পেমেন্টগেটয়েতে ই-কমার্স খাতের অর্থ আটকে থাকা অর্থ  প্রসঙ্গে

পেমেন্টগেটয়েতে ই-কমার্স খাতের অর্থ আটকে থাকা অর্থ প্রসঙ্গে

 পেমেন্টগেটয়েতে ই-কমার্স খাতের অর্থ আটকে থাকা প্রসঙ্গে

ঝূঁকিপূর্ণ মডেলে ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা। ঝূঁকিপূর্ণ মডেলে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু হয় মূলত ২০১৯ সালের দিকে।  ২০২০ সালের শেষ দিকে এটি ব্যাপক আকার ধারণ করে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহের অনৈতিক প্রতিযোগীতা। কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অফার, বিশেষ   অফার দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠাকে একটি কৌশল হিসেবে বিবেচনা করেছিল।  অফারের নামে অস্বাভাবিক মূল্য ছাড়ে পণ্য বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি। অস্বাভাবিক মূল্য ছাড়ের অফার দীর্ঘদিন ধরে চালু রাখার কারণে এক শ্রেণীর ক্রেতা একে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে তারা ব্যপকহারে পণ্যের ক্রয়াদেশ দিয়ে সমস্যা আরো বেশী ঘণীভূত হতে সাহায্য করে। অস্বাভাবিক সময়সীমা নিয়ে পণ্য সরবরাহের অর্ডার গ্রহণ। অনেক ক্ষেত্রে ৩০ হতে ৯০ দিন সময় নিয়ে পণ্য  সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেয়া হতো। এর ফলে গ্রাহকের অর্থ অনির্দিষ্ট সময় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহে আটকে থাকাসহ  পণ্য ডেলিভারি দিতে না পারার মতো ঘটনা ঘটতে শুরু করে।

একদিকে পুরনো গ্রাহকদের অর্ডার ডেলিভারি করতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গুলো ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে নতুন

গ্রাহকদের আরো নতুন নতুন অর্ডার গ্রহণ করেছে ফলে বিষয়টি ক্রমশ জটিল ও বড়ো আকার ধারণ করে। এই ধরণের প্রবণতা চলতে থাকার কারণে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো একই পদ্ধতিতে গ্রাহকের নিকট হতে অর্থ সংগ্রহ

করতে শুরু করে। প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্য ডেলিভারি ও টাকা ফেরত না দিয়ে পণ্য ডেলিভারি হয়েছে এই মর্মে ডেলিভারি স্লিপে ক্রেতার স্বাক্ষর নিয়ে তাদেরকে লম্বা সময় দিয়ে চেক প্রদান করা শুরু করে। যার সংখ্যা পরবর্তীতে ব্যাপক আকার ধারণ করে।  অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহকারীদের টাকা দিতে না পারার কারণে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাকীতে পণ্য দেয়া বন্ধ করলে পুরো ব্যবস্থাটি ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে। অর্থ্যাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ মাস ধরে গ্রাহকের অর্থ আটকে রেখে  যে বৃত্ত তৈরী করেছিলো তা অকার্যকর হয়ে পড়ে আর তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যাও ক্রমশ বেড়ে যায়। অল্প দিনে বেশী পণ্য বিক্রয় দেখানোর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ক্রেতাকে যুক্ত করে অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে  তার মাধ্যমে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার একটা উপায় হিসেবে এই প্রক্রিয়াকে কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে। কিছু লোভী ও প্রতারক শ্রেণীর ব্যক্তি একই প্রক্রিয়ার গ্রাহকদের বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা- ঢাকা দেয়।

ই-কমার্স খাতে সমস্য উদ্ভব হবার সময়ই তা নিরসন করা যায়নি মূলত তখন পর্যন্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকবৃন্দ কোন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করেনি। একারণে মনিটরিং এজেন্সিজগুলো সমস্যার ব্যাপকতা সম্পর্কে ধারণা পায়নি। তাছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান তার প্রচারের জন্য অফার বা মূল্য ছাড়ে পণ্য বিক্রয় করতে পারে বা পণ্য বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিতে পারে তাই এই কার্যক্রমের ঝূঁকি সম্পর্কে কোনো সংস্থার পক্ষে পূর্বেই অনুমান করা সহজ ছিল না।

ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের তথ্য:

১। ই-ক্যাব কতৃক প্রাথমিকভাবে তৈরীকৃত অভিযুক্ত তালিকায় কোম্পানীর সংখ্যা: ৬০টি

(এখানে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বাইরে সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন অভিযোগ বিবেচনা করা হয়েছে)

২। বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃক যেসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরনী তৈরী করা হয়েছে তাদের সংখ্যা: ৩৫টি

৩। ই-ক্যাব কতৃক যেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে তাদের সংখ্যা: ২২টি

৪। ই-ক্যাবের মাধ্যমে যেসব প্রতিষ্ঠান জুম বৈঠকে অংশ নিয়েছে তাদের সংখ্যা: ১৬টি

৫। প্রতিষ্ঠানের গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা রয়েছে তাদের সংখ্যা: ১২টি

৬। যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে মামলা রয়েছে তাদের সংখ্যা: ১০টি

৭। যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে মানি লন্ডারিং মামলা রয়েছে তাদের সংখ্যা: ০৪টি

৮। যেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ দেশে বা বিদেশে পলাতক রয়েছে তাদের সংখ্যা: ০৪টি (আনুমানিক)

৯। যেসব প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ জেলে রয়েছে তাদের সংখ্যা: ০৩টি কমবেশী হতে পারে

১০। যেসব অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে তাদের সংখ্যা: ০২টি

১১। যেসব অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে তাদের সংখ্যা: ৫২টি

১২। যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় ফিরে আসতে চায় তাদের সংখ্যা: ১২টি

 

সুপারিশ:

প্রথমত: বর্তমান ও প্রচলিত প্রক্রিয়ায় অর্থছাড়

বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় প্রথমে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান তালিকা প্রদান করছে এই প্রক্রিয়ায় গেটওয়েতে আটকে থাকা অর্থের একটা অংশ এই প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার মাধ্যমে ফেরত দেয়া সম্ভব।

এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গেটওয়ে আটকে থাকা টাকার পরিমাণসহ গ্রাহকদের একটি তালিকা গেটেমন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান প্রদান করে। গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান তাদের সার্ভারে রক্ষিত তালিকার সাথে যাচাই শেষে প্রয়োজনে প্রত্যেক গ্রাহককে ফোন কল করার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে। গেটওয়ের কতৃক টাকা ফেরত দেয়া হয়। তবে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ও কারিগরি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে যে মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে সে মাধ্যমে অর্থ ফেরত দিতে হয়।

অথবা, প্রথমে গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান তাদের নিকট রক্ষিত টাকা কোন গ্রাহক থেকে গ্রহণ করা হয়েছে তার একটি তালিকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান তাদের ডেলিভারী রিপোর্ট দেখে তালিকাটি নিশ্চিত করার পর আবারো গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানকে পাঠালে তারা গ্রাহকে অনুরুপভাবে যে মাধ্যমে অর্থগ্রহণ করেছে সে মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়।

এই প্রক্রিয়ায় গেটওয়ে কোম্পানী এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান উভয় ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে তালিকা নিজেদের মধ্যে বসে যাচাই বাছাই শেষে চূড়ান্ত করে কারিগরি কমিটি থেকে অনুমোদন শেষে ছাড়করার উদ্যোগ করতে পারে।

দ্বিতীয়ত: গ্রাহকের দাবীর ভিত্তিতে অর্থছাড়করণ

যেহেতু ২০২১ সালের ১৮ জুন থেকে ০৪ জুলাই সময়ের লেনদেন এর একটা অংশ টাকা গেটওয়েতে আটকে আছে। তাই যেসব গ্রাহক এই সময়ের মধ্যে অর্ডার করেছে তাদেরকে অভিযোগের জন্য একটি সময়সীমা ( হতে পারে ১৫ দিন) বেঁধে দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তাদের সকল তালিকা সমন্বয় করে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ও গেমেন্ট গেটওয়ে কতৃক তালিকা যাচাই করে গেটওয়ে থেকে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে ছাড় করা যেতে পারে।

তৃতীয়ত: দ্বৈত দাবীর অর্থ

যেসব অর্থের বিপরীতে গ্রাহকের কোনো অভিযোগ নেই এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সে অর্থ নিজেদের বলে দাবী করছে। এক্ষেত্রে যদি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যথাযথ ডেলিভারী নথি বা প্রমাণ দেখাতে পারে তাহলে সে অর্থ সংশ্লিষ্ঠ গ্রাহক পাবে না। যথাযথ ডেলিভারী প্রমাণ বলতে ডেলিভারী কতৃক ডেলিভারী নথি বা কুরিয়ার কোম্পানী কতৃক সরবরাহকৃত গ্রাহকের পণ্য প্রাপ্তির স্বীকারপত্র বোঝাবে।

এক্ষেত্রে যদি তৃতীয় কোনো কুরিয়ার কোম্পানী না হয়ে ই-কমার্স নিজ ব্যবস্থাপনায় পণ্য সেবা ডেলিভারী দিয়েছে বলে দাবী করে সেক্ষেত্রে গ্রাহককে ফোন দিয়ে এটি নিশ্চিত করতে হবে। যদি গ্রাহক এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের তথ্যের গরমিল থাকে সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় পর্যায়ের স্বাক্ষ্যপ্রমাণ বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কতৃক শুনানির মাধ্যমে উক্ত অর্থের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধুমাত্র গ্রাহকের প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রাহককে উক্ত অর্থ ফেরত দেয়া যেতে পারে।

যেসব অর্থের দাবীদার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে যদি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অন্যকোনো দায় দেনা না থাকে। বা অন্য গ্রাহকের আপত্তি না থাকে এবং উক্ত প্রতিষ্ঠান আইন মেনে ব্যবসা করতে চায় তাদেরকে তাদের পাওনা অর্থ ফেরত দেয়া যেতে পারে।

চতুর্থত: গেটওয়েতে আটকে থাকা পণ্য প্রাপ্ত গ্রাহকের অর্থ

গেটওয়েতে যেসব টাকা আটকে তার যে অংশের গ্রাহক তার টাকা দাবী করছেনা অথবা দাবী করলেও তার দাবীর স্বপক্ষে প্রমান নেই অন্যদিকে এই অর্থ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান উক্ত অর্থ দাবী করছে কিন্তু অন্য গ্রাহকেরা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নিকট পাওনা রয়েছে। এক্ষেত্রে যে সমাধান হতে পারে।

  • যদি নিষ্পত্তি হয়ে যায় এই অর্থের ক্রেতা তার পণ্য পেয়েছে তার কোনো দাবী নেই অথবা দাবীর সত্যতা নেই। তাহলে এই অর্থ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অন্যগ্রাহকদের মাঝে দাবী ও প্রমাণ অনুযায়ী আবেদনের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণ করা যেতে পারে। বিতরণ করার জন্য পূর্বে ঘোষিত বিজ্ঞপ্তির তারিখ রেখা অনুসরন করা শ্রেয় হবে।
  • যদি গ্রাহককে দেয়ার পর কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে তা পরবরর্তীতে আরো একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরবরাহকারী বা মার্চেন্টকে দেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন বা এসোসিয়েশনকে সম্পৃক্ত করা যায়।
  • যদি গ্রাহক ও সরবরাহকারীকে দেয়ার পর কোনো প্রতিষ্টানের অর্থ গেটওয়েতে থাকে। সেক্ষেত্রে উক্ত অর্থ শর্ত সাপেক্ষে সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবসা করার জন্য অথবা পরবর্তীতে কোনো অনিয়ম না করার প্রতিশ্রুতিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার মাধ্যমে এই অর্থ ছাড় করে আটকে থাকা অর্থকে শূণ্যের নামিয়ে আনতে হবে।

চতুর্থত: অনিষ্পন্ন অর্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা

গনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর মানি লন্ডারিং অভিযুক্ত প্রতিষ্টান ও কারাগারে আটকে থাকা প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ ব্যতিত অন্যন্য প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিকপক্ষ সরাসরি অথবা সঠিক ও আইনানুগ প্রতিনিধির মাধ্যমে যোগাযোগ না করে তাদের অর্থ সরাসরি গ্রাহকের নিকট ফেরত যাবে।

গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর যেসব গ্রাহক কোনো অভিযোগ করবে না বা সঠিক প্রমাণ দাখিল করতে পারবেনা তাদের অর্থ অন্যকোনো দাবীদার তথা ভিন্ন পাওনাদার ও সাপ্লায়ার দাবী না করলে এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা চলমান না থাকলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে দেয়া যুক্তিযুক্ত হবে।

গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও উপরের প্রক্রিয়াসমূহ নিষ্পন্ন হওয়ার পরও যেসব অর্থের কোনো দাবীদার থাকবেনা উক্ত অর্থ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অধীনে একটি ভোক্তা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে উক্ত ট্রাস্টকে প্রদান করা যেতে পারে।

পঞ্চমত: অন্যান্য ব্যবস্থা

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর যেসব প্রতিষ্ঠান সাড়া দিবেনা। তাদের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেইজ বন্ধ করার ব্যবস্ধা করতে হবে। তাদের ট্রেড লাইসেন্স ও কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন এবং ডিবিআইডি বাতিল করতে হবে। এছাড়া যারা এর সাথে জড়িত তাদেরকে বাংলাদেশে ব্যবসার জন্য নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যাতে বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে তারা অনলাইন ব্যবসা বা কোনো রকমের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্তি হতে না পারে। তাদের নামে কোনো ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেব খোলা নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।

যাদের কাছে গ্রাহকের অর্থ পাওনা রয়েছে। কিন্তু গেটওয়ে বা তাদের কোথাও দেয়ার মতো অর্থ নেই। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করে তাদের সম্পত্তি জব্দ কিংবা বিদেশ থেকে তাদেরকে ধরে আনার জন্য সরকার ও আইন শৃংখলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ভবিষ্যতের জন্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা

১। ট্রেড লাইসেন্স আইন সংশোধন করে ই-কমার্স ক্যাটাগরি সংযোজন ও দেশের সমস্ত ট্রেড লাইসেন্স ডিজিটাল করণ এবং একই নামে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বন্ধ করতে হবে।

২। লিমিটেড কোম্পানীর মতো ট্রেড লাইসেন্স ক্যাটাগরি অনুসারে ব্যাংক লেনদেন এর সীমা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৩। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, প্রতিযোগিতা আইন ২০১২, কোম্পানী আইন ১৯৯৪, ট্রেড লাইসেন্স আইন ২০১৬ সংশোধন ও সময়োপোযোগী করতে হবে।

৪।  ডিজিটাল কমার্স কতৃপক্ষ আইন চূড়ান্ত করে ডিজিটাল   কমার্স কতৃপক্ষ গঠন করতে হবে   এবং ডিবিআিইডি কার্যকর করতে হবে।

৫। যেসব প্রতিষ্ঠান অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করবে তাদের জন্য ই-ক্যাব অথবা সংশ্লিষ্ঠ ব্যবসা এসোসিয়েশন এর সদস্যপদ নেয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৬। প্রস্তাবিত এসক্রো, সিএমসিএল, সিএলটিপি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

৭। প্রতিযোগিতা কমিশন সংষ্কার করে ফেয়ার ট্রেড কমিশন গঠন করতে হবে। ব্যবসায়ের যাবতীয় অনিয়ম এই কমিশন দেখাশোনা করবে। বিভাগীয় পর্যায়ে এই কমিশন এর দপ্তর স্থাপন করতে হবে।

ষষ্ঠত: বিশেষ পরামর্শ ১: ভোক্তা কল্যাণ ট্রাস্ট

যেহেতু ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ একাধিক সভার মাধ্যমে পর্যালোচনা করে সংশোধনীর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই আইনে আরেকটি অধ্যায় যুক্ত করে ভোক্তা ট্রাস্ট গঠন করে তাদেরকে অদাবীকৃত অর্থসমূহ প্রদান করা যেতে পারে।

সপ্তমত:বিশেষ পরামর্শ ২: মুনাফাজনিত অর্থ

দীর্ঘদিন ধরে গেটওয়েতে আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে সংশ্লিষ্ঠ হিসেবে যেসব সুদ বা মুনাফা জমা হয়েছে। উক্ত অর্থ প্রস্তাবিত ভোক্তা কল্যাণ ট্রাস্টকে প্রদান করা যেতে পারে।

বিশেষ পরামর্শ ৩: গেটওয়ের বাইরে স্থিরকৃত অর্থ

গেটওয়ে ছাড়াও যেসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ বিভ