সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষে ৬ সংস্থার ওকালতি
হলিউড জম্বিমুভিগুলো আমি এতদিন পুরোটাই কাল্পনিক ভাবতাম। এখন দেখছি রুপক অর্থে ১০০ ভাগ সত্যি। এক খুনি সাইকো কিভাবে হাজার হাজার মানুষকে ব্রেইনওয়াশ করে খুনের জন্য প্ররোচিত করতে পারে। তা শুধু হিটলারের যুগে নয় এই যুগেও সম্ভব। এক জম্বি কামড়ে দিলে কিভাবে হাজারো মানুষ জম্বিতে পরিণত হয়। তা চোখের সামনে দেখছি।
সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের কাছে ৬ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের ১২ সুপারিশ সংক্রান্ত খোলা চিঠি আমার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। তাদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু তারা ১১টি ভাল পরামর্শের মধ্যে একটি পরামর্শ সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেয়ার মতো। তাদের এই পরামর্শটি বাংলাদেশের জনগনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার শামিল।
পত্রপত্রিকার ভাষ্যমতে তারা তাদের ৯ নং সুপারিশে বলা হয়েছে- (৯). আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে যে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এটি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও বহুদলীয় রাজনীতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। জাতিসংঘের ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: ‘গণতান্ত্রিক পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’ (যদিও এই দলটি স্পষ্টত সন্ত্রাসী সংগঠন)
তাদের এই সুপারিশ মানবতা-বিরোধী অপরাধের উস্কানী ও সরাসরি সন্ত্রাসের পক্ষে অবস্থান নেয়ার শামিল। আমরা প্রশ্ন হলো- আওয়ামী লীগ ফিরে এসে আবার মানুষ খুন করলে কি আপনারা তার দায় বহন করবেন?
কেন আমার এই প্রশ্ন?
প্রথমত আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয় এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এটা বোঝার জন্য আমরা প্রথম দেখবো সন্ত্রাসী সংগঠন এর বৈশিষ্ট্য কি কি?
সন্ত্রাসী সংগঠনের বৈশিষ্ট্য (সংক্ষেপে পুনরাবৃত্তি)
- রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সহিংসতা ব্যবহার করা
- ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে জনমত নিয়ন্ত্রণ
- নিরীহ নাগরিক বা ভিন্নমত দমন
- অস্ত্রশস্ত্র, বোমা বা অবৈধ শক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ
- গোপন বা ছায়া কাঠামো যেখানে দায়িত্বের জবাবদিহি নেই
- বিদেশি বা অবৈধ অর্থায়ন
- আইনের ঊর্ধ্বে কাজ করার মানসিকতা
- রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা বিভাজনমূলক প্রচার
- নেতার ব্যক্তিপূজাকে কেন্দ্র করে অন্ধ আনুগত্য
- গণতান্ত্রিক কাঠামো বা শান্তিপূর্ণ রাজনীতি প্রত্যাখ্যান
বিশেষ করে ৫টা বৈশিস্ট্য নিয়ে আলোচনা করবো যে ৪টার বিষয়ে অনেকে মনে করে যে, এগুলো আওয়ামীলীগের মধ্যে নেই।
১. রাষ্ট্রবিরোধিতা :
ক) ২০০৯ সালে ভারতীয় ১২ কিলারকে ভাড়া করে বিডিআর বিদ্রোহের নাটক করে নিজ দেশের ৫৭ জন সেনা অফিসার হত্যা করা রাষ্ট্রবিরোধিতা নয়?
খ) বিরোধী দল দমনের নামে নিজের দেশের মানুষকে পাশের দেশে নিয়ে গুম ও খুন করা রাষ্ট্রদোহিতা নয়?
গ) বিগত ১ বছর ধরে দলীয় নেতাকর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা করা রাষ্ট্রদোহিতা নয়?
ঘ) লাইভে এসে সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহে উস্কানী দেয়া রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়?
ঙ) দেশের সকল বিরোধী পক্ষের উপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ১৭ বছরে দল ও পুলিশকে দিয়ে ৫ হাজার মানুষ হত্যা। সেনাবাহিনীকে দলীয় ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহার করা এবং সেনাসদরকে ব্যবহার করে ১৮শ মানুষকে গুম করা তাদের মধ্যে বেশীরভাগ মানুষকে হত্যা করাও মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়?
- ধর্মীয় উগ্রতা :
ক) ধর্মের নামে উগ্রতা দেখানো শুধু ধর্মীয় উগ্রতা। ধর্মের বিরোধী উগ্রতা ধর্মীয় উগ্রতা নয়।
খ) একই দিনে রাতের বেলায় লাইট নিভিয়ে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠির ৩শ এর বেশী নিরস্ত্র নিরীহ মানুষকে হত্যা করে লাশ গুম করা ধর্মীয় উগ্রতা নয়?
গ) ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে বা ধর্মীয় দল হওয়ার কারণে ১৫ বছর ধরে একটি ধর্মীয় দলের ১০ লাখ মানুষকে জেলবন্দী করা ২ হাজার মানুষকে হত্যা করা ৫শ মানুষকে গুম করাও কি ধর্মীয় উগ্রতা নয়।
3.গণতন্ত্র-বিরোধিতা :
ক) ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় এসে সব দল ও গণতন্ত্র নিষিদ্ধ করে এক দলীয় শাসন কায়েম গণতন্ত্র-বিরোধিতা নয়?
খ) ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে পর পর ৩ বার মানুষকে ভোট দিতে না গিয়ে নিজেরা নিজেরা সিল মেরে ভোটে জেতাও বুঝি গণতন্ত্র বিরোধীতা নয়।
গ) মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে বাস্তবে ভিন্নমতের কারণে হাজার মানুষকে হত্যাও গুম করাও গণতন্ত্র বিরোধীতা না হয়। তাহলে আর কি বলার আছে।
- গোপনীয় সংগঠন :
সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে বিগত ২৪ অক্টোবর থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার পর গোপন কাঠামো বজায় রেখে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ, মিছিল, মিটিং, খুন ও অপহরণ চালানোর পরও কি তারা সন্ত্রাসী সংগঠন হবে না? কে এটা বলতে চায়?
- গণতান্ত্রিক কাঠামো বা শান্তিপূর্ণ রাজনীতি প্রত্যাখ্যান
নিষিদ্ধ ঘোষনার পরে দলকে পূণগঠন না করে এবং আদালতের কাছে না গিয়ে। দলের পূর্বে গঠিত কমিটি যেগুলো কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরী হয়নি। বরং এবং সাইকোপ্যাথ স্বৈরাচারের মনখুশিমতো তৈরী করা হয়েছে। এরপরও কি একে স্বাভাবিক রাজনৈতিক সংগঠন বলা যায়?
বাস্তবতা হচ্ছে — আমরা যে সমাজে বাস করি, সেখানে যা “দেখি”, যা “বাঁচি”, আর যা “বলা হয়” — এই তিন জিনিস এক নয়।
অনেক সময় ক্ষমতা, প্রচারযন্ত্র (মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া, প্রপাগান্ডা) ও রাজনৈতিক প্রভাব বাস্তবতাকে এমনভাবে ঘুরিয়ে দেয় যে সাধারণ মানুষ চোখে দেখেও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।
যার মানে হচ্ছে —
যদি বাস্তব অভিজ্ঞতা, চোখে দেখা ঘটনা ও জনগণের অনুভূতি উপেক্ষা করে শুধু তথাকথিত আন্তর্জাতিক সংস্থা বা সরকারি রিপোর্টের ওপর নির্ভর করা হয়, তাহলে সেটি জনগণকে বিভ্রান্ত করে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিগত ৩০ বছর ধরে ১টা জিনিস দেখেছি। আওয়ামী লীগ যা করে তার ১০% মিডিয়াতে আসে না। আন্তজাতিক মিডিয়াতে তো আরো আসে না।
আর অন্যদল যা করে তা ১০ গুন বেশী করে প্রচার করা হয়। খোদ লীগ আমলে সাংবাদিকদের নানা আর্থিক সুবিধা দিয়ে এটা করা হতো আর এজন্য একজন সাংবাদিকও ৩শ কোটি টাকার মালিক হয়। খোদ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ফোন কল ফাঁস হয়েছে যেখানে তিনি একজন সিনিয়র মন্ত্রীকে বলছেন সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে কিনে নেয়ার জন্য আর এটাই হলো সে রহস্য।
ইতিহাস জুড়ে দেখা যায়, প্রায় সব দমনমূলক সরকারই প্রথমে নিজেদের কার্যকলাপকে “জাতীয় নিরাপত্তা”, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা”, বা “উন্নয়ন” এর নামে ঢেকে রেখেছে।
কিন্তু জনগণ যেটা বাস্তবে দেখে— হত্যা, গুম, ভয়, অন্যায়ের প্রতিবাদে দমন— সেটাই আসল সত্যের প্রতিফলন।
অর্থাৎ, “যা রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারিত হয় তা সবসময় সত্য নয়;
কিন্তু জনগণের অভিজ্ঞতা সবসময় মিথ্যা হয় না।”
প্রশ্ন:
এখন কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি সন্ত্রাসী, দেশদ্রোহী ও মানবতাবিরোধী সংগঠনের সকল বৈশিষ্ট্য থাকার পরও কেউ যদি তাদের পক্ষে অবস্থান নেয়। তাহলে বাংলাদেশের জনগন কি বুঝবে?
১) সে সংস্থাটি কোনোভাবে উক্ত রাজনৈতিক তথা সন্ত্রাসী সংগঠন দ্বারা প্রভাবিত বা বাহাসড হয়েছে। বা কোনো তৃতীয় লবিস্ট দ্বারা তাদেরকে কনভিন্স করা হয়েছে?
২) সংস্থাগুলো কোনো কারণে বাংলাদেশের মানুষের উপর নাখোশ রয়েছে। তারা কৌশলে অন্য একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বাংলাদেশের মানুষের উপরে ছাপিয়ে দিতে চায়।
৩) বাংলাদেশের ক্ষতি করার বা বাংলাদেশীদের ধ্বংস করার কোনো নিজস্ব এজেন্ডা এই সংস্থাগুলোর আছে অথবা তারা অন্যকারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব নিয়েছে?
আমি জানি না কোনটা সত্য?
আমি শুধু জানতে চাই আওয়ামী লীগ ফিরে এসে যদি
মানুষ হত্যা, খুন, গুম ও অর্থ লুট করে আপনারা সে দায় নিবেন কিনা?

