Genetic
Genetic

জিন বলতে কি বোঝায় ?

জিন: জীবনের রহস্যময় নকশা

জীবজগতের এক আশ্চর্য রহস্যের নাম জিন। বিশাল এই প্রাণিজগতে কোটি কোটি প্রাণী রয়েছে, কিন্তু কেউই পুরোপুরি একে অপরের মতো নয়। প্রতিটি প্রাণীর রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, গঠন ও স্বভাব। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভিন্নতার মূল উৎস দেহের অভ্যন্তরীণ প্রোটিনের পার্থক্য। আর এই প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ করে যে উপাদান, সেটিই হলো জিন (Gene)।

জিন হলো বংশগতির মৌলিক একক, যা জীবদেহে প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা দেয় এবং এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে বৈশিষ্ট্যগুলো স্থানান্তরিত করে। বহু জিন একত্রে গঠিত হয় “জিনোম”—যা পুরো জীবের বংশগত তথ্য ধারণ করে।

প্রতিটি প্রাণীর দেহে জিন ক্রোমোজোমের মধ্যে নির্দিষ্ট বিন্যাসে সাজানো থাকে, অনেকটা পুঁতির মালার মতো। প্রত্যেক প্রজাতির জিন এক নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে, যার ফলেই পিতা-মাতার শারীরিক বৈশিষ্ট্য সন্তানের দেহে প্রতিফলিত হয়।

মূলত জিন হলো ডিএনএ (Deoxyribonucleic Acid) বা ডি-অক্সি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড। এটি ক্রোমোজোমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিছু নিম্নস্তরের প্রাণীতে আরএনএ (Ribonucleic Acid) জিন হিসেবে কাজ করে।

ডিএনএ তিন ধরনের উপাদান দ্বারা গঠিত—নাইট্রোজেনাস বেস, সুগার এবং ফসফেট। বেস চার প্রকার: এডিনিন (Adenine), থাইমিন (Thymine), গুয়ানিন (Guanine) ও সাইটোসিন (Cytosine)। আরএনএ-তে থাইমিনের স্থলে থাকে ইউরাসিল (Uracil), এবং এতে সুগারের গঠনতেও কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ডিএনএর গঠন অনেকটা পাকানো সিঁড়ির মতো, যা দুইটি লম্বা অণু একে অপরকে পেঁচিয়ে গড়ে তোলে। এক অণুর বেস অপর অণুর বেসের সঙ্গে নির্দিষ্টভাবে যুক্ত হয়—এডিনিনের বিপরীতে থাইমিন, আর গুয়ানিনের বিপরীতে সাইটোসিন। এই সুনির্দিষ্ট বন্ধনের কারণেই ডিএনএ নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।

এই প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাই ডিএনএকে বংশগতির বাহক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ডিএনএ তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে পারে, আর এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের ধারাবাহিকতা ও বৈচিত্র্যের রহস্য।

সূত্র: জ্ঞানের কথা
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: retinauk.org.uk

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply