Malta
Malta

মাল্টার ভিসা পাওয়ার উপায় ও ওয়ার্ক পারমিট

মাল্টার ভিসা পাওয়ার উপায় ও ওয়ার্ক পারমিট

বাংলাদেশী হিসেবে মাল্টায় যাওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো ওয়ার্ক পারমিট (Work Permit)। প্রক্রিয়াটি মূলত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়:

  • চাকরি খোঁজা: প্রথমে আপনাকে মাল্টার কোনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির অফার বা ‘Job Offer’ পেতে হবে। (LinkedIn বা Jobsplus এর মতো সাইটগুলোতে চেষ্টা করতে পারেন)।

  • সিঙ্গেল পারমিট আবেদন: নিয়োগকর্তা আপনার পক্ষ থেকে মাল্টার সরকারি সংস্থা ‘Identità’-তে সিঙ্গেল পারমিটের আবেদন করবেন।

  • এপ্রুভাল লেটার: আবেদন গ্রহণ হলে আপনি একটি ‘Approval Letter’ পাবেন।

  • ভিসা স্ট্যাম্পিং: এই এপ্রুভাল লেটার নিয়ে আপনাকে বাংলাদেশে অবস্থিত মাল্টার কনস্যুলেট বা VFS Global-এর মাধ্যমে ভিসার আবেদন করতে হবে।

 কাজের চাহিদা

মাল্টায় বর্তমানে কিছু নির্দিষ্ট খাতে প্রচুর কর্মীর অভাব রয়েছে:

  • কনস্ট্রাকশন: ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, স্টিল ফিক্সার, এবং সাধারণ শ্রমিক।

  • হসপিটালিটি: শেফ, ওয়েটার/ওয়েট্রেস, এবং হোটেল ক্লিনার।

  • হেলথকেয়ার: নার্স এবং কেয়ারগিভার (বয়স্কদের দেখাশোনা)।

  • আইটি ও ড্রাইভিং: সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং লরি/ট্যাক্সি ড্রাইভার।

ভিসা পাওয়ার শর্ত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র

  • পাসপোর্ট: ন্যূনতম ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে।

  • চাকরির চুক্তি: মাল্টার কোম্পানি থেকে ইস্যুকৃত চুক্তিপত্র।

  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স: বাংলাদেশ থেকে ইস্যুকৃত ফ্রেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স।

  • বীমা: ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স (কমপক্ষে ৩০,০০০ ইউরো কভারেজ)।

  • আবাসন: মাল্টায় কোথায় থাকবেন তার প্রমাণপত্র।

খরচ, বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা

বিষয় বিবরণ
সরকারি ফি সিঙ্গেল পারমিট ফি প্রায় ২৮০ ইউরো; ভিসা ফি ৯০ ইউরো (প্রায় ১২,৫০০ টাকা)।
এজেন্সি খরচ এজেন্সির মাধ্যমে গেলে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে (সতর্ক থাকা প্রয়োজন)।
বয়স সীমা সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
ইংরেজি ভাষা আইইএলটিএস (IELTS) বাধ্যতামূলক নয়, তবে ইংরেজি জানা থাকলে ইন্টারভিউ ও কাজে সুবিধা হয়।

 জীবনযাত্রার ব্যয় ও সময়সীমা

  • লাইফস্টাইল: মাল্টার আবহাওয়া চমৎকার এবং জীবনযাত্রা বেশ উন্নত। তবে বাসা ভাড়া কিছুটা বেশি।

  • মাসিক খরচ: একা থাকলে থাকা-খাওয়াসহ মাসে প্রায় ৭০০–১০০০ ইউরো খরচ হতে পারে। শেয়ারিং রুমে থাকলে খরচ কম হয়।

  • ভিসা পেতে সময়: ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু হতে ২-৪ মাস এবং ভিসা স্ট্যাম্পিং হতে আরও ১-২ মাস সময় লাগতে পারে।

  • ভিসার মেয়াদ: সাধারণত ১ বছরের ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়, যা প্রতি বছর নবায়নযোগ্য।

পিআর (PR) ও নাগরিকত্ব

  • স্থায়ী বসবাস (PR): আপনি যদি টানা ৫ বছর মাল্টায় বৈধভাবে বসবাস করেন এবং নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করেন, তবে আপনি স্থায়ী বসবাসের (Permanent Residency) জন্য আবেদন করতে পারেন।

  • নাগরিকত্ব: সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছর বসবাসের পর এবং ভাষার দক্ষতা অর্জন করলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। বর্তমানে ‘ম্যারিট’ বা বিশেষ অবদানের ভিত্তিতেও দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার কিছু নিয়ম আছে।

সতর্কতা: মাল্টা যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালের খপ্পরে না পড়ে সঠিক নিয়োগকর্তা বা বিশ্বস্ত এজেন্সির মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

 মাসিক ও বাৎসরিক আয়

মাল্টায় কেয়ারগিভারদের বেতন সাধারণত তাদের অভিজ্ঞতা এবং কর্মঘণ্টার ওপর নির্ভর করে।

  • গড় মাসিক বেতন: সাধারণত ১,০০০ থেকে ১,৩০০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১,৪০,০০০ থেকে ১,৮০,০০০ টাকা)।

  • বাৎসরিক বেতন: বছরে প্রায় ১৪,০০০ থেকে ২১,০০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।

  • ঘণ্টাভিত্তিক মজুরি: গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ ইউরো প্রদান করা হয়।

 বেতন বৃদ্ধির সুযোগ ও ওভারটাইম

  • অভিজ্ঞতা: এন্ট্রি লেভেলে বেতন কিছুটা কম থাকলেও ২-৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে বেতন ১,৫০০ ইউরো বা তার বেশি হতে পারে।

  • ওভারটাইম: অনেক কেয়ার হোম বা ব্যক্তিগত কেয়ার সার্ভিসে ওভারটাইম করার সুযোগ থাকে। ছুটির দিনে বা রাতের শিফটে কাজ করলে অতিরিক্ত বোনাস বা উচ্চহারে মজুরি পাওয়া যায়।

  • বোনাস: বছরে সাধারণত কিছু সরকারি বোনাস (Statutory Bonus) এবং পারফরম্যান্স বোনাস দেওয়া হয়।

কেয়ারগিভার হওয়ার শর্তাবলী (২০২৬ আপডেট)

২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী মাল্টায় কেয়ারগিভার হিসেবে কাজ করতে হলে নিচের বিষয়গুলো প্রয়োজন:

  • স্কিল কার্ড (Skills Card): মাল্টা সরকার এখন বিদেশি কর্মীদের জন্য ‘Skills Card’ বাধ্যতামূলক করেছে। এটি পেতে আপনাকে একটি ছোট ট্রেনিং এবং অ্যাসেসমেন্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম এইচএসসি (HSC) পাস হতে হয়। নার্সিং বা প্যারামেডিক্যাল কোর্স করা থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়।

  • ইংরেজি দক্ষতা: আইইএলটিএস (IELTS) সব সময় বাধ্যতামূলক না হলেও, মৌলিক ইংরেজি কথা বলা এবং বোঝার ক্ষমতা অবশ্যই থাকতে হবে।

  • প্রশিক্ষণ: মাল্টায় গিয়ে বা দেশ থেকে স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কেয়ারগিভিং কোর্স (যেমন: QQI Level বা সমমান) করা থাকলে কাজ পাওয়া সহজ হয়।

 প্রধান নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান

মাল্টায় কেয়ারগিভার হিসেবে আপনি মূলত তিন ধরনের জায়গায় কাজ পেতে পারেন: ১. সরকারি হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম: এখানে সুযোগ সুবিধা বেশি। ২. প্রাইভেট কেয়ার হোম: যেমন- CareMalta, Casa Antonia ইত্যাদি। ৩. হোম কেয়ার সার্ভিস: সরাসরি কোনো পরিবারের বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তির দেখাশোনা করা।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও সঞ্চয়

মাল্টায় একজন কেয়ারগিভারের থাকা-খাওয়ার খরচ গড়ে মাসে ৫০০ থেকে ৭০০ ইউরো হতে পারে (যদি শেয়ারিং রুমে থাকেন)। সব খরচ বাদ দিয়ে একজন কেয়ারগিভার মাসে প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা অনায়াসেই সঞ্চয় করতে পারেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply