Digital Bussines ID

যে কারণে ডিবিআইডি বাতিল হয় তা সংশোধন করুন

যে কারণে ডিবিআইডি বাতিল হয় তা সংশোধন করুন

গত বছর ৬ ফ্রেব্রুয়ারী উদ্বোধন হয় ডিজিটাল ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন প্লাটফর্ম ডিবিআইডি রেজিস্ট্রেশন। পূর্বে এটা ইউবিআইডি বা ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নামে করার কথা থাকলেও পরে এটা শুধুমাত্র ডিজিটাল ব্যবসায় নিবন্ধন বিশেষ করে ই-কমার্স এর জন্য প্রযোজ্য হবে বিধায় এর নাম ডিবিআইডি করা হয়।

ই-কমার্সে প্রতারণাকারীদের সনাক্ত করতে এবং প্রয়োজনে সহজে তাদের তথ্য পেতে এটি প্রচলন করা হয়। সমস্যা নিরসনে গতি আনতে কোনো নতুন কোনো কতৃপক্ষ না করে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ই-কমার্স সেল এর অধীনে না রেখে এর দায়িত্ব দেয়া হয় আরজেএসসিকে।

যেহেতু আরজেএসসি আইনে বা তাদের কাজের পরিধিতে এটা না থাকায় প্রথম আরজেএসসি এটির দায়িত্ব নিতে চাইলেও পরে তারা এটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। অন্যদিকে এর টেকনিক্যাল সিস্টেমটি তৈরীর কাজ করে আইসিটি বিভাগের এটুআই প্রকল্প বর্তমানে এটুআই একটি আইন দ্বারা গঠিত সরকারী কোম্পানী।

পুরো বিষয়টি কিভাবে হওয়া উচিত এর গাইডলাইন সংক্রান্ত বিস্তারিত খসড়া ই-ক্যাব থেকে উপস্থাপন করা হলেও পরে কারিগরি ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে এটি ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো হয়। বিশেষ করে এফ কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য এটি প্রচলন করা হলেও তারা আবেদনে আগ্রহ হারায়ে ফেলছে।  ই-ক্যাব ও অন্যান্য আইটি এসোসিয়েশন সদস্যদের ক্ষেত্রে তাদের সুপারিশ এর ভিত্তিতে যেন ভেরিফাই করা হয়। বিষয়টি পুরোপুরি চালু করা হয়নি।

একদিকে আশানুরুপ সংখ্যায় ডিবিআইডি আবেদন না পড়ায় কিংবা উদ্যোক্তাদের আগ্রহ না থাকায় সরকার সকল ডিজিটাল উদ্যোক্তাকে এর আওতায় আনতে পারেনি। অন্যদিকে এতে কোনো সুবিধা না থাকায় উদ্যোক্তারাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কিছু ব্যাংক ডিবিআইডি ছাড়া একাউন্ট খুলছেনা এবং পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন গেটওয়ে কানেকশান দিচ্ছে না বিধায় কিছু সংখ্যক উদ্যোক্তা ডিবিআইডি গ্রহণ করার চেষ্টা করছেন।

https://dbid.gov.bd এই লিংকে গেলে দেখা যাবে যে,  এ পর্যন্ত আবেদন এসেছে ৫৬৮৬ টি কিন্তু ডিবিআইডি দেয়া হয়েছে মাত্র ৭২৯টি প্রতিষ্ঠানকে। মানে সাফল্যের হার কম।

এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রথম দিকে কিছু কারিগরি সমস্যা ছিল। এবং জটিল একটি শর্ত দেয়া ছিল আর তা হলো কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির সুপারিশ। এটা নিয়ে উদ্যোক্তারা আপত্তি জানায়। কারণ যেখানে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করতে এ ধরনের শর্ত নেই। সেখানে ডিবিআইডির জন্য এ ধরনের শর্ত কাম্য নয়।  পরে এটি শিথিল করা হয়। কিন্তু জুড়ে দেয়া হয় আরেকটি কঠিন শর্ত। পরবর্তীতে হঠাৎ করে কোনো ঘোষনা ছাড়াই বাড়িওয়ালার এনআইডি কার্ডের কপি আবেদন িএর সাথে জমা করার শর্ত দেয়া হয়। এতে পুরো প্রক্রিয়া আরো গতিহীন হয়ে পড়ে। কারণ যিনি অফিসের জন্য বাড়ি ভাড়া দেন তিনি কেন তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেবেন না বোধগম্য নয়।

পরবর্তীতে উদ্যোক্তারা এই শর্ত অপরাসনের জন্য চিঠি দিয়ে মত বিনিময় সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হলে এই শর্ত আর থাকেনা তার স্থলে ঠিকানা প্রমানের জন্য কোনো ইউটিলিটি বিলের কপি জমা দেয়ার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়।

বিশেষ করে, ২০২১ সালে প্রকাশিত ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা  নির্দেশিকায় বর্নিত শর্ত অনুসারে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ওয়েসাইট অথবা পেইজে শর্তাবলী এবং রিটার্ন ও রিফান্ড পলিসি তথা টার্মস এন্ড কন্ডিশন এবং পণ্য ফেরত ‍ও মূল্যফেরত নীতি উল্লেখ থাকতে হবে। কর্মকর্তারা এসব বিষয় ঠিক আছে কিনা তা দেখে ডিবিআইডি দিয়ে থাকেন। কিন্তু বেশীরভাগ আবেদনে বিষয়টি ঠিক থাকে না।

তাই ডিবিআইডি আবেদনের পূর্বে যে বিষয়গুলো আবেদনকারীর জন্য জরুরী

১। আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা লোগো, ফোন, ই-মেইল, রিভিউ সুবিধা, অভিযোগের ব্যবস্থা ইত্যাদি সবকিছু সাযোমা (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) পেইজ বা ওয়েবসাইট পুরোপুরি ঠিক করে আবেদন করুন।

২। আপনার পণ্যের বিবরণ যথাযথ এবং পুর্নাঙ্গভাবে লিখুন। উদাহরণস্বরুপ, সাইজ, রং, ওজন, পরিমাণ, ব্যবহারবিধি, কোন দেশে তৈরী, কারও জন্য ক্ষতিকর কিনা ? প্রযোজ্যক্ষেত্রে সনদ আছে কিনা? ইত্যাদি। এবং বিশেষ পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ তথ্য দিতে হবে। যেমন- ক্যামিকেলের ক্ষেত্রে কি কি ক্যামিকেল তার নাম। কম্পিউটারের ক্ষেত্রে কনফিগারেশন। গরুর ক্ষেত্রে : জাত, স্বাস্থ্য ওজন ও দাঁতের তথ্য।

৩। স্টকে পণ্যটি আছে কিনা কি পরিমাণ তা লিখুন। অথবা অ্যাবলেবেল কিনা সেটা ‍লিখুন।

৪। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা পড়ে নিন। সে অনুসারে সব কিছু সাজিয়ে আবেদন করুন।

৫। আপনি আসলে ই-কমার্স বা এফ কমার্স করেন কিনা? আসলে আপনার ডিজিআইডি লাগবে কিনা? এসব নিশ্চিত হয়ে নির্ভুলভাবে আবেদন করুন।

৬। কোনো কারণে আবেদন নাকচ হলে কারণ জেনে সেটি ঠিক করে আবার আবেদন করুন।

কিন্তু বেশীরভাগ উদ্যোক্তা মনে করেন, যাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে তাদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করা উচিত নয় এবং যারা কোম্পানী আইনে নিবন্ধিত তাদের জন্য এটা প্রযোজ্য হওয়া উচিৎ নয়। কারণ তারা এরচেয়ে বেশী শর্তপূরণ করে নিবন্ধন নিয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ডিজিটাল ও সেন্ট্রাল পোর্টালের মাধ্যমে ম্যানেজ করলে এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯ ও ট্রেড লাইসেন্স আইন ২০১৬ সংশোধন করে সেখানে ই-কমার্স যুক্ত করতে হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply