river
river

জল শুকিয়ে যাওয়া ও ধোঁয়ার বিজ্ঞান

জল শুকিয়ে যাওয়া ও ধোঁয়ার বিজ্ঞান

জল শুকিয়ে যাওয়া আমরা প্রতিদিন দেখি। কোথাও সামান্য জল ঢেলে দিলে কিছু সময়ের মধ্যেই তা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। রোদে ভেজা কাপড় মেলে রাখলে অল্প সময়েই শুকিয়ে যায়। এই দৃশ্যটি এতটাই সাধারণ যে, আমরা কখনও ভাবিই না—আসলে এই জল কোথায় যায়?

জল শুকিয়ে যাওয়া মানে হলো, সেই তরলটি বাষ্পে পরিণত হয়ে শূন্যে মিলিয়ে যাওয়া। বিজ্ঞানের ভাষায়, এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বাষ্পীভবন। যখন কোনো তরল পদার্থে তাপ পড়ে, তখন তার অণুগুলো দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তারা তরল অবস্থান ত্যাগ করে গ্যাসে রূপ নেয় এবং বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এইভাবেই জল “শুকিয়ে যায়।” এটি দেখতে সহজ হলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি এক গভীর বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।

তবে জলের মতো সাধারণ বিষয় ছাড়াও, আগুনে পোড়া বস্তু ও ধোঁয়ার মধ্যেও রয়েছে বিজ্ঞান। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এনথ্রাসাইট নামের এক ধরনের কয়লা এবং কোক নামের পাথুরে কয়লা পুড়লে কোনো ধোঁয়া হয় না। কারণ এদের মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ নেই। কিন্তু বিটুমিনাস কয়লা জ্বালালে প্রচণ্ড ধোঁয়া সৃষ্টি হয়। এই কয়লা পুড়লে তাপ উৎপাদন কম হয় এবং জ্বালানি থেকে নানা ধরনের গ্যাস ও আলকাতরা জাতীয় পদার্থ বেরিয়ে আসে। এই পদার্থগুলো বাতাসে মিশে ধুলোর সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে তৈরি করে ঘন ধোঁয়া।

শহরাঞ্চলে এই ধোঁয়াই এখন বড় সমস্যা। বিভিন্ন কারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া মিলে বাতাসে বিষাক্ত পদার্থের ঘনত্ব বাড়িয়ে তোলে। এসব ধোঁয়া শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও বিপজ্জনক। ধোঁয়ার মধ্যে থাকা সূক্ষ্ম কণাগুলো ফুসফুসে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, এমনকি ফুসফুসের ক্যানসারের মতো রোগের কারণ হয়।

শিল্পনগরীর আকাশ প্রায়ই ধোঁয়ায় ঢেকে থাকে। সূর্যের আলো ঠিকভাবে মাটিতে পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে আলোর ঘনত্ব কমে যায়। এই অবস্থায় বাতাসে আলোকরশ্মির সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যা বায়ুর গুণমান আরও খারাপ করে তোলে। শীতকালে এই অঞ্চলে কুয়াশা বেশি পড়ে, কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্প ও ধোঁয়ার কণাগুলো মিলে ঘন আকার ধারণ করে।

বায়ু দূষণের এই প্রভাব মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ছে। বড় শহরে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে হার্টের রোগ, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা এবং অকাল মৃত্যুর হার বাড়ছে। ধোঁয়া শুধু মানুষের ক্ষতি করছে না, নষ্ট করছে গাছপালা, ফসল ও ঘরের জিনিসপত্রও।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধোঁয়া ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে শিল্প ও জ্বালানি ব্যবহারে সচেতন হতে হবে, পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। জল যেমন বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, তেমনি নিয়ন্ত্রণহীন ধোঁয়াও বাতাসে ছড়িয়ে আমাদের জীবনে অদৃশ্য ক্ষতি ডেকে আনে। তাই আজই শুরু করতে হবে পরিষ্কার বাতাসের জন্য সঠিক পদক্ষেপ।

সূত্র: জ্ঞানের কথা
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: cnn.com

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply