বাংলাদেশিদের জন্য ওমান ভিসা গাইড
ওমান তার বিস্তীর্ণ মরুভূমি, ঐতিহাসিক দুর্গ, সুন্দর উপকূল ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য ভ্রমণকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি পর্যটন, ব্যবসা এবং প্রবাসী জীবনের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। দেশটিতে প্রবেশ করতে অধিকাংশ ভ্রমণকারীর ভিসা প্রয়োজন, যা রয়্যাল ওমান পুলিশ (ROP) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অনলাইন ই-ভিসা চালু হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। এই গাইডে ওমান ভিসার ধরন, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচ, স্ট্যাটাস চেক এবং ভ্রমণের আগে জানা জরুরি তথ্য তুলে ধরা হলো।
ওমান ভিসা সম্পর্কে ধারণা
ওমান ভিসা হলো অফিসিয়াল ভ্রমণ অনুমোদন, যা বিদেশিদের জন্য বাধ্যতামূলক। শুধু উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC) ভুক্ত দেশ—বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকদের ভিসা ছাড়া প্রবেশের অনুমতি আছে। ২০১৮ সালে ই-ভিসা চালু হওয়ায় অনলাইনে সহজে আবেদন করা যায়। ভিসা পাওয়া যায় পর্যটন, ব্যবসা, চাকরি ও রেসিডেন্সের জন্য।
ওমান ভিসার ধরন
-
ট্যুরিস্ট ভিসা (আনস্পন্সরড): ১০ বা ৩০ দিনের একক প্রবেশ, অথবা ১ বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি (প্রতিবার ৩০ দিন থাকা যাবে)।
-
জিসিসি রেসিডেন্ট ভিসা: জিসিসি রেসিডেন্স পারমিটধারীদের জন্য, ২৮ দিনের একক প্রবেশ, এক সপ্তাহ বাড়ানো যায়।
-
চাকরির ভিসা: ওমানি নিয়োগকর্তার স্পন্সরে ২১ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য, ২ বছরের জন্য বৈধ।
-
ফ্যামিলি রেসিডেন্স ভিসা: স্বামী/স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী সন্তানদের জন্য।
-
ইনভেস্টর রেসিডেন্ট ভিসা: বিনিয়োগকারীদের জন্য, প্রাথমিকভাবে ৬ মাস, পরে ২ বছরের পারমিট।
-
স্টুডেন্ট রেসিডেন্ট ভিসা: শিক্ষার্থীদের জন্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর প্রয়োজন।
-
এক্সপ্রেস/বিজনেস ভিসা: ব্যবসায়িক মিটিং বা কনফারেন্সের জন্য, ২১ দিন বৈধ।
-
ট্রানজিট ভিসা: আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট দিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টা।
ওমান ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
-
কমপক্ষে ৬ মাসের বৈধ পাসপোর্ট
-
সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে ২ কপি ছবি
-
পূর্ণাঙ্গ আবেদন ফরম (অনলাইনে বা দূতাবাস থেকে)
-
হোটেল বুকিং বা আতিথেয়তার ঠিকানা
-
রিটার্ন বা অনওয়ার্ড টিকিট
-
ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক প্রমাণপত্র
-
দীর্ঘমেয়াদি ভিসার জন্য মেডিকেল সার্টিফিকেট
-
স্পন্সরশিপ নথি (চাকরি, পরিবার বা বিনিয়োগ ভিসার ক্ষেত্রে)
আবেদন প্রক্রিয়া
ধাপ ১: ভিসার ধরন নির্ধারণ
আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ভিসা নির্বাচন করুন। যোগ্যতা যাচাই করতে ROP ই-ভিসা পোর্টাল দেখুন।
ধাপ ২: কাগজপত্র সংগ্রহ
সব প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করুন। চাকরি বা পরিবার ভিসার ক্ষেত্রে স্পন্সরের ডকুমেন্ট লাগবে।
ধাপ ৩: অনলাইনে আবেদন (ই-ভিসা)
-
ROP ই-ভিসা পোর্টালে রেজিস্টার করুন
-
আবেদন ফরম পূরণ করুন
-
ডিজিটাল কপি আপলোড করুন
-
ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডে ফি পরিশোধ করুন
-
কনফার্মেশন নম্বর দিয়ে আবেদন ট্র্যাক করুন
ধাপ ৪: দূতাবাসে আবেদন (প্রযোজ্য হলে)
চাকরি বা স্টুডেন্ট ভিসার মতো ক্ষেত্রে দূতাবাসে সরাসরি আবেদন করতে হয়। এখানে মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিতে হতে পারে।
ধাপ ৫: ভিসা গ্রহণ
ই-ভিসা হলে ইমেইলে পিডিএফ কপি আসবে, তা প্রিন্ট করতে হবে। দূতাবাসের ক্ষেত্রে সরাসরি সংগ্রহ করতে হবে।
ওমান ভিসার খরচ
-
ট্যুরিস্ট ভিসা (১০ দিন, একক): ৫ ওএমআর (প্রায় ১৩ ডলার)
-
ট্যুরিস্ট ভিসা (৩০ দিন, একক): ২০ ওএমআর (প্রায় ৫২ ডলার)
-
মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (১ বছর): ৫০ ওএমআর (প্রায় ১৩০ ডলার)
-
জিসিসি রেসিডেন্ট ভিসা: ১০ ওএমআর (প্রায় ২৬ ডলার)
-
চাকরি/রেসিডেন্স ভিসা: ২০–৫০ ওএমআর (৫২–১৩০ ডলার)
-
বিজনেস ভিসা: ২০ ওএমআর (প্রায় ৫২ ডলার)
-
ট্রানজিট ভিসা: ৫ ওএমআর (প্রায় ১৩ ডলার)
ভিসার মেয়াদ ও এক্সটেনশন
-
ট্যুরিস্ট ভিসা: ১০ বা ৩০ দিন, বাড়ানো যায় না
-
মাল্টিপল এন্ট্রি: ১ বছর বৈধ, প্রতিবার ৩০ দিন থাকা যাবে
-
জিসিসি রেসিডেন্ট ভিসা: ২৮ দিন, ১ সপ্তাহ বাড়ানো যায়
-
চাকরি/ফ্যামিলি রেসিডেন্স: ২ বছর, নবায়নযোগ্য
-
ট্রানজিট ভিসা: ৭২ ঘণ্টা, বাড়ানো যায় না
ওভারস্টে করলে প্রতিদিন ১০ ওএমআর জরিমানা দিতে হয়।
ভিসা স্ট্যাটাস চেক ও ভেরিফিকেশন
-
ROP ই-ভিসা পোর্টালে যান
-
“Track Your Application” এ রেফারেন্স নম্বর দিন
-
পাসপোর্ট নম্বর ও ক্যাপচা দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করুন
-
ভিসা ভেরিফিকেশনের জন্য ভিসা নম্বর ও পাসপোর্ট তথ্য দিন
ভ্রমণ সতর্কতা
-
সব সময় পাসপোর্ট ও ভিসার কপি সঙ্গে রাখুন
-
স্থানীয় আইন কঠোরভাবে মেনে চলুন
-
অ্যালকোহল ও নিষিদ্ধ দ্রব্য বহন করবেন না
-
পোশাক-পরিচ্ছদে স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান রাখুন
-
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশ ত্যাগ করুন

