Borka, Modern, hijab, Neqab

রক্ষনশীলতা বনাম আধূনিকতা

বাংলাদেশে অতি রক্ষনশীলতা ও অতি আধূনিকতার সংঘর্ষ কতটা অনিবার্য?

একটি ঘটনা অনেকের নজরে পড়েছে আশা করি,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  ক্যাম্পাকে এক ছাত্রীকে পোশাক নিয়ে বাজে মন্তব্যের অভিযোগ  বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী বাইন্ডার মোস্তফা আসিফ অর্ণবের (২৫) কে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। পরে তাকে ছাড়াতে শাহবাগ থানায় যান  ‘‘তৌহিদি জনতা’’ নামে একদল মানুষ। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও নেয়া হয়। এদিকে  মামলার বাদী মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে আদালতে জামিন পান অভিযুক্ত ব্যক্তি। বাংলাদেশের পত্র পত্রিকার তথ্য মতে তার  আইনজীবী দাবী করেন  অভিযোগ সঠিক নয়।

এদিন গ্রেফতারকৃতকে  আদালতে নেয়া হলে ২০-৩০ জনের একটি দল তৌহিদি জনতা নামে সেখানেও স্লোগান দেন। পরে সে ব্যক্তি জামিন পেলে তারা মাথায় পাগড়ি, গলায় একাধিক ফুলের মালা ও হাতে কোরআন দিয়ে বরণ করে নেন তাকে। তিনিও নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন।

আমি দীর্ঘদিন থেকে আশংকা করছি। বাংলাদেশে ধর্মীয় রক্ষণশীলতার সাথে আধুনিকতা বা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অতি আধুনিকতার সংঘর্ষ ঘটে কিনা? যাই হোক এবার বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়া যাক।

বাংলাদেশে হাজার হাজার কওমী মাদ্রাসা এবং এটা প্রতিদিন বাড়ছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় কট্টরপন্থী এবং সুন্নতপন্থী জনগনের হার ও সংখ্যা বাড়ছে। যারা দাড়ি টুপি পাঞ্জাবী ও নেকাব বোরকা পরছে এবং সবকিছুতে ধর্মকে সংযুক্ত করছে। মধ্যবিত্তদের একটা অংশও ইন্টারনেট ও বই পড়ে ইসলামগন্থা অবলম্বন করছে। অন্যদিকে ইংলিশ মিডিয়াম একটা অংশ যারা আধুনিক, অবাধ, প্রগতিশীল জীবনধারা বেচে নিচ্ছে, পোশাক, মেলামেশা, সামজিক অনুষ্ঠান দৃষ্টিভঙ্গি সব কিছুতে এরা আবার কেউ পশ্চিমা জীবনধারা গ্রহণ করছে। মিডিয়া ও স্যোসাল মিডিয়াতে এরা তাদের আধূনিক ও খোলামেলা পোশাকের ছবিও প্রকাশ করছে। সেটা নিয়ে তর্ক বিতর্ক হচ্ছে।  এই দুই ধরনের লোকের সংখ্যা বাড়ছে একদিকে কঠোর রক্ষণশীল এবং অন্যদিকে অতি আধুনিক। মাঝখান দিয়ে কমছে মধ্যপন্থীদের সংখ্যা। এই দুই শ্রেণীর মধ্যে ভবিষ্যতে কি ধরনের সংঘর্ষ ও বিভক্তি হতে যাচ্ছে?

দেশে গত এক দশকে (খুব সহজভাবে) শিক্ষা-পরিবেশে দুটি প্রবণতা দেখা দেয়: (ক) ধর্মীয়-মাদ্রাসা শিক্ষা (বিশেষত কওমী) এবং (খ) ইংলিশ-মিডিয়াম ও শহরভিত্তিক ‘আধুনিক/উদার’ জীবনধারা—উভয়ের প্রভাব বাড়ছে, মধ্যপন্থীকেন্দ্রীক ধ্যান ধারণা কমে যাচ্ছে। এই চিত্রটি সামাজিক ব্যবহার, পোশাক, পরিবারের সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। এর শেষ পরিণতি কী?

এই দুই ধরনের মানুষ কি একই সমাজে বসবাস করবে নাকি তাদের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য। আজকে এই বিশ্লেষনের প্রথম অংশটি লিখতে চাই।

 বাস্তবসংখ্যা ও প্রবণতা (সংক্ষিপ্ত ফ্যাক্টশিট)

  • মাদ্রাসা-শিক্ষার দিক: সরকারি ও অন্যান্য রিপোর্টগুলো দেখায় যে মাদ্রাসা শিক্ষায় অংশগ্রহণ বেড়েছে; সরকারি শিক্ষা পরিসংখ্যান ও গণমাধ্যম বিশ্লেষণে ২০২৩ সালে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ব্যাপকভাবে বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এই প্রবণতা বিশেষত কওমী ও আলিয়া দু’ধরনের মাদ্রাসাতেই দেখা গেছে।

  • ডিজিটাল/সামাজিক মাধ্যম: বাংলাদেশে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল-মিডিয়ার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে — ২০২4-এ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী & সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যা ধারণা, জীবনধারা ও পোশাক-চিত্র দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়ক।

  • ইংলিশ-মিডিয়াম ও শহরোন্মুখ শিক্ষা: শৈশব থেকেই ইংরেজি-মাধ্যম শিক্ষা গ্রহীতার সংখ্যা বাড়ছে; কিছু রিপোর্টে ইংলিশ-মিডিয়াম স্কুল ও শিক্ষার্থীর দ্রুত প্রসার লক্ষ করা গেছে। এদের জীবনধারা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আলাদা বলতে গেলে মাদ্রাসা থেকে যারা বের হচ্ছে তাদের বিপরীত।

 কেন কওমী/ধর্মীয় প্রচলন বাড়ছে — কারণসমূহ (বিন্দুতে)

  • অর্থনৈতিক চাপ ও শিক্ষা-খরচ: অর্থনৈতিক মন্দা বা আয়ের অনিশ্চয়তা হলে কম খরচে বা অনুদান-ভিত্তিক মাদ্রাসা আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে; কিছু গবেষণা/সংবাদ এ কড়চা-কারণ হিসেবে দেখায়।

  • স্থানীয় সামাজিক পছন্দ ও সামাজিক নিরাপত্তা: গ্রামের পরিবারে ঐতিহ্যগত ধর্মীয় শিক্ষা ও স্থানীয় সামাজিক নেটওয়ার্ক মাদ্রাসা-কেন্দ্রীক সিদ্ধান্তকে এগিয়ে দেয়। (এই কারণে উন্নত-শহরের শিক্ষা প্রয়োগ এখানে ভিন্ন)।

  • ধর্মীয় আখ্যান ও অভিভাবক চিন্তাভাবনা: নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও “পরিবার-সংবেদন” ঝুঁকি কমানোর আশায় অনেক অভিভাবক ধর্মীয় শিক্ষায় সন্তান নিতে উৎসাহী হন। (এই দিকটা সামাজিক-মনস্তত্ত্ব ও নির্দেশিত সংস্কার-প্রভাবের ফল)।

 কেন ইংলিশ-মিডিয়াম/আধুনিক জীবনধারা বাড়ছে — কারণসমূহ (বিন্দুতে)

  • গ্লোবাল ইমেজ ও কর্মসংস্থানের আকাঙ্ক্ষা: মধ্যবিত্ত শহরবাসী পরিবারগুলো চায় সন্তানদের প্রতিযোগী রাখতে — ইংরেজি, সফট-স্কিল, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগের জন্য ইংলিশ-মিডিয়াম জনপ্রিয়।

  • সামাজিক মিডিয়া ও ভোক্তা সংস্কৃতি: পশ্চিমা ফ্যাশন, লাইফস্টাইল ও মেলামেশার ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শহুরে-তরুণদের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ার বিস্তৃত উপস্থিতি এই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে।

 মধ্যমপন্থার সংখ্যা কমার কারণ (সংক্ষেপে)

  • গৃহীত-সংস্কৃতি ও অনুরণন: মাঝপন্থীরা (যারা ধর্মীয় সংস্কার ও আধুনিকতার মধ্যে একটি সামঞ্জস্য খুঁজতেন) এখন চাপ অনুভব করছেন—দুটি চরম দর্শনই তাদের পরস্পরের দিকে টেনে নিচ্ছে। সামাজিক পরিচয় ও সংকোচ বা উচ্চ-প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অনেক মানুষ দ্রুত “এক দিক” বেছে নিচ্ছেন। সমাজের দুটো অংশ দুই দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে মধ্যপন্থীদের সংখ্যা কমছে।

  • শিক্ষাব্যবস্থার বিভাজন: আলাদা শিক্ষা-পথ (মাদ্রাসা বনাম ইংলিশ-মিডিয়াম) সমাজকে কর্মসূচিভিত্তিক পৃথক গ্রুপে ভাগ করছে — এতে ‘মিশ্র’ পরিচয়ের স্থান সংকুচিত হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংকট দেখা দেবে। যার লক্ষণ অনেক দেশে শুরু হয়ে গেছে।

 ভবিষ্যতে সংঘর্ষ ও বিভাজনের সম্ভাব্য ধরণ 

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংঘর্ষের একটি আভাস মিলছে বলে আমি মনে করছি। কিন্তু কি রকম তা একটু চেষ্টা করি।

  • (ক) সাংস্কৃতিক-দৃষ্টিকোণ থেকে সংঘর্ষ: পোশাক (নারীর আচ্ছাদন/বোরকা/নেকাব বনাম খোলামেলা পোশাক), মেলার-মিলাপ, পাবলিক আচরণ নিয়ে বিতর্ক ও সামাজিক ভেদাভেদ বাড়বে — স্থানীয় দখলে সংঘর্ষও হতে পারে (স্কুল, কলেজ, কমিউনিটি ইভেন্ট)।

  • (খ) শিক্ষা-নীতি ও কারিকুলাম সংক্রান্ত: কোন শিক্ষা সিস্টেমে কী অন্তর্ভুক্ত হবে (ধর্মীয় শিক্ষা বনাম সেকুলার শিক্ষার বিষয়বস্তু)- সে নিয়ে টানাটানি ও নীতিগত লড়াই।

  • (গ) প্রবল রাজনৈতিক সংঘর্ষ / ভোটপ্রস্তুতি: রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদরা এই ভেদাভেদের সুযোগ নিয়ে ভোটীয় বা শক্তি সংগঠক হিসেবে ব্যবহার করতে পারে—ধর্মীয়-আচরণ বা ‘পশ্চাৎপ্রবণতা’-এর বিরুদ্ধে শক্তিশালী ন্যারেটিভ গড়ে তোলা হয়। আবার অতি আধুনিকদের ইসলামবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতাও শুরু হয়েছে বলা যায়। এটির ইতিহাস বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে; স্থানভেদে তীব্রতা বাড়ে।

  • (ঘ) সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক উত্তেজনা এবং অনলাইন-অভিযান: ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক-ভিত্তিক সংঘর্ষ — ‘শেমিং’, “হ্যাশট্যাগ যুদ্ধ”, বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর কারণে দ্রুত মব লিংচিং বা অনলাইন-অফলাইন হামলার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পোশাক নিয়ে ফেসবুকে হামেশাই বিতর্ক দেখা যায়। যেসব নারীরা তুলনামূলক আধুনিক পোশাক পরেন। রক্ষনশীল ব্যক্তিরা তাদেরকে সমালোচনা করেন। কখনো কখনো ইভটিজিং ও গালি এমনকি বাজে মন্তব্য করতেও দেখা যায়। আবার নেকাব বোরকা পরাদের নিয়ে হাসাহাসি করা হয়। তাদেরকে আলাাদা মনে করা হয়।

  • (ঙ) সমাজগত বিচ্ছিন্নকরণ (segregation): শহর/গ্রাম, ইংরিশ-মিডিয়াম/মাদ্রাসা ছাত্র, পরিবারিক পারস্পরিকবিবাহে ভিন্নতা — সমাজের ভিন্ন অংশ একে অপরকে ‘অতিদূর’ মনে করলে সম্প্রদায়ভিত্তিক বিচ্ছিন্নতা (segregation) বাড়তে পারে।

 সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ/উচ্চ-প্রভাবশালী প্রভাব

  • নারী অধিকার ও জনস্বাস্থ্য: পোশাক-বিধি, স্কুলে মেয়েদের অংশগ্রহণ, জনস্বাস্থ্য/পরিবার-নিবন্ধন ইত্যাদি বিষয়ে চাপ সৃষ্টি হলে নারীর অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

  • প্রচলিত সহনশীলতা-ক্ষয়: মাঝারি ধারার প্রতিষ্ঠান ও প্ল্যাটফর্ম দুর্বল হলে সহনশীলতার সামাজিক-কপর্দকমিনহীন হয়; সামান্য বিবাদও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

  • র‍্যাডিকালাইজেশন ও সন্ত্রাস-হুমকি (সংকেতগত): বেশিরভাগটা সংঘাত না হলেও অনুকূল শর্তে কিছু অংশে র‍্যাডিকাল ভাবধারা দ্রুত বিস্তার পেতে পারে — বিশেষত যখন অর্থনৈতিক বিপর্যয়, শিক্ষার বিকল্প ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা একসঙ্গে থাকে। (এটা সম্ভাব্য কিন্তু নিশ্চিত নয়; দেশভিত্তিক প্রেক্ষাপট নির্ভর করবে)।

 কীভাবে এ বিভাজনকে ঝগড়া/হিংসায় না গড়োয়াতে নীতি, সমাজ ও মিডিয়ার পদক্ষেপ 

  • শিক্ষার পুনর্গঠন—ইন্টারফেস মডেল: মাদ্রাসা পাঠ্য ও সাধারণ শিক্ষা (বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান, নাগরিক পাঠ)-এর কোর উপাদান নিশ্চিত করে ‘হাইব্রিড’ পথ তৈরি করা যায়—যাতে ধর্মীয় শিক্ষা থাকলেও নাগরিক দক্ষতা ও সমকালীন বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। (সরকার, মাদ্রাসা বোর্ড ও সিভিল সোসাইটি দ্বারা সহযোগীভাবে)।

  • মিডিয়া ও সোশ্যাল-প্লাটফর্ম-রেসপনসিবিলিটি: ভয় ছড়ানো, হেটস্পিচ ও মিথ্যা খবর দ্রুত শনাক্ত করে সরানো; স্থানীয় কনটেন্ট-ক্রিয়েটরদের ট্রেনিং—সহনশীলতা ও বিতর্ক-নির্মাণে দায়িত্বশীলতা।

  • অর্থনৈতিক ও সমর্থননীতি: দরিদ্র/আর্থিকভাবে স্থবির পরিবারকে টার্গেট করে শেখা-সহায়তা বা স্টাইপেন্ড—যাতে শিক্ষা-পছন্দ কেবল ব্যয়ের কারণে না হয়। (এটি মাদ্রাসা-ভিত্তিক প্রবণতা কমাতে কাজে লাগতে পারে)।

  • স্থানীয় সংলাপ ও ‘প্ল্যাটফর্ম’ গঠন: সমাজের প্রতিটি স্তরে—গ্রাম-শহর, স্কুল, মাদ্রাসা, ইসলামিক বোর্ড, শিক্ষাবোর্ড—মিলিয়ে নিয়মিত সংলাপ; কেস-স্টাডি শেয়ারিং; নারী-কেন্দ্রিক গ্রুপ/রিলিফ কার্যক্রম।

  • আইনি রক্ষাবলয়: কোনও গোষ্ঠী যদি অন্য গোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার (ধর্ম, পোশাক, শিক্ষা-স্বাধীনতা) হরণ করে, তা দ্রুত বিচার ও প্রশাসনিক উত্তরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় ন্যায্যতা সব সময় বজায় রাখতে হবে।

 নীতিগত সতর্কতা ও বাস্তববাদী দিক

  • কোনও একপক্ষকে সম্পূর্ণ দোষারোপ/বিবেচ্য হিসেবে চিহ্নিত করলে সমস্যা জটিল হবে; এটি একটি বহুমাত্রিক সামাজিক পরিবর্তন—অর্থনৈতিক, দার্শনিক, প্রযুক্তিগত ও শিক্ষাগত সব দিক থেকেই বিবেচনা করতে হবে।

  • তথ্যভিত্তিক নীতি নেয়া জরুরি: মাদ্রাসা-সংখ্যা, ছাত্রসংখ্যা, স্কুল-ছাত্রসংখ্যার ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক কারিগরি সমাধান গঠন করতে হবে—অনুমান নয়, ডেটা-চালিত পদক্ষেপ।

 প্রথমে — শিক্ষার সঠিক পরিসংখ্যান জানা ছাড়া নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক নয়। ডিজিটাল-রিয়েলিটি মেনে সোশ্যাল মিডিয়া দ্রুত জিনিস বদলে দেয়, তাই  মিডিয়া-রেগুলেশন,  মিডিয়া লিটারেসি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা প্রয়োজন। মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষায় পরমত সহিষ্নুতা বিষয়ক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। যেকোনো ইস্যুতে সমঝোতা ও সংলাপ ছাড়া রাজনৈতিক-সামাজিক উত্তেজনা বাড়বে — স্থানীয় স্তরে উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

বাংলাদেশে দুইটি বিপরীত প্রশস্ত ধারা—ধর্মীয় রক্ষণশীলতা (কওমী সহ) এবং আধুনিক/উদার শহুরে জীবনধারা—একসাথে বাড়ার ফলে মাঝপন্থীদের স্থান সংকুচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে সংঘর্ষের রূপ অনেকভাবে হতে পারে: সাংস্কৃতিক সংঘাতে শুরু করে রাজনৈতিক ও স্থানীয়-অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তবে এটি অনিবার্য নয়: শিক্ষা নীতি, সোশ্যাল মিডিয়া-নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক সহায়তা ও স্থানীয় সংলাপের মাধ্যমে এই বিভাজনকে সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমুখী পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ওপরের বিশ্লেষণ ও প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা ও সিভিল সোসাইটির সমন্বিত দায়িত্ব অপরিহার্য।

সর্বশেষ আশাবাদী হয়ে, বিগত ২৪ এর জুলাই মুভমেন্ট এর পর যখন বেশ কয়েকদিন দেশ পুলিশশূণ্য হয়ে যায়। তখন রাস্তায় হিজাব পরা  ছাত্রী এবং টি শার্ট আধূনিক কম বয়সী রমনীকে রাস্তায় একসাথে দাঁড়িয়ে আমরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে করতে দেখেছি। এবং আন্দোলন সংগ্রামেও তারা একসাথে ছিল। আগামী বাংলাদেশ কি সেরকম হবে?