passport tour Visa

পাসপোর্টের র‍্যাংকিং কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?

পাসপোর্টের র‍্যাংকিং কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?

বিশ্বজুড়ে মানুষ যাতায়াতের জন্য যে কাগজপত্র সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে, সেটি হলো পাসপোর্ট। তবে সব দেশের পাসপোর্টের ক্ষমতা এক নয়। কেউ পাসপোর্ট হাতে নিয়েই শতাধিক দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণ করতে পারেন, আবার কেউ ভিসা না পেলে দেশের বাইরে যাওয়ার চিন্তাই করতে পারেন না। এই ভ্রমণ-ক্ষমতার উপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করা হয় “পাসপোর্ট র‍্যাংকিং”

পাসপোর্ট র‍্যাংকিং বলতে কী বোঝায়?

পাসপোর্ট র‍্যাংকিং হলো একটি সূচক যা জানায়, কোনো দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের কতগুলো দেশে ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় প্রবেশ করতে পারেন। মূলতঃ এটি সেই দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক সুনামের প্রতিফলন।


র‍্যাংকিং কে করে?

বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে পরিচিত দুটি পাসপোর্ট সূচক হলো—

  1. Henley Passport Index

  2. Arton Capital’s Passport Index

এছাড়াও আছে:

  • Global Passport Power Rank

  • Nomad Passport Index (যা নাগরিক স্বাধীনতা, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ট্যাক্স সুবিধাকেও বিবেচনায় আনে)

Henley Passport Index-এর র‍্যাংকিং পদ্ধতি

Henley & Partners নামে একটি লন্ডনভিত্তিক নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরামর্শদাতা সংস্থা প্রতি বছর এই সূচক প্রকাশ করে। তারা প্রতিটি দেশের পাসপোর্ট দিয়ে কতটি দেশে ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় প্রবেশ করা যায় তা গণনা করে।

তারা যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়:

  • ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ সুবিধা

  • অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা

  • ই-ভিসা (কিছু ক্ষেত্রে)

  • ডিপ্লোম্যাটিক/অফিশিয়াল সুবিধা নয়—শুধুমাত্র সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য

র‍্যাংকিং প্রক্রিয়া:

  • প্রতিটি দেশের জন্য গণনা করা হয়, কতটি দেশে তারা ভিসা-মুক্ত/ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পায়।

  • এই সংখ্যাই হয় তাদের স্কোর

  • স্কোর যত বেশি, র‍্যাংক তত উঁচু।

উদাহরণস্বরূপ: জাপান বা সিঙ্গাপুরের পাসপোর্টধারীরা প্রায় ১৯০টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান। তাই তারা অনেক সময় প্রথম স্থান অধিকার করে।

Arton Capital Passport Index-এর পদ্ধতি

এটি আরেকটি জনপ্রিয় র‍্যাংকিং, তবে এরা Henley-এর চেয়ে একটু ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে।

তারা তিনটি ক্যাটাগরি বিবেচনা করে:

  1. ভিসা-মুক্ত (Visa-free)

  2. ভিসা অন অ্যারাইভাল (Visa on Arrival)

  3. ই-ভিসা (e-Visa)

এছাড়াও:

  • রঙিন ইন্টারেক্টিভ ওয়েবসাইট

  • “World Openness Score” প্রকাশ করে: যা বিশ্বে ভ্রমণের সামগ্রিক উন্মুক্ততার চিত্র তুলে ধরে।

পাসপোর্ট র‍্যাংকিংয়ের উপর প্রভাব ফেলে যেসব বিষয়:

  1. আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক

  2. সন্ত্রাস বা অপরাধে সংশ্লিষ্টতা

  3. অভিবাসন নীতির কঠোরতা

  4. অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

  5. ভোটাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা (Nomad Index-এর ক্ষেত্রে)

বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান

বাংলাদেশের পাসপোর্ট দীর্ঘদিন ধরেই নিম্ন র‍্যাঙ্কিংয়ে রয়েছে।
Henley Passport Index 2024 অনুযায়ী,
বাংলাদেশের অবস্থান: ৯৮তম,
মাত্র ৪০-৪২টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ সম্ভব

এর কারণ:

  • দুর্বল কূটনৈতিক সম্পর্ক

  • বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসনের আশঙ্কা

  • উন্নত বিশ্বের কঠোর ভিসা নীতি

উন্নত র‍্যাংকিং অর্জনে কী করা দরকার?

  1. আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা

  2. পররাষ্ট্রনীতি ও পাসপোর্টের ইমেজ উন্নয়ন

  3. বিদেশে নাগরিকদের অপরাধ ও অবৈধ কর্মকাণ্ড কমানো

  4. ই-পাসপোর্ট ও ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

  5. আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতির সাথে সমন্বয়

  6. বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন

উপসংহার

পাসপোর্ট শুধু একটি ভ্রমণ ডকুমেন্ট নয়, এটি একটি দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদার প্রতীক। যেসব দেশের পাসপোর্ট উচ্চ র‍্যাঙ্কে রয়েছে, তারা বৈশ্বিকভাবে সম্মানিত এবং বিশ্বে অবাধ চলাফেরার সুযোগ রাখে। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এটি কেবল ভ্রমণের বিষয় নয়—এটি অর্থনীতি, অভিবাসন, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক পরিচিতিরও বড় ইস্যু।

তথ্য ও ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply