নববর্ষ
নববর্ষ

বিশ্বজুড়ে উৎসবের নানা রূপ

বিশ্বজুড়ে উৎসবের নানা রূপ

নববর্ষ বা নতুন বছরের উদযাপন পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের মানুষের জন্যই এক গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দঘন উৎসব। এটি ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে মিলিত হয়ে মানুষের জীবনে বিশেষ আনন্দ ও আশার বার্তা নিয়ে আসে। ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি দিন সব ধর্মাবলম্বীদের জন্যই একই থাকে, কিন্তু নববর্ষের ক্ষেত্রে এটি দেশ ও সংস্কৃতি অনুসারে ভিন্ন। একেক দেশে একেক তারিখকে নববর্ষ হিসেবে পালিত করা হয়, এবং কোনো কোনো দেশে এক বছরে একাধিকবার নববর্ষ উদযাপন করা হয়।

বাংলাদেশের উদাহরণ থেকে বিষয়টি সহজেই বোঝা যায়। এখানে তিনটি নববর্ষ পালিত হয়। ১ বৈশাখ বাংলা নববর্ষ হিসেবে উদযাপিত হয়, যা কৃষিপ্রধান সমাজে ফসল কাটার পরের আনন্দ উদযাপনের সঙ্গে জড়িত। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১ জানুয়ারি নতুন বছর হিসেবে উদযাপিত হয়। এছাড়া আরবি ক্যালেন্ডারের অনুসারে হিজরী নববর্ষও পালিত হয়। অর্থাৎ, এক দেশে তিনটি নববর্ষের উদযাপন সমাজের ভিন্ন ভিন্ন দিক ও সংস্কৃতির প্রতিফলন।

প্রাচীন কালে মানুষের নববর্ষ উদযাপনের রীতিনীতিও ছিল ভিন্ন। প্রাচীন গ্রীসে প্রতি বছরের ২১ জুনের পরে যেদিন প্রথম চাঁদ ওঠত, সেই দিনটিকে নববর্ষ হিসেবে ধরা হতো। রোমানরা জুলিয়াস সিজারের আগে ১ মার্চ থেকে নববর্ষ উদযাপন করত। মধ্যযুগে ইউরোপের অধিকাংশ দেশে নববর্ষ পালিত হতো ২৫ মার্চ। বর্তমান সময়ে খ্রিস্টান দেশগুলোতে সবখানে নববর্ষ পালিত হয় ১ জানুয়ারি থেকে, তবে অন্যান্য দেশে ধর্ম ও সংস্কৃতি অনুযায়ী আলাদা ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নববর্ষ উদযাপনের তারিখ ও রীতিনীতিও ভিন্ন। চীনে বছরে দুইবার নববর্ষ উদযাপিত হয়—একটি ১ জানুয়ারি এবং আরেকটি চীনা ক্যালেন্ডারের প্রথম মাসের প্রথম দিনে, যা ২১ জানুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পড়ে। ইন্দোনেশিয়াতেও দুটি নববর্ষ পালিত হয়—১ জানুয়ারি এবং হিজরী ক্যালেন্ডারের অনুসারে। রাশিয়ান অর্থডক্স চার্চ জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৪ জানুয়ারি নববর্ষ পালন করে। ইহুদিরা তাদের নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুসারে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নববর্ষ উদযাপন করে। ভিয়েতনামে নববর্ষ ফেব্রুয়ারিতে পালিত হয়, ইরানে ২১ মার্চ, ভারতে দু’বার—বৈশাখের প্রথম দিন এবং ১ জানুয়ারি। মরক্কোতে নববর্ষ পালিত হয় দশই মহররম তারিখে। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় নববর্ষ উদযাপন করা হয় জানুয়ারি মাসের ১ থেকে ৩ তারিখ পর্যন্ত তিনদিন ধরে।

এভাবে সারা বিশ্বেই নববর্ষ উদযাপিত হয় দেশ ও ধর্মের নিজস্ব ক্যালেন্ডার ও রীতিনীতি অনুযায়ী। নতুন বছরের শুরুতে মানুষ আনন্দ, আশা, শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনা করে। নববর্ষ শুধু দিনপঞ্জিকার একটি পরিবর্তন নয়, এটি নতুন সম্ভাবনার সূচনা, নতুন পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণের সময়। এটি মানুষের জীবনে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক ঐক্যের প্রতিফলনও বটে। প্রতিটি দেশের নিজস্ব রীতি ও উৎসবের মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপন বিশ্বজুড়ে মানব সমাজের ঐক্য, আনন্দ ও নতুন জীবনকে সামনে নিয়ে আসে।

সূত্র: জ্ঞানের কথা
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply