ভিন্নতর ভ্রমণের ভিন্নতর গল্প
২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী থেকে ২৮ মার্চ জাহাঙ্গীর আলম শোভন পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করেছেন তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ১২৭৬ কিলোমিটার। ‘‘দেখব বাংলাদেশ গড়ব বাংলাদেশ’’ ¯েøাগানে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, পাটা বাংলাদেশ চ্যাপ্টার ও ট্যুর ডট কম ডট বিডি এর সহযোগিতায় এই ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। অন্যদের সাথে শোভনের এই ভ্রমণ আলাদা হয়েছে এর বিষয়বস্তু ও সামাজিক মূল্যযোগ হওয়ার কারণে।
সবাই যেখানে হেঁটে যাওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সেখানে শোভন প্রাধান্য দিয়েছেন সামাজিক কাজ। প্রতিদিন বা প্রতিটি জেলায় কোনো না কোনো সামাজিক কাজে অংশ নিয়েছেন। এতেকরে মানুষের সাথে এর একটি সম্পর্ক তৈরী হয়েছে। সে মানুষকেই এই ভ্রমণের বিষয় বানিয়েছে। কত কিলোমিটার কতদিনে ভ্রমণ করেছেন তাকে নয়।
এই বইটিতে যেসব বিষয় উঠে উসেছে সেগুলো কোনো রহস্য উন্মোচন হয়নি।
গতানুগতিক রাস্তার পাশে প্রতিদিনের দেখা বিষয়গুলো তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরেছে।এতে পাঠক নতুন করে বিষয়গুলোকে দেখার অবকাশ পাবে। সাথে ঐতিহাসিক কিছু তথ্য দিয়েছে যা অনেকের কাজে লাগবে। এখানে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তার চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেয়া হয়েছে পরামর্শ আকারে। ছোট ছোট গল্প ঘটনা এসবতো রয়েছে। কৌতুক ও অভিজ্ঞতার বয়ান আছে। ভয়, হাসি, আনন্দ আর নানাবিদ উপাদান বইটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম শোভন বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের পর্যটন খাত নিয়ে ও তরুনদের নিয়ে তার ভাবনা আমাকে বরাবরই অন্রপাণীত করে।
আশাকরি পায়ে হেঁটে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বইটি একটি অমূল্য দলিল হয়ে থাকবে। আর শোভন যেহেতু একজন লেখক তাই তার লেখনিতে পাঠসুখের বিষয় কিংবা পাঠকের মনোরঞ্জন হবে শতভাগ। আমি এর সাফল্য কামনা করছি।
আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল, সভাপতি, বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স এসোসিয়েশন।
ছবি: ২০১৬ সালের ভ্রমণ শুরু করার প্রাক্কালে প্রস্তুতির সময়ে তোলা। যেহেতু এই ছোট বেবিসিটার নিয়ে ভ্রমণ করেছেন। তাই এটা নিয়ে হাটার রিহার্সেল দিচ্ছিলেন ঢাকার নিকুঞ্জ ২ এলাকায়।

