জরুরী পণ্য সেবাকে কারফিউ মুক্ত রাখতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে চিঠি
প্রসঙ্গ কথা:
শোভনীয় ডট কম কে পাঠকের জন্য উপকারী করতে এখানে প্রয়োজনীয় কনটেন্ট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সব সময় প্রয়োজন হয় এমন বিষয়বস্তু এবং কখনো কখনো জরুরী প্রয়োজন হয় এমনসব লেখা ও নথিপত্র। তারই ধারাবাহিকতায় এই চিঠি।
অনেক সময় দেশে বিভিন্ন কারণে কারফিউ হয়। তখন অনেক বিষয় থাকে তা জরুরী কিন্তু দেখা যায়। পুলিশের তালিকায় তার নাম নেই। করোনাকালীন সময়ে আমি কেন্দ্রীয় লকডাইন ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি এই সমস্যা। আমরা প্রথম খাবার ও ঔষধ এর জন্য কারফিউ শিথিল করা হলো, পরে দেখা গেল বিভিন্ন বাসায় লিফ্ট নষ্ট হচ্ছে সেখানে মেকানিকদের যাওয়া দরকার। কলমিস্ত্রি ইলেকট্রিক মিস্ত্রি তাদের ক্ষেত্রে সেম বিষয় দেখা গেল।
এধরনের পরিস্থিতিতে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়,স্বরাষ্ট্র ও পুলিশ দপ্তর বা মেট্রোপলিটন পুলিশকে চিঠি দিতে হয়। কিছু পরামর্বশ ও একটা নমূনা চিঠি উপস্থাপন করা হলো।
প্রথমে সম্বোধন এবং বিষয় সহজ, ছোট ও সুন্দর করে লিখবেন। তারপর জনাব বা মহোদ্বয়ের পর আপনি যে বিষয় নিয়ে আবেদন করছেন। তার সম্পর্কে একটা ধারণা দিবেন। হয়তো পণ্যের বিষয়ে, নয়তো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বা ইন্ডাস্ট্রির বিষয়ে। যেমন আপনি লিফ্ট মেকানিকের জন্য কারফিউ শিথিলতা চাইলে শুধু এই সেবার গুরুত্ব সম্পর্কে প্রথম প্যারা বা ২/৩ লাইন। যদি ই-কমার্স হয় তাহলে লিখতে গোটা ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে, যদি এটা ওয়ালটন, স্কয়ার এর মতো পণ্যের জন্য হয় তাহলে পণ্য এবং কোম্পানী সম্পর্কে, যদি ফুডপান্ডার মতো সেবা হয় তাহলে কোম্পানী এবং দুটো সম্পর্কে।
তারপরের প্যারায় লিখবেন কি কি সমস্যা হচ্ছে। আর যদি কারফিউ হওয়ার আগেই চিঠি লিখেন তাহলে লিখবেন কি কি সমস্যা হতে পারে।
এরপর মূল আবেদনটা সর্বশেষ শেষ প্যারাটা লিখে শেষ করবেন। যেটা খুব সহজ নমূনা দেখলে বুঝবেন। সবশেষে কোনো এটাচমেন্ট আর অনুলিপি উল্লেখ করতে ভুলবেন না।
নমূনা চিঠি
বরাবরে
সচিব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা
বিষয়: ই-কমার্স পণ্য ডেলিভারী সেবাকে কারফিউমুক্ত জরুরী সেবার অন্তভূক্ত করা প্রসঙ্গে।
জনাব,
ই-কমার্স খাতের ব্যবসায়ীরা এই খাতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনবল, তৈরী ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে নিরলসভাবে কাজ করছে। করোনাকালীন সময়ে জরুরী সেবা দিয়ে নিত্যপণ্য ও অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে এখাতের উদ্যোক্তা, কর্মী ও ফ্রন্টলাইনার হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের কোম্পানী ( কোম্পানীর নাম) বিগত ( যত বছর কাজ করছেন) বছর ধরে (পণ্য সেবার নাম) পণ্য সেবার বিষয়ে সেবা দিয়ে আসছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কারফিউ কারণে এই খাতের উদ্যোক্তারা যেমন ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তেমনি সেবাগ্রহীতারাও সেবা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তা এবং ভোক্তা উভয়ের কথা বিবেচনা করে কারফিউ এবং জরুরী সময়ে ই-কমার্স ডেলিভারী তথা নিত্যপণ্য সেবা সচল রাখতে ই-কমার্স পণ্য ডেলিভারী সেবাকে কারফিউমুক্ত জরুরী সেবার অন্তভূক্ত করলে তা উদ্যোক্তা এবং সেবাগ্রহীতা উভয়ের জন্য সুবিধাজনক হবে। এর মাধ্যমে জরুরী ঔষধ, চিকিৎসা সামগ্রী, ফুড সাপ্লিমেন্ট, খাবার, মুদি, নিত্যপণ্য ও অন্যান্য ই-কমার্স পণ্যসেবা সার্বক্ষনিক ভাবে ক্রেতা সাধারণের নিকট প্রেরণ করা যাবে। যেহেতু ই-ক্যাবের সকল সদস্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য ই-ক্যাবের নিকট রয়েছে। এবং স্ব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পরিচয়পত্র রয়েছে সেহেতু তা থেকে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
অতএব, বর্তমান পরিস্থিতিতে ই-কমার্স ডেলিভারীর মাধ্যমে জরুরী ঔষধ, খাদ্য, নিত্যপণ্য ও অন্যান্য জরুরীপণ্য সেবা জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ই-কমার্স পণ্য ডেলিভারী সেবাকে কার্ফিউমুক্ত জরুরী সেবার আওতাভূক্ত করে এ সংক্রান্ত বিষয় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।
ধন্যবাদান্তে
নাম
পদবি
প্রতিষ্ঠান
ফোন
ঠিকানা
অনুলিপি
সদয় অবগতির জন্য অনুলিপি প্রেরণ
১। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, ডাক টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা
২। মাননীয় বিভাগীয় কমিশনার। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, সেগুন বাগিচা, ঢাকা
৩। প্রধান, ডিজিটাল কমার্স সেল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা
টিকা: এ ধরনের চিঠি বিজনেস সমিতি বা এসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে দেয়া বেশী যুক্তিযুক্ত। এক্ষেত্রে চিঠি সফ্ট ও হার্ডকপি দুটোই দেয়া ভাল। চিঠি দেয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে যোগাযোগ না রাখলে বা না থাকলে বাংলাদেশে সাধারণত কোনো কাজ হয়না।

