ ওয়াইফের একাউন্টে লেনদেনে এর ন্যুনতম সীমা থাকতে হবে।
  • সরকারী চাকুরীজীবিদের ব্যাংক হিসাবের সাথে বেতন তথ্য জমা দিতে হবে।
  • বেতনের সাথে সমন্বয় করে ব্যাংক লেনদেন এর সীমা নির্ধারণ করতে হবে।
  • মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশী বেতন হলে স্বয়ংক্রিয় কর কর্তন পদ্ধতি কার্যকর করতে হবে।
  • জমি ও সম্পত্তি ক্রয়ের মূল্য আয়ের সাথে সামঞ্জস্য না হলে বাড়তি অংশের আয়কর রেজিস্ট্রি খরচের সাথে আদায়যোগ্য হবে।
  • একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ  এর চেয়ে বেশী জমি, ভুমি, বাড়ি ও ফ্লাট এর মালিক হলে চক্রবৃদ্ধি হারে ‘‘বাড়তি সম্পদ কর’’ ধার্য করতে হবে।
  • বিদেশে সন্তানদের লেখাপড়া করলে আয়ের বৈধ উৎস দেখাতে হবে।
  • সরকারী চাকুরীজীবিদের পেনশন কমিলে নগদ বেতন বৃদ্ধি করতে হবে।
  • সন্তানের লেখাপড়ার জন্য ঋণ প্রদান সহজ ও ব্যাপক করতে হবে।

 

৫. স্বাধীন ও কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন

  • দুদককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে আরও স্বাধীনতা ও তদন্তের ক্ষমতা দিতে হবে।
  • দুদকের সদস্য নিয়োগে রাষ্ট্রপতির অধীনে একটি ট্রান্সপারেন্ট সিলেকশন বোর্ড থাকা উচিত।
  • সাংবিধানিক আদালত গঠনের পর দুদককে পরার্শ দেয়া আদালতের একটি কাজ হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে।
  • দুদকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনের বাধাহীন সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • দুদকে নিয়োগ প্রক্রিয়া, বেতন কাঠামো সব অন্যদের চেয়ে আলাদা হতে হবে।
  • দুদকে নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতের জীবন, পারিবারিক ইতিহাস ও সামাজিক কাজে অবদান বিবেচনায় আনতে হবে।
  • ‘‘জনকল্যাণ ট্রাষ্ট’’ গঠন করে তাতে অনুদান প্রদান লঘু দূর্নীতির শাস্তি হিসেবে দেখা যেতে পারে।
  • কেউ যদি ভুল শুধরে সকল সম্পদ রাষ্ট্রকে দিয়ে মাফ চায় তাহলে সামাজিক শাস্তি দিয়ে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে হবে । অব্যশ বিদেশে টাকা পাটার ও মানিল্ডারিং এর বিষয়টিও দেখতে হবে।

৬. শিক্ষা ও মূল্যবোধ গঠনের উদ্যোগ

  • পাঠ্যপুস্তকে সততা, দেশপ্রেম ও সামাজিক ন্যায়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
  • বিদ্যালয় পর্যায়ে “নৈতিক শিক্ষা ও নাগরিকতা” বাধ্যতামূলক করতে হবে।
  • দুর্নীতি বিরোধী সামাজিক প্রচারাভিযান (Awareness Campaign) চালু রাখতে হবে।
  • ব্যক্তি জীবনে সদাচারের উপর নাম্বার, পুরষ্কার ও স্বীকৃতি দিতে হবে।

৭. তদারকি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি

  • সরকারি প্রকল্প ও কেনাকাটায় e-GP (Electronic Government Procurement) বাধ্যতামূলক করতে হবে।
  • সেবা প্রদান ব্যবস্থায় AI ও অটোমেশন ব্যবহার করে মানবিক হস্তক্ষেপ কমাতে হবে।
  • একাধিক স্তরে রিভিউ ও অডিট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
  • সরকারী ক্রয়ের আগে পরে তুলনামুলক ক্রয় বিবরনী নিশ্চিত করতে হবে।
  • সরকারী সকল ক্রয় বিক্রয় আগেও পরে প্রকাশযোগ্য ও স্বচ্ছ হতে হবে।
  • প্রতিটি দপ্তরে ক্রয় কমিটি ছাড়াও তদারক কমিটি থাকতেহবে।

৮. গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে উৎসাহ প্রদান

  • অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিরাপদ ও পুরস্কৃত করতে হবে।
  • দুর্নীতির তথ্য প্রকাশকারী হুইসেল-ব্লোয়ারদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা দিতে হবে।
  • সুশীল সমাজকে সরকারি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
  • নাগরিক সাংবাদিকতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধন দিতে হবে।

৯. সমাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা

  • দুর্নীতিবাজকে সামাজিকভাবে বয়কট করার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
  • ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নেতাদের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে—সৎ পথের মাহাত্ম্য প্রচারে তারা শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

১০. দারিদ্র্য বিমোচন ও চাকরির নিরাপত্তা

  • সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন ও প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে।
  • অস্থায়ী ও অনিরাপদ চাকরির পরিবর্তে স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকার ও বেসরকারি খাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

১১. আভ্যন্তরীন ও বিভাগীয় বিচার ব্যবস্থা

  • সরকারী প্রতিটি দপ্তরে নাগরিকদের তাৎক্ষনিক ও মোবাইল অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে। অভিযোগের ধরণ ভেদে বাদীকে উপস্থিত থাকার বাধ্য-বাধকতা শিথিল করতে হবে।
  • যদি অভিযোগ প্রাথমিক প্রমাণ থাকে তাহলে সেটি সঠিক নয় তা প্রমাণের দায়িত্ব অভিযুক্তকে নিতে হবে।
  • তবে ভুল অভিযোগের জন্য জবাবদিহিতা ও প্রযোজ্যক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রাখতে হবে।

১২. পেশাগত স্বীকৃতি

* কিছু কিছু কাজ ও পেশাকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে দূর্নীতির বৃত্ত থেকে বের করে আনতে হবে।

* পাসপোট, ভূমি, ট্রেড লাইসেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স অফিসে দালালদের বিলুপ্ত করে বৈধ ও নিবন্ধিত সেবা এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মতো। তাদের সেবা ফি ও অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করে তাদের কাছ থেকে লাইসেন্স ফি, সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট গ্রহণ করে সরকারের আয় বাড়াতে হবে।

* রাস্তায় দোকান তুলে না দিয়ে নিবন্ধন ও নির্দিষ্ঠ স্থান বরাদ্ধ করে ইউনিট ভিত্তিক দায়িত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ঠ ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব দিতে হবে।

 

১৩. প্রযুক্তির ব্যবহার

* প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দূর্নীতি কমাতে হবে। প্রাথমিকভাবে ১০০ ভাগ প্রযুক্তি নির্ভর হলে প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ ও অকেজো করে দূর্নীতি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া যাবে না।

* নিরাপত্তা ও তথ্য গোপনীয়তার বিষয় ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবস্থাপনায় বেসরকারী সংস্থাকে যুক্তকরতে হবে।

* সরকারী দপ্তরে আইসিটি সেবা নিশ্চিত এর লক্ষ্যে সরকারী মালিকানায় কোম্পানী খোলা যেতে পারে।

 

১৪. গুড গভর্নেন্স হাই অথরিটি (GGHA):

* সরকারের সার্বিক কার্যক্রম দূর্নীতিমূক্ত করতে ও গতিশীলতা আনতে গুড গভর্নেন্স হাই অথরিটি (GGHA) প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাতে সরকারের বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞ ছাড়াও বিদেশী বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের যুক্ত করতে হবে। যুক্ত করতে হবে দক্ষ প্রবাসিদেরকেও।

* গুড গভর্নেন্স হাই অথরিটি (GGHA) সাথে ৩ মাস থেকে ৩ বছরের চুক্তিতে প্রবাসী ও বিদেশী বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করতে হবে। এখানে অফিস ও রিমোট ২ ধনের জব অফার করতে হবে।

* গুড গভর্নেন্স হাই অথরিটি (GGHA) প্রতিবছর কাজের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করবে তার পূরণ করার জন্য কাজ করবে এবং প্রতিবছর তার প্রতিবেদন পেশ করবে।

* গুড গভর্নেন্স হাই অথরিটি (GGHA) এর জন্য বিদেশী প্রশিক্ষক এনে দেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

১৫. হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করণ:

  • * হুইসেলব্লোয়ারদের জন্য একটি শক্তিশালী আইন থাকা প্রয়োজন (যেমন: Whistleblower Protection Act) অভিযোগ করলেই যেন আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়|
  • তথ্য ফাঁসকারীর পরিচয় যেন কোনোভাবেই প্রকাশ না হয়
  • দুর্নীতি দমন কমিশন বা অন্যান্য সংস্থার মধ্যে একটি নিরাপদ ও নিরপেক্ষ তথ্য জমার প্ল্যাটফর্ম থাকা দরকার
  • কেউ যদি হুইসেলব্লোয়ারের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতি বা হয়রানি করেন, তার জন্য শাস্তি নির্ধারণ
  • সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে

ধন্যবাদ