তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সবচেয়ে নিরাপদ হতে পারে যে ১২টি দেশ

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সবচেয়ে নিরাপদ হতে পারে যে ১২টি দেশ

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সবচেয়ে নিরাপদ হতে পারে যে ১২ টি দেশ

বিশ্বে যুদ্ধংদেহী পরিবেশ যখন ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, বিশেষত ইসরায়েল-ইরান সংঘর্ষ ও তা নিয়ে পরাশক্তিগুলোর পক্ষ অবলম্বন, তখন স্বাভাবিকভাবেই সামনে চলে এসেছে “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ” শব্দটি। এটি এখন আর শুধু ইতিহাসবিদদের কিংবা সামরিক বিশ্লেষকদের চিন্তার বিষয় নয়—সাধারণ মানুষও উদ্বিগ্ন।

এই আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে: যদি সত্যিই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, তবে কোন কোন দেশ সবচেয়ে নিরাপদ হতে পারে? সামরিক নিরপেক্ষতা, ভূ-রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এখানে তুলে ধরা হলো ১২টি সম্ভাব্য নিরাপদ দেশ—যেগুলো যুদ্ধকালীন সময়েও মানব সভ্যতার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে।

 ১. নিউজিল্যান্ড

বিশ্ব শান্তি সূচকে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম নিউজিল্যান্ড। এর বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অবস্থান, পাহাড়ি গঠন এবং শক্তিশালী কৃষিনির্ভর অর্থনীতি এটিকে একটি ‘নিরপেক্ষ স্বর্গ’ করে তুলেছে। ইতিহাসে দেশটি কোনো বড় সামরিক জোটে জড়ায়নি এবং এখনো বিশ্ব রাজনীতিতে নিরপেক্ষতার রোল মডেল।

 ২. আইসল্যান্ড

ইউরোপের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত আইসল্যান্ডের কোনো সেনাবাহিনী নেই। এটি কখনো বড় কোনো যুদ্ধে অংশ নেয়নি। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় একে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে আক্রমণ করার সম্ভাবনাও কম।

 ৩. সুইজারল্যান্ড

‘‘চিরনিরপেক্ষ’’ এই দেশটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও নিরপেক্ষ ছিল। পর্বতবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরক্ষাযোগ্য এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক বাংকারও রয়েছে সুইজারল্যান্ডে।

 ৪. চিলি

দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘতম দেশ চিলির পূর্ব-পশ্চিমে রয়েছে আন্দিজ পর্বতমালা ও প্রশান্ত মহাসাগর। এই ভৌগোলিক কাঠামো একে বাইরের আক্রমণ থেকে কিছুটা সুরক্ষিত রাখে। তাছাড়া খাদ্য উৎপাদনে দেশটি স্বয়ংসম্পূর্ণ।

 ৫. আর্জেন্টিনা

বিশাল কৃষিভূমি, মিষ্টি পানির আধিক্য এবং কম জনঘনত্ব—এই সবকিছু মিলিয়ে আর্জেন্টিনা একটি নিরাপদ অভিবাসন গন্তব্য হতে পারে। যুদ্ধ-পরবর্তী দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধেও এটি সক্ষম।

 ৬. গ্রিনল্যান্ড

ডেনমার্কের অধীনস্থ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিকভাবে এতটাই দূরবর্তী এবং জনসংখ্যায় এতটাই সীমিত যে, কোনো সামরিক সংঘাতে এর কৌশলগত গুরুত্ব নেই। এ কারণে একে নিরাপদ মনে করা হয়।

 ৭. ফিজি

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র ফিজি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং দূরবর্তী। বিশ্ব শান্তি সূচকে এর অবস্থানও ভালো। তবে এর ক্ষুদ্র আয়তন ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে।

 ৮. জাপান

 প্রযুক্তি-নির্ভর, সংগঠিত, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় কিন্তু বৈজ্ঞানিক মনোভাবসম্পন্ন জনগোষ্ঠী। রয়েছে তাদের  শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি। মানবিক  নিরাপদ নাগরিক জীবন ও শৃঙ্খলা।  দুর্যোগ-প্রবণ (ভূমিকম্প), কিন্তু প্রস্তুতির দিক থেকে বিশ্বের সেরা। খাবারের মান ও অবকাঠামো মানে পৃথিবীর পথ প্রদর্শক জাপান।

৯. উরুগুয়ে 

গ্লোবাল পিস ইনডেক্সে দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ। বড় কোনো সামরিক জোটের সঙ্গে নেই, কূটনৈতিকভাবে ব্যালান্সড অবস্থানে আছে। খাদ্য, জ্বালানি এবং বিশুদ্ধ পানির দিক থেকে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ।  দ্রুত আবাসন ও খাদ্য সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।  ভূমিকম্প, সুনামি, হ্যারিকেন ইত্যাদি থেকে অনেকটা মুক্ত।

 ১০. ভুটান (নতুন সংযোজন)

মূল তালিকায় না থাকলেও আমি ভুটানকে যুক্ত করছি। হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই রাজতন্ত্র খুবই নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ। ছোট দেশ হলেও ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’–এ বিশ্বাসী ভুটান সশস্ত্র সংঘাত থেকে সবসময় দূরে থেকেছে।

১১. ফিনল্যান্ড 

 বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুখী দেশগুলোর অন্যতম।  সীমান্তে রাশিয়া আছে, কিন্তু সামরিক হুমকির তুলনায় কূটনৈতিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি তাকে অনেকটাই নিরাপদ করেছে।  দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করে।  নাগরিকদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও উৎপাদন ও যোগান স্বাভাবিক রাখার জন্য নীতি চেইন বেশ ভাল কাজ করে।

১২. নরওয়ে 

 বিশ্ব শান্তি সূচকে শীর্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম নরওয়ে।  মানবাধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং আইনের শাসনে উন্নত।  NATO সদস্য হলেও আক্রমণাত্মক নয়, বরং শান্তিপূর্ণ কূটনীতি চর্চা করে।  বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ (তেল, গ্যাস, পানি, মাছ)।  কম জনসংখ্যা, চমৎকার জীবনমান এবং নিরাপদ সীমান্ত।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নিরাপদ ১২ দেশ

ক্র. দেশ কারণসমূহ
নিউজিল্যান্ড নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, দূরবর্তী
আইসল্যান্ড সেনাবাহিনী নেই, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ
সুইজারল্যান্ড চিরনিরপেক্ষ, পাহাড়ি প্রতিরক্ষা
আর্জেন্টিনা খাদ্যস্বয়ংসম্পূর্ণ, কম হুমকি
চিলি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা, উন্নত অবকাঠামো
গ্রিনল্যান্ড কম জনসংখ্যা, কৌশলগত গুরুত্ব নেই
ভুটান শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ রাজনীতি
উরুগুয়ে কম অপরাধ, কূটনৈতিক ভারসাম্য
ফিজি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, শান্তিপূর্ণ
১০ ফিনল্যান্ড শান্তি ও নিরাপত্তার মডেল
১১ জাপান প্রযুক্তি, শৃঙ্খলা, মানবিকতা
১২ নরওয়ে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র

বাংলাদেশীদের হয়তো সেসব দেশকে বেছে নিতে পারেন। যেখানে আবহাওয়া, সামাজিকতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও সহজ অভিবাসন নীতি রয়েছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply