জীবন যেখানে অর্থবহ হয় সেখানে নিক ভুইসিচ থাকে

জীবন যেখানে অর্থবহ হয় সেখানে নিক ভুইসিচ থাকে

নিক ভুইসিচ: সীমাহীন জীবনের এক জীবন্ত প্রতীক

 Nick Vujicic  নিক ভুইসিচ ভুজিসিক বা নিক ভুইচ্চি তার নামের উচ্চারণ নিয়ে মতভিন্নতা আছে। আমরা যখন  সিলেবল ভেঙ্গে পড়ি তখন হয় ভ-সি-সিস বা ভু-জি-সিক। কিন্তু গুগল এর উচ্চারণ করছে নিক ভুইচি। আর চ্যাট জিপিটি বলঠে নিক ভুইসিচ।  আমরা এই লেখার শেষে এটা নিয়ে আরেকটু বিশ্লেষণ করেছি।  এটি একটি সার্বিয়ান নাম। ব্যাকরণগত বিষয়গুলো শেষে আলোচনা করা হলো।
নিক ভুইসিচ (Nick Vujicic) বিশ্বজুড়ে পরিচিত একজন অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা, লেখক ও খ্রিস্টান প্রচারক। তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তার শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে মানুষের জীবনে আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। জন্ম থেকেই হাত-পা ছাড়াই পৃথিবীতে আসা এই মানুষটি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং বিশ্বাস থাকলে জীবনে কিছুই অসম্ভব নয়।

nick vujicic সম্পর্কে যখন আমি প্রথম জানতে পারি তখন তার সম্পর্কে আরো জানার জন্য আমি উদগ্রীব হয়ে পড়ি। নেটে ঘাটাঘাটি করে এমনকি একটি বইও কিনে ফেলি। আমাকে ব্যাপক অনুপ্রাণীত করেছে nick vujicic এর জীবন ও সংগ্রাম। বিশেষ করে সে যখন ৫০টি স্কুলে ফোন করেছিলো মোটিভেশনাল স্পিচ দেয়ার জন্য এবং তারা সবাই তাকে ‘‘না’’ করে দিয়েছিল এবং তার ৫১তম কলটি তাকে নতুন জীবন দিয়েছিল। এই ঘটনা আমি মানসিক ভাবে হতাশ মানুষদের বলে অনুপ্রেরণা দেয়ার চেষ্টা করি।

জন্ম ও শৈশবকাল

নিক ভুইসিচ ১৯৮২ সালের ৪ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি টেট্রা-অ্যামেলিয়া সিনড্রোম (Tetra-amelia syndrome) নামের এক বিরল জন্মগত রোগে আক্রান্ত ছিলেন, যার ফলে তাঁর শরীরে কোনো হাত-পা ছিল না। তাঁর জন্মের পরই চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন যে, এটি একটি দুর্লভ এবং জটিল অবস্থা।

শৈশবে তিনি প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা ও অবসাদের মধ্য দিয়ে গেছেন। স্কুলে তিনি ভয়াবহ রকমের বুলিংয়ের শিকার হন এবং একসময় নিজেকে ‘অযোগ্য’ বলে মনে করে ১০ বছর বয়সে আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেন। তবে তার পরিবার, বিশেষ করে মা-বাবার ভালবাসা, শিক্ষা এবং তাঁর আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে তাকে বদলে দেয়।

জীবনের মোড় পরিবর্তন

নিক বুঝতে পারেন, তিনি যদি নিজের সীমাবদ্ধতার বদলে সম্ভাবনার দিকটি দেখতে শুরু করেন, তাহলে জীবন বদলে যেতে পারে। তাঁর শরীরের বাম পাশে একটি ছোট্ট পদাঙ্গুলি সদৃশ অঙ্গ রয়েছে, যেটিকে তিনি মজা করে “চিকেন ড্রামস্টিক” বলেন। এই অঙ্গ ব্যবহার করেই তিনি লিখতে, কম্পিউটার চালাতে, দাঁত ব্রাশ করতে, সাঁতার কাটতে এমনকি গলফ এবং ফুটবলের মত খেলাও খেলতে পারেন।

এই আত্ম-উন্নয়নের যাত্রা তাঁকে অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা হয়ে ওঠার দিকে নিয়ে যায়।

লেখক ও অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা হিসেবে উত্থান

২০০৫ সালে, নিক ‘Life Without Limbs’ নামক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে নিজের গল্প শেয়ার করতে থাকেন। তিনি এখন পর্যন্ত ৭৫টিরও বেশি দেশে বক্তৃতা দিয়েছেন এবং সরাসরি ও অনলাইনে এক বিলিয়নের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছেন।

তাঁর লেখা কয়েকটি জনপ্রিয় বই হলো—

  • Life Without Limits (সীমাহীন জীবন)

  • Unstoppable (অপ্রতিরোধ্য)

  • Love Without Limits (ভালবাসারও সীমানা নেই)

  • Stand Strong (দৃঢ় থাকো)

তাঁর বক্তব্যগুলোতে বারবার উঠে আসে বিশ্বাস, সাহস, আত্মসম্মান এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব। তিনি বলেন— “আপনি যদি কোনো মিরাকল না পান, তাহলে নিজেই একটি মিরাকল হয়ে উঠুন।”

ব্যক্তিগত জীবন

২০১২ সালে নিক Kanae Miyahara-কে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তাঁদের চারটি সন্তান রয়েছে। একজন স্বামী ও পিতা হিসেবে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা জীবনের পূর্ণতা অর্জনের পথে বাধা নয়। তিনি পরিবারের সঙ্গে সুখী, সক্রিয় এবং পরিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন।

বিশ্বজুড়ে প্রভাব

নিক ভুইসিচ শুধুমাত্র বক্তা নন, তিনি একজন বৈশ্বিক অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব। তিনি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলখানা, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এমনকি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছেন। তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগাতে ও আত্মহত্যা রোধে সচেতনতামূলক কাজেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

নিক ভুইসিচের জীবন আমাদের শেখায়— সীমাবদ্ধতা মানসিক, শারীরিক নয়। আমাদের কী নেই, তা নিয়ে হাহাকার না করে আমরা কী করতে পারি, সেই দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন:

“আপনি মূল্যবান। আপনি প্রিয়। আপনার জীবনের একটি উদ্দেশ্য আছে।” 

আপনি চাইলে এই লেখাটিকে আরেকটু সংক্ষিপ্ত বা বিস্তারিতভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন নির্দিষ্ট কোনো প্ল্যাটফর্ম বা শ্রোতা অনুযায়ী। জানালে আমি সেটাও করে দিতে পারি।

Nick Vujicic-এর নামের উচ্চারণ কীভাবে হবে?

নিকের নামের ইংরেজি বানান: Nick Vujicic, তিনি নিজেই একাধিক বক্তৃতায় নামটি উচ্চারণ করেন: “Nick Voo-yee-cheech” (নিক ভু-ই-চিচ)। এটি একটি সার্বিয়ান (Serbian) নাম। সার্বিয়ান ভাষায় “j” উচ্চারিত হয় “y” হিসেবে এবং “c” উচ্চারিত হয় “ch” হিসেবে। ফলে নামের সঠিক উচ্চারণ দাঁড়ায়:  Vujicic = Vu-yi-chich = ভু-ই-চিচ। 

বাংলায় উচ্চারণভিত্তিক লেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কাছাকাছি ও শুদ্ধ হবে:  নিক ভুইচিচ বা নিক ভুজিচিচ (আরও কাছাকাছি যদি ‘য’ কে ‘জ’ ধরা হয়) আমাদের  বলা “নিক ভুজিসিক”— এটি কিছুটা ইংরেজি বানান দেখে আন্দাজে উচ্চারণ করার ফল। ইংরেজিতে “c” কে সাধারণভাবে “সিক” মনে করে অনেকেই “ভুজিসিক” বলেন। তবে এটি ভুল উচ্চারণ।

 তাহলে লিখতে গেলে কোনটা সবচেয়ে ভালো?

যেহেতু আমরা উচ্চারণভিত্তিক বাংলা লিখি, তাই:  নিক ভুইচিচ বা নিক ভুজিচিচ — এই দুটি লেখা সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply