সরকারী সেবা সহজীকরণ: থানায় ডিজি করা

সরকারী সেবা সহজীকরণ: থানায় ডিজি করা

সরকারী সেবা সহজীকরণ: থানায় ডিজি করা

থানায় জিডি, সাধারণ ডায়রী, জেনারেল ডায়রী, এঅআইআর যে নামেই বলি। এই বিষয়টি আরো সহজ ও কার্যর করা দরকার। আমার (জাহাঙ্গীর আলম শোভন) পরামর্শ অন্যান্য সরকারী সেবার সাথে এই সেবাটিকেও সহজীকরণের জন্য কিছু প্রস্তাব তুলে ধরছি।

আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে। ঘরে বসে অনলাইনে থানায় জিডি করা যায়। সেবাটি খুব সহজ হয়ে গেছে। বাস্তবে এটি হয়নি। বেশীরভাগ সময় এখানে রেজিস্ট্রেশন করা যায়না। নানা জটিলতা থাকে। খোদ ওয়েবসাইটে যেখানে বলা আছে এখান রেজিস্ট্রেশন করুন সে লিংকটি কার্যকর থাকে না। এমনকি থানায় গিয়েও ঘন্টার ঘন্টা বসে থাকা লাগে। দোকানে গেলেও সার্ভার ডাউন শুনতে হয়। আগে যেখানে হাতে লিখে জিডি করতে হতো হয়তো থানায় নানারকম নিয়ম দেখিয়ে তাদের হাতে লিখিয়ে নিতে বলত এবং সেজণ্য টাকা নিত। এখন শহরাঞ্ছলে না লাগলেও গ্রামে গঞ্জে টাকা না দিলে বসে থাকতে হয়।

 

সমাধান কি?

১) জিডি করার অপশন অনলাইন অফলাইন দুটোই রাখতে হবে। অফলাইনের ক্ষেত্রেও মুদ্রিত ফরম ও সাথে সংযুক্তি রাখার কলাম থাকবে। কেউ বাসা থেকে লিখে আনলে বা অতিরিক্ত বিবরণ যুক্ত করতে চাইলে বাড়তি পাতা বা প্রমাণক যোগ করতে পারে। থানা পরে সেটিকে অনলাইন এন্ট্রি দিবে। দুটো এন্ট্রির ২ রকম সিরিয়াল থাকতে কোনো দোষ নেই।

২) বর্তমান পদ্ধতিতে অনলাইনে জিডি করার সিস্টেমকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনে এটি প্রাইভেট খাতে চুক্তিভিত্তিক ছেড়ে দিতে হবে। অথবা পুলিশের আইসিটি ইউনিট নামে আলাদা ইউনিট করে সেটাকে শক্তিশালি করতে হবে।

৩) পাশাপাশি একজনের জিডি আরেকজন করতে পারবে এরকম প্রতিনিধিত্ব চালু করতে হবে। যাতে করে দেশের মা বাবার সমস্যা হলে প্রবাসী সন্তান জিডি করতে পারে।

৪) এছাড়া থানা এলাকায় জনসংখ্যা অনুসারে থানা ভেদে ৫০ থেকে ১০০ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা স্থানীয় কম্পিউটার কম্পোজ ও ফটোকপি দোকানীকে তালিকাভূক্ত করে অনুমোদন দিয়ে জিডি এন্ট্রির অনুমোদিত এজেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তাদের জন্য ৫০ থেকে ১০০ টাকা সেবামূল্য নেয়ার অনুমোদন থাকবে। তারা অনুমোদন এর জন্য ৫০০ টাকা এবং প্রশিক্ষণ বাবত প্রতিবছর ১০০০ টাকা ফি প্রদান করবে। তাদের জন্য প্রতি বছর ২টা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে। এ ধরনের অনুমোদন সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ না করলেও হবে। সেক্ষেত্রে ফি কমাতে হবে।

৫) ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের ন্যায় থানার অভ্যন্তরে সেবাকেন্দ্র চালু করতে হবে। যেখানে সরকার শুধু জায়গা আর বিদ্যুৎ দেবে। চেয়ার টেবিল, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট নিয়ে একাধিক অনুমোদিত সেবাদানকারী থানার অভ্যন্তরে বসে সেবা দিবে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতি ২ বছরের জন্য তাদের নির্বাচন করবে। তারাও ট্রেড লাইসেন্স নিবে, জনগন থেকে সেবামূল্য নিবে এবং সরকারকে ভ্যাট প্রদান করবে। এতে সেবাও সহজ হবে, সরকার রাজস্ব পাবে এবং নতুন হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

এ ব্যাপারে একটি নির্দেশিকা প্রণয়ন করে ‘‘বাংলাদেশ পুলিশ’’কে প্রদান করলে তারা সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবে। এতে পুলিশের কাজের চাপ কমবে। এখানে একটি নিবন্ধন ফি ও প্রশিক্ষণ ফি রাখা যায়। যা হবে একেবারে নূন্যতম। তবে বাছাই প্রকিয়া একটি রক্ষনশীল হবে এবং ৪ বছরের কেউ এবং বয়স ২৮ বছরের পরের কেউ থাকতে পারবেনা। কারণ তাহলে এটাকে অনেকে মূলপেশা বানিয়ে ফেলবে। এখানে কাজ করবে কর্মজীবনে প্রবেশের আগে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply