প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমন্বিত উন্নয়ন, সুরক্ষা ও সংযোগ কর্মসূচি
বাংলাদেশের প্রবাসী জনগোষ্ঠী (ডায়াসপোরা) দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক সম্পর্ক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে তাদের জন্য সমন্বিত নীতি, সেবা ও সুরক্ষা কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এই প্রস্তাবনার লক্ষ্য হলো—প্রবাসীদের জন্য একটি আধুনিক, টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
প্রস্তাবনার মূল ধারণা (Key Components)
১. ডায়াসপোরা নীতি প্রণয়ন ও হালনাগাদ
- একটি সমন্বিত “জাতীয় ডায়াসপোরা পলিসি” প্রণয়ন
- নিয়মিত পর্যালোচনা ও আপডেট
- প্রবাসীদের অধিকার, বিনিয়োগ, সুরক্ষা ও পুনর্বাসন অন্তর্ভুক্ত
২. বিদেশে “বাংলাদেশ হাউজ” / সেন্টার অব এক্সিলেন্স
- গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বাংলাদেশ হাউজ প্রতিষ্ঠা
- সেবা: আইনি সহায়তা, ব্যবসা পরামর্শ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
- প্রবাসীদের মিলনকেন্দ্র ও নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম
৩. প্রবাসীদের জন্য অনলাইন সেবা প্ল্যাটফর্ম
- একক ডিজিটাল পোর্টাল (One-stop service)
- সেবা: পাসপোর্ট, ভিসা, অভিযোগ, আইনি সহায়তা, চাকরি তথ্য
- মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ভিত্তিক সেবা
৪. “স্মার্ট রেমিট্যান্স ইনভেস্টমেন্ট স্কিম”
- রেমিট্যান্সের একটি অংশ বিনিয়োগে রূপান্তর
- সরকারি বন্ড, SME, স্টার্টআপে বিনিয়োগ সুযোগ
- কর সুবিধা ও প্রণোদনা
৫. বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ
- আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য পৃথক লাউঞ্জ
- দ্রুত ইমিগ্রেশন, বিশ্রাম ও সহায়তা ডেস্ক
- প্রবীণ ও নারী প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
৬. দেশভিত্তিক আইনি সেবা
- বিভিন্ন দেশে স্থানীয় আইন অনুযায়ী আইনি সহায়তা সেল
- দূতাবাসের অধীনে আইনজীবী প্যানেল
- শ্রম, বেতন, ভিসা সমস্যা সমাধান
৭. স্বল্প খরচে গেস্টহাউজ (দূতাবাস ব্যবস্থাপনায়)
- জরুরি অবস্থায় প্রবাসীদের অস্থায়ী আবাসন
- চিকিৎসা, চাকরি পরিবর্তন বা সংকটকালে সহায়তা
- স্বল্পমূল্যে নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা
৮. মৃত প্রবাসীদের লাশ দেশে আনার স্কিম
- সরকারিভাবে “Repatriation Support Scheme” চালু
- নির্দিষ্ট তহবিল থেকে সম্পূর্ণ/আংশিক খরচ বহন
- দ্রুত ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত
৯. বিদেশ ফেরত বেকারদের জন্য কার্ড ও ভাতা
- “প্রবাসী পুনর্বাসন কার্ড” চালু
- নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাসিক ভাতা
- দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনঃকর্মসংস্থান সহায়তা
১০. প্রবাসী সন্তানদের জন্য বাংলা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রকল্প
- অনলাইন বাংলা শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম
- দূতাবাসভিত্তিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
- ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংযোগ কার্যক্রম
৩. প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা
প্রয়োজনীয়তা:
- প্রবাসীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা
- বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি
- প্রবাসীদের সাথে দেশের স্থায়ী সংযোগ বজায় রাখা
উপকারিতা:
- অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক মুদ্রা বৃদ্ধি
- আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি
- প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন
৪. কাংখিত ফলাফল
- একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত প্রবাসী নেটওয়ার্ক
- রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি
- প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ
- দেশ ও প্রবাসীদের মধ্যে টেকসই সম্পর্ক
৫. বাস্তবায়ন কৌশল
- ধাপে ধাপে (Phase-wise) বাস্তবায়ন
- পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেল
- ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার
- প্রবাসী সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা
৬. বাস্তবায়নকারী সংস্থা
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটসমূহ
- বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
- আইসিটি বিভাগ
৭. বিবিধ বিষয়
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
- নিয়মিত মনিটরিং ও মূল্যায়ন
- প্রবাসীদের মতামত গ্রহণের ব্যবস্থা
- আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা
এই সমন্বিত প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য একটি আধুনিক, নিরাপদ ও সুযোগসমৃদ্ধ পরিবেশ তৈরি হবে। একই সাথে দেশের অর্থনীতি, কূটনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
এই প্রস্তাবনা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জাহাঙ্গীর আলম শোভনের ৮১ অধ্যায়ের সুপারিশমালার ‘‘প্রবাসী কল্যাণ অধ্যায়ের একটি অংশ বিশেষ বিস্তারিত প্রস্তাবনা পাওয়া যাবে এই লিংকে : https://drive.google.com/drive/u/0/folders/1Z0-U4A_pZqGihJmhWk-6n2cdTkDrCyhI

