আইফেল টাওয়ার, ফ্রান্স
আইফেল টাওয়ার, ফ্রান্স

ফ্রান্স ভ্রমণের জন্য শেঙ্গেন ভিসা কিভাবে পাবেন ?

ফ্রান্স শেঙ্গেন ভিসা গাইড: আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথি

ফ্রান্স ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর ও ভ্রমণ-বান্ধব দেশগুলোর একটি। আইফেল টাওয়ার, ল্যুভর মিউজিয়াম বা প্রোভেন্সের গ্রামগুলো বিশ্বজুড়ে ভ্রমণকারীদের কাছে স্বপ্নের গন্তব্য। ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা বা পর্যটন—যেকোনো কারণে ফ্রান্স ভ্রমণে হলে আগে থেকে শেঙ্গেন ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। ভিসার জন্য সঠিক নথি ও ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা থাকলে ঝামেলা এড়ানো যায়। নিচে সহজ ভাষায় ফ্রান্স শেঙ্গেন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া দেওয়া হলো।

প্রয়োজনীয় নথি

ফ্রান্স শেঙ্গেন ভিসার জন্য কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্র অবশ্যই জমা দিতে হয়।

  • পাসপোর্ট: ১০ বছরের বেশি পুরোনো নয়, অন্তত দুইটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কমপক্ষে ৩ মাস বৈধ থাকতে হবে।

  • আগের পাসপোর্ট (যদি থাকে)

  • ছবি: সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে, ৩.৫x৪.৫ সেমি, গত ৬ মাসের মধ্যে তোলা। মুখমণ্ডল স্পষ্ট ও সামনে তাকানো থাকতে হবে।

  • পূর্ণাঙ্গ আবেদন ফর্ম

  • বায়োমেট্রিক তথ্য: ফিঙ্গারপ্রিন্ট জমা দিতে হবে।

  • ভিসা ফি: ৮০ ইউরো (৬ বছরের নিচে শিশু ও কিছু বিশেষ আবেদনকারী ফি থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন)।

  • ভ্রমণ পরিকল্পনা: যাত্রার তারিখ, ফেরার প্রমাণ বা অন্য দেশে যাওয়ার টিকিট।

  • ভ্রমণের কারণ: যেমন পর্যটন, ব্যবসা বা চিকিৎসা।

  • ফ্লাইট বুকিং

  • আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: শেষ তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সম্পত্তি বা অন্যান্য আর্থিক নথি।

  • আবাসনের প্রমাণ: হোটেল বুকিং কনফার্মেশন বা হোস্টের তথ্য।

  • ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা: শেঙ্গেন অঞ্চলে কার্যকর থাকতে হবে। ন্যূনতম ৩০,০০০ ইউরো কভারেজ থাকতে হবে। বীমার শর্তাবলী স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

  • কর্মসংস্থান সম্পর্কিত চিঠি: নিয়োগকর্তার নাম, ঠিকানা, চাকরির ধরন, শুরু তারিখ, বেতন, ভ্রমণের কারণ ও ছুটির সময় উল্লেখ থাকতে হবে।

  • পাসপোর্ট কপি

  • আগের শেঙ্গেন ভিসার কপি (যদি থাকে)

  • রেসিডেন্স পারমিট (যদি প্রযোজ্য হয়)

নাবালক আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত নথি

  • জন্মসনদের কপি

  • দত্তক হলে দত্তক গ্রহণের নথি

  • বাবা-মা ডিভোর্স হলে ডিভোর্স পেপার

  • বাবা-মা মৃত হলে মৃত্যু সনদ

  • উভয় অভিভাবক বা অভিভাবকের সম্মতিপত্র

  • বাবা-মা বা অভিভাবকের পাসপোর্ট কপি

আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপ

১. সব নথি প্রস্তুত করুন।
২. অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন। নতুন হলে রেজিস্ট্রেশন করুন, আগে রেজিস্ট্রেশন থাকলে লগইন করুন।
৩. ফর্ম পূরণ শেষে রসিদ প্রিন্ট করে নিন।
৪. ফ্রান্স কনস্যুলেট বা ভিসা সেন্টারে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন (প্রয়োজনে)।
৫. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন ফর্ম ও নথি জমা দিন।
৬. আবেদন জমা দেওয়ার সময় ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হতে পারে। ১২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।
৭. ভিসা ফি পরিশোধ করুন।

কখন আবেদন করবেন

ভ্রমণের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে আবেদন করতে হবে। ভ্রমণের তারিখের ৬ মাসের বেশি আগে আবেদন করা যাবে না।

কোথায় আবেদন করবেন

নিজ দেশের ফ্রান্স কনস্যুলেট বা ভিসা সেন্টারে আবেদন জমা দিতে হবে। যেখানে ফ্রান্স কনস্যুলেট নেই, সেখানে অন্য কোনো শেঙ্গেন রাষ্ট্র ফ্রান্সের পক্ষ থেকে আবেদন গ্রহণ করতে পারে।

অনুমোদিত ভিসা

সাধারণত ১৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভিসা পাওয়ার পর তথ্য সঠিক আছে কিনা যাচাই করতে হবে। তবে মনে রাখবেন, ভিসা থাকলেই প্রবেশ নিশ্চিত নয়। ফ্রান্সে পৌঁছালে অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে।

প্রত্যাখ্যাত ভিসা

ভিসা বাতিল হলে আবেদনকারী দুই মাসের মধ্যে আপিল করতে পারেন। আপিল অবশ্যই ফরাসি ভাষায় লিখিত ও স্বাক্ষরিত হতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক আদালতে মামলা করা যায়। তবে একটি নির্দিষ্ট আপিল ফি পরিশোধ করতে হবে।

ভ্রমণের সতর্কতা

  • স্বাস্থ্যবীমা সঙ্গে রাখুন।

  • ভিড়পূর্ণ স্থানে সতর্ক থাকুন।

  • প্রয়োজনীয় নথির কপি আলাদা করে রাখুন।

  • স্থানীয় আইন-কানুন মেনে চলুন।

সূত্র: visaindex.com
নোট: অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply