ব্রাজিল ভিসা গাইড: সহজ ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া
ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ। সমুদ্রতট, আমাজন জঙ্গল এবং রঙিন কার্নিভালের জন্য দেশটি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়। আপনি যদি ব্রাজিল ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে আগে থেকেই ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা জরুরি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত না থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। নিচে ধাপে ধাপে ব্রাজিল ভিসা প্রক্রিয়ার গাইড দেওয়া হলো।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ব্রাজিল ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে কিছু নথি অবশ্যই প্রস্তুত রাখতে হবে।
-
পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে। অন্তত দুইটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
-
পাসপোর্ট ডেটা পৃষ্ঠার কপি
-
ছবি: ৩x৪ সেমি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা। মুখ ও কাঁধ কেন্দ্রে থাকতে হবে। চোখ সরাসরি ক্যামেরার দিকে থাকতে হবে। প্রতিফলন বা ঝলক থাকা যাবে না। মাথার কাপড় শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে পরা যাবে। মুখ আড়াল করা যাবে না। চশমায় প্রতিফলন থাকা চলবে না। গাঢ় রঙের চশমা বা ননপ্রেসক্রিপশন চশমা অনুমোদিত নয়। শিশুদের ছবিতে খেলনা বা অন্য কারও হাত দেখা যাবে না।
-
রিটার্ন টিকিট
-
স্পন্সরের চিঠি (যদি থাকে): কোম্পানি স্পন্সর করলে লেটারহেডে পদবি, বেতন ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য উল্লেখ থাকতে হবে।
-
ভ্রমণ বা স্বাস্থ্য বীমা: পুরো ভ্রমণকালীন সময়ের জন্য কার্যকর থাকতে হবে।
-
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: গত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ব্যাংকের সিলসহ জমা দিতে হবে।
-
হোটেল বুকিং নিশ্চিতকরণ: হোটেলের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে। যদি পরিচিত কেউ আতিথ্য দেয়, তবে নোটারি দ্বারা সত্যায়িত আমন্ত্রণপত্র জমা দিতে হবে।
-
অনলাইন আবেদন শেষে প্রাপ্ত রসিদ: ছবি গ্লু দিয়ে লাগাতে হবে, স্ট্যাপল করা যাবে না। নাবালকদের রসিদে বাবা-মায়ের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
নাবালক আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত নথি
-
মূল জন্ম সনদ বা সত্যায়িত কপি।
-
সম্মতিপত্র: নাবালক একা, একজন অভিভাবক বা তৃতীয় কারও সাথে ভ্রমণ করলে দুই অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবকের নোটারি স্বাক্ষরযুক্ত সম্মতিপত্র প্রয়োজন। আইনগত অভিভাবকদের অভিভাবকত্বের প্রমাণও দিতে হবে।
-
বাবা-মায়ের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ।
আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপ
১. প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করুন।
২. ব্রাজিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে ভিসা ফর্ম পূরণ করুন। ফর্ম পূরণের পর আবেদন নম্বর ও রসিদ প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করুন।
৩. ব্রাজিলিয়ান কনস্যুলেট বা দূতাবাসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে বুকিং সম্ভব নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।
৪. কনস্যুলেট বা দূতাবাসে আবেদন ফর্ম, রসিদ ও সব নথি জমা দিন।
৫. ভিসা ফি পরিশোধ করুন। সব নথি যাচাই শেষে আবেদনকারীদের ডেলিভারি কনফার্মেশন দেওয়া হবে।
ভিসা ফি
ব্রাজিল ভিসা ফি পারস্পরিক নীতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ ব্রাজিলের নাগরিকরা যে দেশে ভিসার জন্য যা পরিশোধ করেন, সেই দেশের নাগরিক ব্রাজিল ভিসার জন্য একই পরিমাণ ফি পরিশোধ করবেন। ফি ফেরতযোগ্য নয়।
আবেদন কোথায় জমা দেবেন
আবেদনকারীরা ব্রাজিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করে নির্ধারিত কনস্যুলেট বা দূতাবাসে নথি জমা দিতে পারবেন। কিছু দেশের নাগরিকদের অবশ্যই সরাসরি কনস্যুলেটে গিয়ে আবেদন করতে হয়।
প্রসেসিং সময়
সর্বনিম্ন ৫ কর্মদিবসে ভিসা পাওয়া যেতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে।
অনুমোদিত ভিসা
ভিসা থাকলেও ব্রাজিলে প্রবেশের চূড়ান্ত অনুমতি দেয় ফেডারেল পুলিশ। তাই ভিসার তথ্য ও পাসপোর্টের তথ্য অবশ্যই মিলিয়ে দেখুন।
বাতিল ভিসা
ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে পুনরায় আবেদন করা যায়। তবে বাতিলের কারণ সমাধান হয়েছে তা প্রমাণ করতে হবে।
ভ্রমণের সতর্কতা
-
ভ্রমণের আগে স্বাস্থ্যবীমা রাখুন।
-
শহরগুলোতে ভিড়যুক্ত স্থানে সতর্ক থাকুন।
-
কাগজপত্রের কপি আলাদা করে সংরক্ষণ করুন।
-
স্থানীয় নিয়ম-কানুন মেনে চলুন।

