ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দ্য ট্রায়াল অফ দ্য শিকাগো সেভেন

The Trial of the Chicago 7 (দ্য ট্রায়াল অফ দ্য শিকাগো সেভেন)

বাংলা নাম: শিকাগো সেভেনের বিচার
পরিচালক: অ্যারন সোরকিন
ইন্ডাস্ট্রি: হলিউড (যুক্তরাষ্ট্র)
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান: Cross Creek Pictures, DreamWorks Pictures, Amblin Partners
প্রধান অভিনেতারা: সাচা ব্যারন কোহেন (অ্যাবি হফম্যান), এডি রেডমেইন (টম হেইডেন), ইয়াহিয়া আব্দুল-মতিন II (ববি সীল), জোসেফ গর্ডন-লেভিট (রিচার্ড শুল্টজ), মার্ক রাইল্যান্স (উইলিয়াম কুন্সলার), ফ্রাঙ্ক ল্যাঙ্গেলা (বিচারক জুলিয়াস হফম্যান), মাইকেল কিটন (র‍্যামসে ক্লার্ক)

কাহিনী সংক্ষেপ

১৯৬৮ সালের যুক্তরাষ্ট্র, যখন ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে। শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনের সময় যুদ্ধবিরোধী একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হঠাৎ করে সহিংস রূপ নেয়। এর দায় দেওয়া হয় সাতজন রাজনৈতিক কর্মী ও সমাজকর্মীর ওপর, যাদের মধ্যে ছিলেন অ্যাবি হফম্যান, টম হেইডেন ও ববি সীল। সরকারের অভিযোগ, তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সহিংসতা উস্কে দিয়েছেন। কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ার ভেতরেই উন্মোচিত হতে থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য এবং ন্যায়ের নামে বৈপরীত্য।

অভিনয় ও চরিত্র চিত্রায়ণ

সাচা ব্যারন কোহেনের অভিনয় অনবদ্য। অ্যাবি হফম্যান চরিত্রে তিনি শুধু কৌতুক ও বিদ্রুপে নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক দায়বদ্ধতাতেও উজ্জ্বল। এডি রেডমেইনের সংযত কিন্তু দৃঢ় অভিনয় টম হেইডেন চরিত্রকে ভারসাম্য দিয়েছে। মার্ক রাইল্যান্সের আইনজীবী চরিত্রটি প্রচণ্ড মানবিক, যা সমগ্র বিচার ব্যবস্থার অমানবিক কাঠামোর বিপরীতে দাঁড়ায়। বিচারক চরিত্রে ফ্রাঙ্ক ল্যাঙ্গেলার অসহিষ্ণুতা দর্শককে বারবার ক্ষুব্ধ করে তোলে, যা তার অভিনয়ের সার্থকতা।

চিত্রনাট্য, সম্পাদনা ও কারিগরি দিক

সোরকিনের চিত্রনাট্য ধারালো, সংলাপগুলো স্বতঃস্ফূর্ত ও শক্তিশালী, কখনো তা আদালতের ব্যঙ্গাত্মক নাটকীয়তায়, কখনো বা এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত প্রতিবাদের ভাষায়। একটি বহু-চরিত্রনির্ভর গল্পকে এতটা গতি, ভারসাম্য ও আবেগে টেনে নেওয়া সহজ নয়, কিন্তু সম্পাদনার নিখুঁত ছাঁটে তা সম্ভব হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি খুব বেশি চোখে পড়ার মতো না হলেও, রঙ ও ছায়া ব্যবহারে ষাটের দশকের রাজনৈতিক উত্তেজনা ফুটে উঠেছে।

শক্তি ও দুর্বলতা

এর প্রধান শক্তি চিত্রনাট্য ও অভিনয়। খুব জোরালো রাজনৈতিক বার্তা থাকা সত্ত্বেও, চলচ্চিত্রটি বক্তৃতানির্ভর হয়ে ওঠেনি। আদালতের ভেতরকার নাটকীয়তা অনেকটা থ্রিলারের মতো গতি এনেছে। তবে কিছু চরিত্র যেমন—ববি সীল, যিনি একজন কৃষ্ণাঙ্গ নেতা, তাকে হয়তো আরেকটু গভীরভাবে দেখানো যেত। এছাড়া শেষের দিকটা একটু অতিনাটকীয় মনে হতে পারে, যদিও তা আবেগতাড়িত করে।

দর্শক দৃষ্টিকোণ থেকে অভিজ্ঞতা

এটি কেবল একটি রাজনৈতিক নাটক নয়, বরং একজন দর্শক হিসেবে এটি হৃদয়ের গভীরে প্রশ্ন তোলে, ন্যায়বিচার কি কেবল আইনি পদ্ধতি, না কি তারও ঊর্ধ্বে কিছু আছে? আমরা যখন দেখতে পাই, কীভাবে একটি রাষ্ট্র নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনকে ব্যবহার করে, তখন তা শুধুই ইতিহাস নয়, বর্তমানের জন্য সতর্কবার্তাও বটে।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক রিভিউয়ে বলা হয়েছে, “Sorkin has a knack for turning ideological conflict into captivating drama.” সত্যিই তাই, এখানে আদর্শের সংঘাত জীবন্ত হয়ে ওঠে।

জীবনের শিক্ষণীয় দিক

চলচ্চিত্রটি মনে করিয়ে দেয়, প্রতিবাদ বা মতপ্রকাশের অধিকার কোনো উপহার নয়, তা অর্জন করতে হয়। রাষ্ট্র যখন অন্যায়ের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন বিবেকবান নাগরিকের উচিত তার প্রতিবাদে দাঁড়ানো, যদিও সেই পথ কণ্টকাকীর্ণ।

সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানে কেবল কাগজে কলমে দাবি তোলা নয়, বরং বিবেকবান থাকার সাহস রাখা। এই সিনেমা আমাদের সেই সাহসের প্রতিচ্ছবি হতে পারে, সিনেমার পর্দার বাইরেও।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply