শিক্ষার উদ্দেশ্য
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
পরীক্ষার তারিখ পেছানোর জন্য ছাত্ররা প্রিন্সিপালকে ধরেছে।
ছাত্রদের আব্দার শুনে তিনি রেগে গেলেন। কারণ হিসেবে তিনি বলতে চাইলেন, ‘এখন আর তারিখ পিছানো যাবে না। প্রশ্ন পত্র ছাপাখানায় চলে গেছে। সূতরাং যথাসময়ে পরীক্ষা হবে। বাড়ী গিয়ে সবাই পড়ায় মন দাও।
ছাত্ররা পড়িমরি করে প্রশ্ন করল, ‘কোন প্রেসে স্যার’? সেটা বলে দিন, তাহলে আর পরীক্ষার তারিখ পেছাতে হবে না।
একটা কৌতুক হলেও এখানে বাস্তবতার ব্যঙ্গ আছে। একটা আন্দোলন আগাগোড়া বদলে যাচ্ছিল কেবল পরীক্ষার প্রশ্নসূত্রের কারণে। আমরাতো অনেক দিন ধরে কেবল পরীক্ষায় পাস করার জন্য পড়ছি। এখনতো সেটা এসে দাড়িয়েছে ¯্রফে একটা কাগজের উপর। আমরা আদর করে যার নাম দিয়েছি সার্টিফিকেট।
শিক্ষার প্রধান তিনটি উদ্দেশ্য
আমরা দেখি, শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে একদল এক কথা বলে। হয়তো সবার কথাই ঠিক মানে শিক্ষা একদিকে আমাদের মনের চক্ষু উন্মোচন করে অন্যদিকে জীবিকার জন্য তৈরী হতে বলে এবং জ্ঞান, অক্ষর ও তথ্য শিখায়। শিক্ষায় আমরা তিনটি উদ্দেশ্যের সমন্বয় করতে চাই। তাহলে শিক্ষা পরিপূর্ন ও যথার্থ হবে। সে শিক্ষা থেকে তৈরী হবেনা বেকারত্ব কিংবা হতাশা।
জ্ঞান বলতে আমরা তথ্য ও পদ্ধতির কথা বলছি। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ও পরিচালনার জন্য জ্ঞান ও পদ্ধতি জানা চাই। এ জ্ঞানটা পাঠ্যপুস্তকে যা আছে তার নির্যাসতো আমরা নেব। এএইকি সেটা ¯্রফে অক্ষরজ্ঞান হলেও। এর বাইরে জীবন থেকে, পরিবেশ ও সমাজ থেকে রয়েছে আমাদের শেখার অনেক কিছু। স্কুলে পরীক্ষাপাসের জন্য হয়তো ১০টি বই। জীবনের পরীক্ষা পাসের জন্য জীবনের প্রতিটি ঘটনায় এক একটা সিলেবাস বা লেসন। সেযটা ভালো কিংবা খারাপ। যাই হোকনো কেন। এটা মনের এবং মানবিক গুনাবলীর উন্নয়ন। সামাজিক, মানসিক ও আচরণগত এ উন্নয়ন সমাজে আমাদের মর্যাদার সাথে অধিষ্ঠিত করবে। এবং আমরা যখন সিদ্ধান্ত সেব তখন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
শুধু গ্রœন্থগত বিদ্যা নয়। আমাদের পারষ্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মানের মাধ্যমে আমরা এএইকিছু অর্জন করি। যা মানষি হিসেবে আমাদের গৌরব বাড়িয়ে দেয়। অবশ্যই বেঁচে থাকার জন্য চাই খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। এর প্রতিটি জিনিস এখনো অর্থের বিনিময়ে কিনতে হয়। আর সেজন্য অর্থসংকুলান করতে হয়। আর অর্থ সংকুলান করার জন্যও জানতে হয় কিছু তথ্য পদ্ধতি সেটাও যেন আমরা এখন থেকে শিখি
পঠিতব্য পাঠ্যপুস্তক। জীবনমুখি ও আত্ম-উন্নয়নমূলক বই। কোনো ওয়ার্কশপ ও সেএিার অংশগ্রহণ।
দৈনিক পত্রিকা ম্যাগাজিক খবর, দেশ বিদেশের তথ্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান আর ভূগোলের জ্ঞান। ভ্রমণ হতে পারে জ্ঞান অর্জণকলার অংশ। ধর্ম ও ধর্মীয় জ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতি|
সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান। সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ। অন্যের সমসাকে বুঝতে পারে। সঠিক সময়ে দেশ জাতি সমাজ ও মানুষের পাশে দাড়ানো। অবশ্যই একটা হার্ড স্কিল বা প্রত্যক্ষ দক্ষতা যেমনন আইটি বা যেকোনো একটা কাজ শিখা এবং একটি সফট স্কিল যা সে কাজটাকে সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে। যেমনন নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।
প্রতিফল জ্ঞান ও ধারণা উন্নত হবে। তথ্য থাকার কারণে অন্ধকারে ঢিল মারতে হবে না। কেতাবী জ্ঞান অন্যান্য জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করবে। ভালোমানুষ হতে সাহায্য করবে। নিজের জন্য পরিবারের জন্য এবং সমাজ ও দেশের জন্য। একটি আর্থসামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টিত জীবন দেবে। পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তেলার প্রয়াস দেবে
তাহলে আমাদের শিক্ষার যে উদ্দেশ্য সেটা হাসিল করার জন্য সেভাবে শিক্ষাকে প্রয়োগ করা দরকার সেভাবে হচ্ছে না। হয়তো কোনো একদিন সব বদলে যাবে। এই সমস্যাগুলো আর থাকবেনা। ততদিন পর্যন্ত আমরা পাঠ্যপুস্তক তথা সিলেবাসের বাইরে নিজেকে কিভাবে তৈরী করবে?

