TAIWAN-CHINA
TAIWAN-CHINA

তাইওয়ান ভিসা ফি ও খরচের বিস্তারিত তথ্য

তাইওয়ান ভিসা গাইড ফর বাংলাদেশি

তাইওয়ান ভ্রমণ করতে চাইলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে আধুনিক প্রযুক্তি, সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা। দ্বীপটির পর্বত, সমুদ্রসৈকত এবং ব্যস্ত নগর জীবন পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। বাংলাদেশ থেকে তাইওয়ান ভ্রমণের জন্য ভিসা আবশ্যক। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ভিসা পাওয়া সহজ। এখানে ধাপে ধাপে তাইওয়ান ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া ও ভ্রমণের আগে সতর্কতা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

তাইওয়ান ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১. পাসপোর্ট: বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট প্রয়োজন। এটি সর্বশেষ ১০ বছরের মধ্যে ইস্যু হতে হবে এবং অন্তত ছয় মাসের মেয়াদ থাকতে হবে। হাতে লেখা বা সংশোধিত পাসপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয়।

২. ভিসা আবেদন ফরম: তাইওয়ান ইমিগ্রেশন পোর্টাল থেকে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। এরপর ফরমটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে হবে।

৩. ছবি: সর্বশেষ ৬ মাসের মধ্যে তোলা ৪৫ x ৩৫ মিমি আকারের রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগবে।

৪. কভার লেটার: আবেদনকারীর নাম, পদবি, পাসপোর্ট নম্বর এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য উল্লেখ করে কভার লেটার লিখতে হবে। এটি নিউ দিল্লিতে অবস্থিত তাইওয়ান দূতাবাসের ভিসা অফিসারের উদ্দেশ্যে লিখতে হবে।

৫. পুরনো পাসপোর্ট: যদি আগের কোনো পাসপোর্ট থাকে তবে সবগুলো জমা দিতে হবে। কোনোটি হারিয়ে গেলে জিডি কপি জমা দিতে হবে।

৬. ভিসা ফি: ভিসা ফি কেবলমাত্র নিউ দিল্লির কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংকে নগদ জমা দিতে হয়। ব্যাংক স্লিপসহ আবেদনপত্র তাইপে ইকোনমিক অ্যান্ড কালচারাল সেন্টারে জমা দিতে হবে।

৭. ভি লেটার: আবেদনকারীর ভিসা অনুমোদনের জন্য একটি ভি লেটার জমা দিতে হয়।

৮. ভিসা রিফিউজ লেটার: আগে যদি কোনো দেশের ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকে, তবে তার কপি জমা দিতে হবে।

পেশাগত প্রমাণপত্র

  • ফরোয়ার্ডিং লেটার: চাকরিজীবী হলে প্রতিষ্ঠান থেকে অফিসিয়াল লেটারহেডে একটি এনওসি দিতে হবে।

  • ট্রেড লাইসেন্স: ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হবে।

  • ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট ও মেমোরেন্ডাম: কোম্পানির পরিচালক হলে এসব কাগজ দিতে হবে।

  • অফিস আইডি কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড: অফিস আইডির কপি এবং তিনটি ভিজিটিং কার্ড জমা দিতে হবে।

  • বিন সার্টিফিকেট ও বেতন স্লিপ: প্রতিষ্ঠানের বিন নম্বর সার্টিফিকেট এবং সর্বশেষ ৩ মাসের বেতন স্লিপ প্রয়োজন।

আর্থিক কাগজপত্র

  • ব্যক্তিগত ব্যাংক স্টেটমেন্ট: সর্বশেষ ৬ মাসের স্টেটমেন্ট, সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত।

  • আইটিআর: সর্বশেষ ৩ বছরের আয়কর রিটার্ন কপি।

  • কোম্পানি ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আইটিআর: ভ্রমণ কোম্পানি স্পন্সর করলে এগুলো দিতে হবে।

ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র

  • এয়ার টিকিট: যাতায়াতের বিমান টিকিট বুকিং কপি।

  • হোটেল বুকিং: ভ্রমণের সময়কালের হোটেল বুকিং রসিদ।

  • ট্রিপ ইটিনারারি: বিস্তারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা।

  • ভিসা রিকোয়েস্ট লেটার: ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও সময়সীমা উল্লেখিত চিঠি।

বিশেষ ভিসা ক্যাটাগরি

ব্যবসা ও কনফারেন্স ভিসা

  • তাইওয়ান আমন্ত্রকের ইনভিটেশন লেটার

  • ইনভাইটারের আইডি কপি

  • ইউটিলিটি বিল কপি

  • লেটার অব গ্যারান্টি

ফ্যামিলি ভিসা

  • আমন্ত্রকের ইনভিটেশন লেটার

  • তাইওয়ান আইডি কপি

  • রেসিডেন্ট পারমিট কপি

  • ইউটিলিটি বিল কপি

নাবালক আবেদনকারী

  • জন্ম সনদ (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বারা সত্যায়িত)

  • স্কুল থেকে এনওসি

ভিসা ফি

  • একক এন্ট্রি ভিসা: ৫০ মার্কিন ডলার

  • মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা: ১০০ মার্কিন ডলার

  • এক্সপেডাইট ফি: একক এন্ট্রি ২৫ ডলার, মাল্টিপল এন্ট্রি ৫০ ডলার

আবেদন প্রক্রিয়া

১. অনলাইনে ফরম পূরণ করুন।
২. সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন।
৩. দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন জমা দিন।
৪. ভিসা ফি জমা দিন।
৫. ইভিসার ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধ করে প্রিন্ট কপি নিয়ে ভ্রমণ করুন।

প্রক্রিয়াকরণ সময়

প্রসেসিং সময় দূতাবাস বা কনস্যুলেট ভেদে ভিন্ন হয়। তাই ভ্রমণের অন্তত এক মাস আগে আবেদন করা উচিত।

অনুমোদিত ভিসা

স্টিকার ভিসা আবেদন করলে ডাকযোগে বা দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। ইভিসা আবেদনকারীরা ইমেইলে লিঙ্ক পাবেন। তা থেকে প্রিন্ট কপি নিয়ে যেতে হবে।

ভিসা এক্সটেনশন

৬০ বা ৯০ দিনের ভিসা থাকলে বাড়ানো যায়। তবে শর্তসাপেক্ষে ৯০ বা ১২০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

ভ্রমণ সতর্কতা

  • ভ্রমণের আগে স্বাস্থ্যবীমা রাখুন।

  • স্থানীয় আইন ও সংস্কৃতি মেনে চলুন।

  • বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভ্রমণ করবেন না।

  • নগদ অর্থ সীমিত রাখুন, কার্ড ব্যবহার করুন।

  • ভিসা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশ ত্যাগ করুন।

সূত্র: visaindex.com
নোট: অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শে কার্য সম্পাদন উত্তম।
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply