Politics, Vote
এক ভোটে ইতিহাস

নিষিদ্ধ, ক্ষমা, বিচার, ন্যায় বিচার, সমবেদনা নাকি পূণবাসন

নিষিদ্ধ, ক্ষমা, বিচার, ন্যায় বিচার, সমবেদনা নাকি  পূর্ণবাসন

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ নিয়ে বিতর্ক বার বার তুঙ্গে উঠছে।  এই বিষয়ে বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে নিষিদ্ধের পক্ষে এবং বিপক্ষে মতগুলো জেনে নিই।

 

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ প্রসঙ্গ

ক) নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে:

আওয়ামী লীগের অনেক দোষ ও সমালোচনা থাকলেও তারা বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল, তারা স্বাধীনতার সাথে যুক্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে যুক্ত। দোষ করলে কিছু মানুষ করেছে। দলতো দোষ করেনি। দোষীদের শাস্তি দিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেয়া উচিৎ। তাছাড়া আওয়ামীগ যে অন্যায়গুলো করেছে। সেগুলো অন্যরাও করে তাহলে আওয়ামীলীগ ও অন্যদের মধ্যে পার্থক্য কী থাকবে।

ক) নিষিদ্ধের পক্ষে:

যেহেতু  একটা পুরো দল আগে নিজেরাই নিজেদেরকে নিষিদ্ধ করে (১৯৭৪) গণতন্ত্র হত্যা করেছে। ক্ষমতায় থাকা কালে বিরোধী দলের উপর হামলা মামলা দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। বিগত ১৫ বছর অন্তত ৫ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে এক হাজারের বেশী মানুষকে গুম করেছে। ৫০ লাখ বিরোধী নেতাকর্মী জেলে নিয়েছে। ৩৬ দিনে হত্যা করেছে কমবেশী ১ হাজার মানুষ। এগুলো মিটিং করে সিদ্ধান্ত করেছে। দলের হাই কমান্ড থেকে নির্দেশনা দিয়ে করেছে। এবং সমস্ত দল এতে সমর্থন দিয়েছে। একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের যে কাঠামো পুরোটাই মিলে যায়। এবং এখনো প্রকাশ্যে মানুষ হত্যার হুমকি দিচ্ছে। সূতরাং এই দল নিষিদ্ধে বিপক্ষে যারা কথা বলবে। তারা হয়তো টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছ। অথবা তারা শেখ হাসিনার সাইকো ইনজেকশান নিয়েছে।

বিশ্লেষণ: সন্ত্রাসী সংগঠন কাকে বলে তার স্বরুপ এখানে আছে। তাহলে যে কেউ বুঝতে পারবে আওয়ামীলীগ এর ব্যাপারে কি করা উচিৎ।

আওয়ামী লীগের জনসমর্থন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রসঙ্গে

ক) জনসমর্থন বেশী ও নির্বাচনের পক্ষে:

আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচনে ৩০% এর নিচে আওয়ামী লীগের ভোট নামেনি। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে এটা আরো ১৫% বেড়েছে। কারণ কিছু মানুষ থাকে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে। তাছাড়া তারা বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করার কারণে তাদের জনসমর্থন বেড়েছে। সূতরাং এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে তাদের রয়েছে। তাই তাদেরকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা ঠিক হবে না। এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবেনা।

ক) জনসমর্থন নেই ও নির্বাচনের বিপক্ষে:

আওয়ামী লীগের ভোটের হিসেব ৩০-৪০% পর্যন্ত হয়েছে। এদের প্রকৃত ৩০%। কারণ এটা ১৯৯১ সালের হিসেব। ১৯৯৬ তে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সারা দেশে গোপনে লাখ লাখ মানুষের ভোটার ফরম ছিড়ে ফেলে দিয়ে কয়েকটি আসনে পরিকল্পিতভাবে ভোটার কমিয়েছে। পুলিশকে টাকা জালভোটে করিয়েছে। এটা খুব সক্ষ্ম প্লানের মাধ্যমে করেছে। সেটা তাদের ভোটের আসল চিত্র নয়। এমনটি ২০০১ ও ২০০৮ সালের তারা ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। যদিও ২০০১ সালে জোটের কারণে সেটা কাজ করেনি।

১৯৭১ সালে যেখানো তাদের ভোট ৯০ এবং ৭৩ সালে আওয়ামী লীগের ভোট সেখানে ১৯৯১তে ২০ বছর তাদের অপকর্মের কারণে তা ২ভাগ নাই হয়ে ৬০% লোপ পেয়ে ৩০% এসে দাঁড়ায়। সেখানে বিগত পনের বছরে এটা আবারো অন্তত ৮০% লোপ এটা ১৫ এ নিচে নামার কথা। যদি যদি আগের মাতো ৩ বাগের ২ ভাগ লোপ পেয়েছে তাহলেও সেটা দাড়াবে ১০% কিন্তু যেহেতু হিন্দু ভোটব্যাংক আছে। সেহেতু এই সংখ্যা হিন্দুদের ৭%+ মুসলিমদের ৮% মোট ১৫% হবে।

তাদের ভোট ও জনসমর্থন না থাকার কয়েকটি বাস্তব প্রমান দিই

* তাদের যদি জন সমর্থন থাকতো ৩টা সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় নির্বাচন তারা ডামি খেলতো না। সুস্থ ভোট করে আসতো এবং তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করতো না। যেখানে তারা নিজেরা বুঝেছে তাদের সমর্থন নেই। সেখানে যারা অন্য কিছু বোঝাতে চায়। তাদের দালালীর অনেক উচু স্তরের।

* আওয়ামী সাংগঠিনক শক্তি, অস্ত্র, টাকা, পুলিশ, ক্ষমতা সরকারী সুবিধা কোনো কিছুই ৩ আগষ্ট ২০২৪ এর পর তাদেরকে মাঠে দাড়াতে দেয়নি। তারপর তাদের অনেক জনসমর্থন আছে। এগুলো যারা প্রকাশ করে তাদের অন্য কোনো এজেন্ডা আছে।

* পৃথিবীর ইতিহাসে সভাপতি থেকে শুরু ওয়ার্ডকর্মী পর্যন্ত পলায়ন করার পরও যারা বুঝাতে চায়। সে দলের অনেক সমর্থন তারা আসলে। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে গিয়ে সে নিজেই বিভ্রান্ত হয়ে আছে।

* বিগত ১ বছরে যারা কোনো সংগঠিত হতে পারেনি। দেড়কোটি মানুষের ঢাকা শহরে ৫শ লোক জড়ো করতে পারেনি। তারপর তারা যাদের জনসমর্থন দেখে উনারা হয়তো এখনো ট্রমাটাইজ হয়ে আছেন। সেজন্য এরকম মনে হচ্ছে।

তাই তাদের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার পক্ষে অথবা বিপক্ষে কিছুই যায় আসে না।

প্রশ্ন ১। এখন প্রশ্ন হলো তাদেরকে নিষিদ্ধ করা কি ন্যায়সঙ্গত হবে।

প্রথমত, কোনো সরাসরি নিষিদ্ধ করা এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।  এধরনের সিদ্ধান্ত টেকে না এবং এগুলো খুব দূর্বল ও অযৌক্তিক পদক্ষেপ। হবে?

প্রশ্ন ২: তাহলে কি তাদের সমস্ত অপকর্ম ক্ষমা হয়ে যাবে। তাহলেতো বার বার এগুলো চলতে থাকবে।

না তাদের ক্ষমা করার প্রশ্নও উঠে না। আপনাকে অবশ্যই দুটো আইন করতে হবে

ক) নাগরিক অধিকার আইন:

এই আইনের মাধ্যমে যারা মানুষের নাগরিক অধিকার হরণ করবে। তাদেরকে নাগরিক অধিকার চীরদিনের জন্য বঞিত করতে হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে আপনি অপরাজনীতির কারণ রাজনৈতিক অধিকার নিষিদ্ধ করতে পারেন। কিন্তু মানবাধকিার নয়। আর যদি এটা করতে পারেন। তাহলে বিষয়টি আইনগত ভাবে এধরনের সকল দলের ‍বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। এবং ভবিষ্যতেও তাহলে অনেকে সতর্ক হবে।

খ) রাজনৈতিক সংগঠন আইন

আপনার অবশ্যই রাজনৈতিক সংগঠন আইন ও বিধি বানাতে হবে। যেহেতু দেশে সামাজিক সংগঠন আইন ও বিধি আছে এবং বাণিজ্য সংগঠন আইনও ও বিধি আছে। তাই রাজনৈতিক সংগঠন আইন ও বিধি দরকার। এখানে রাজনৈতিক সংগঠন কাঠামো নীতি ও পরিধি থাকবে। তারা কি করতে পারবে এবং কি পারবেনা তা থাকবে। কি করলে সংগঠন নিষিদ্ধ হবে। সে বিধিমালা থাকবে। সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।

এবং কারা রাজনীতি করতে পারবে তারা পারবেনা। এগুলো ঠিক করলে ভবিষ্যতে রাজনীতির গুনগত মান উন্নয়ন হবে।

গ) বর্তমান আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত হয়। সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঘ) চির নিষিদ্ধ নয় এবং ক্ষমা নয়। চিরনিষিদ্ধ হওয়ার ১০০টা যুক্তি আছে। আর নিষিদ্ধ না করার হয়তো ১টা যুক্তি আছে যে, তাদেরকে সুযোগ দিতে হবে ভাল হওয়ার। যদিও তারা প্রকাশ্যে হত্যার ও আর প্রতিশোধের ঘোষনা দিয়েছে। এবং তাদের দলের একজনও বলেনি। তারা তাদের দলকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনতে চায়। তাই এই একটা যুক্তিও তাদের পক্ষে যায় না। তবুও আপনি যদি মহান মানুষ হোন বিচার বা প্রতিশোধের বদলে ইনসাফ কায়েম করেন। তাহলে অবশ্যই ২৪ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ ২৪ বছর ধরে তারা এই অপকর্মগুলো করছে। এমনকি বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও তাদের খুন জালাও পোড়াও বন্ধ ছিলো না। সেদিক থেকে এটা ৫৫ বছরও হতে পারে। আর যদি সর্বোচ্চ দয়া দেখাতে হয় তাহলে অবশ্যই ১৫ বছর তাদের দল এবং দলের যেসব নেতা এসব কর্মকান্ড সমর্থন দিয়েছে তাদের নাগরিক ও ভোটাধিকার ভিন্ন ভিন্ন মামলা ও শুনানীর মাধ্যমে সকল পদধারী নেতার নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার স্থগিত করতে হবে।

তারা বাংলাদেশে সব করতে পারবে। কিন্তু রাজনৈতিক কোনো অধিকার পাবে না।

এভাবে যারা ব্যবসা করতে বড়ো অনিয়ম করবে। তাদেরকেও ব্যবসা ও নাগরিক অধিকার থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে। যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খুন হত্যা ও বিশৃংখলা করছে তাদের সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে। শিক্ষা যেহেতু মৌলিক অধিকার তাই এখান থেকে বাদ দেয়া যাবে না। মৌলিক অধিকার ঠিক রেখে রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করতে হবে এবং নাগরিক অধিকার সীমিত করতে হবে। যেমন বিদেশ ভ্রমণ, ব্যাংক ঋণ ইত্যাদি। তাহলে যারা এখন এসব করার কথা ভাবছে। তারা সোজা হয়ে যাবে।

এবং সেগুলো এই অন্তবর্তী সরকার ভেঙ্গে দিয়ে জুলাই সনদের অধীনে নতুন সরকার গঠন করে তার অধীনে করতে হবে। সংবিধান সংশোধনসহ মোলিক সংষ্কারের জন্য কমপক্ষে ৩ -৫ বছর সময় নিতে হবে। কি করবে তা আগেই ম্যান্ডেট দিয়ে ক্ষমতায় বসতে হবে।

সর্বশেষ

আওয়ামীলীগের উপর যে অন্যায় হচ্ছে সেটা বন্ধ করতে হবে। যারা টাকা দিচ্ছে যাদের ক্ষমতা লাইন আছে তারা অপরাধী হলেও তাদের ছেড়ে দিয়ে যারা সাধারণ ও দূর্বল তাদের উপ যে হামলা মামলা হচ্ছে (হোক সেটা আওয়ামী আমলের তুলনায় ১শ ভাগ তাতেও তা হবে কেন? ) সেটা বন্ধ করতে হবে।

তাদের বিচার করতে সহানূভূতির সাথে প্রতিশোধ ও হিংসার সাথে নয়। মনে রাখতে হবে। তারা আমাদের ভাই ও বন্ধু। আমাদের আত্মীয় ও প্রতিবেশী। তাদের উপর অন্যায় জুলুম তাদের পরিবার ও পরবর্তী প্রজন্মের উপর প্রভাব ফেলবে। তাই তাদের রাজনীতি কর্মকান্ড ব্যতিত তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে। আর যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার করতে হবে। এই মনোভাব নিয়ে যে, তোমারা আমাদের দেশের মানুষ হয়েও তোমারা সাইকোথেরাপি নিয়ে ব্রেন ওয়াশড হয়ে যে হত্যাযজ্ঞ ‍ও জুলুম চালিয়েছো তা থেকে তোমাদের ক্ষমা করতে পারছিনা বলে দু:খিত।

এবং যে যতটা অপরাধ করছে। তার বেশী যেন সাজা নয়। যারা অপরাধ স্বীকার বা অনুশোচনা করবে প্রয়োজনে তাদের সাজা একটু কমও হতে পারে।

জানি বরতমান আইন বিচার ও সরকার কাঠামোতে এটা আশা করা ভুল। তবুও আমাদেরকে সেদিকে যেতে হবে। যদি যেতে না পারি জাতি আবার গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে।

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply