প্রবাসীদের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যতিক্রমী চর্চা
প্রবাসী বা অনাবাসী নাগরিকগণ আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সংস্কৃতি-বিনিময় আজ উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। ফলে, অনেক দেশ প্রবাসীদের জন্য আলাদা নীতি, সেবা ও সংস্থার মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দেশের প্রেক্ষাপট ও উদ্যোগ তুলে ধরা হলো—
ফিলিপাইন: প্রবাসী কল্যাণে সফল মডেল
প্রধান উদ্যোগ:
- Overseas Workers Welfare Administration (OWWA): প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।
- Pre-Departure Orientation Seminar (PDOS): বিদেশে যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
- Legal Aid & Reintegration Program: বিদেশে আইনি সহায়তা এবং দেশে ফিরে পুনর্বাসনের সুযোগ।
ফলাফল:
- প্রবাসীদের জন্য উন্নত সেবা ও নিরাপত্তা।
- বৈধ পথে বিদেশ যাত্রার হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
- দেশে ফিরে আসা শ্রমিকদের উদ্যোক্তা হিসেবে পুনঃস্থাপন।
ভারত: ‘নন-রেসিডেন্ট ইন্ডিয়ান’ (NRI) সম্মাননা ও সহায়তা
প্রধান উদ্যোগ:
- Pravasi Bharatiya Divas (PBD): প্রবাসীদের নিয়ে বার্ষিক সম্মেলন।
- NRI Cell in Ministry of External Affairs: সমস্যা সমাধানে আলাদা শাখা।
- Overseas Citizenship of India (OCI): দ্বৈত নাগরিকত্বের বিকল্প সুবিধা।
ফলাফল:
- বৈশ্বিক ভারতীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।
- ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী বিস্তার সহজ হয়েছে।
- অনেক প্রবাসী ভারতীয় দেশে ফিরে ব্যবসা বা সামাজিক কার্যক্রম শুরু করেছে।
মেক্সিকো: প্রবাসী রেমিট্যান্স থেকে ‘প্রোডাক্টিভ প্রজেক্ট’
প্রধান উদ্যোগ:
- Tres por Uno Program: সরকার, স্থানীয় সরকার ও প্রবাসীদের যৌথ অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প।
- Consular Network: ৫০টিরও বেশি দেশে কনস্যুলার সহায়তা।
ফলাফল:
- প্রবাসী অর্থ শুধুমাত্র খরচ নয়, উন্নয়নে বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে।
- স্থানীয় অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে তহবিল এসেছে সরাসরি প্রবাসীদের হাত থেকে।
কেনিয়া: ডায়াসপোরা নীতি ও ডায়াসপোরা কাউন্সিল
প্রধান উদ্যোগ:
- National Diaspora Policy: প্রবাসীদের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিবেচনা।
- Diaspora Investment Fund: দেশে বিনিয়োগের সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ফলাফল:
- প্রবাসী কেনিয়ানরা দেশে কৃষি ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হচ্ছে।
- প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের সংযোগ বেড়েছে।
আরো কিছু সুপারিশ:
বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো চাইলে নিচের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে—
- ডায়াসপোরা নীতি প্রণয়ন ও হালনাগাদ।
- বিদেশে বাংলাদেশ হাউজ বা সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠা।
- প্রবাসীদের জন্য অনলাইন সেবা প্ল্যাটফর্ম।
- ‘স্মার্ট রেমিট্যান্স ইনভেস্টমেন্ট স্কিম’ চালু।
- প্রবাসী সন্তানদের জন্য বাংলা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংযোগ প্রকল্প।

