ছোট ছোট ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
আমাদের জীবনে ছোট ছোট ভুল থাকে। আমরা কখনো বুঝতে পারি, কখনো বুঝতে পারি না। কিন্তু ছোট ছোট এসব ভুল আমাদের জীবনে অনেক ক্ষতি করে। আমরা এসব কিছু বিষয় একবার আলোচনা করে মনে করিয়ে নিই। মনে করেÑ বলছি এই জন্য যে, আমরা অনেকে বিষয়গুলো জানি কিন্তু গুরুত্ব দিই না।
মোবাইলে মিথ্যে বলা
এটা আমাদের নিত্যদিনের অংশ হয়ে যায় কখনো কখনো। বাসায় বসে থেকে বলি আমি রাস্তায়। মহাখালী থেকে বলি আমি তো শাহবাগ। এগুলো হয়তো বড় কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু এগুলোর মাধ্যমে প্রথমত আমরা আমাদের ব্যক্তিত্বকে খাটো করি। এতে করে একদিকে যাদের সাথে কাজ করি তারা মেসেজ পেয়ে যায় যে, আমি ছোটখাটো মিথ্যা বলি। পরের বার ফার্মগেট থেকে আসছি বললেও তারা মনে করবে আমি এখনো খিলক্ষেতে বসে আছি। আর ছোট ছোট মিথ্যা থেকে একদিন বড় মিথ্যা বলাটা সহজ হয়ে যায়। তাই আমাদের উচিত এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া।
সমস্যার কথা সাবলীলভাবে বলা
এসব ভুল অনেকের মধ্যে দেখেছি। আগে বলেছে প্রোগ্রামে আসবে এখন তিনি কোনো কারণে আসতে পারছেন না। এখন তিনি আর ফোন ধরছে না। আবার কোনো কারণে কোনো ওয়াদা করেছেন এখন সেটা আর রাখা যাচ্ছে না। কিন্তু তিনি আর ফোন করে তার সমস্যার কথা বলেন না। কিন্তু তার প্রথমবারের কথা অনুসারে অন্যরা বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করে শেষ মুহূর্তে উনি আসছেন কি না, জানতে চাইলে তখন তিনি নানা সমস্যার কথা বলেন। দয়া করে এমনটা করবেন না। অন্যের সমস্যার কথা বিবেচনা করুন। প্রিয় পাঠক, আপনি হয়তো এমন নন। কিন্তু অল্প কিছু লোকের অল্প কিছু কাজ কখনো কখনো বড় সমস্যা তৈরি করে।
প্রশংসার নামে চাটুকারিতা
অন্যের প্রশংসা করা খুব ভালো। এটা একটা গুণও বটে। মানুষের সত্যিকার গুণের প্রশংসা করা উচিত। আমাদের চারপাশে আমরা আজকাল দেখি, অনেকে নিজেদের স্বার্থ ও ধান্ধার লোভে অহেতুক মিথ্যা প্রশংসা ও চাটুকরিতা করে। এটা শুধু পেশাগত সমস্যা নয় বরং এটা আমাদের নিজেদের সামাজিক সমস্যা। এই সমস্যার কারণে উভয়পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন চাটুকার সমসময় ভাবে বসকে কীভাবে খুশি করা যায়। তাই সে কাজের কথা ভাবে না। আর চাটুকারকারীর ক্ষতি হয়। তিনি যখন চাটুকারের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকেন তখন তারও ক্ষতি হয়। ইতিহাস বলেÑ বড় বড় লোক বিশেষ করে রাজ-রাজড়ারা পর্যন্ত চাটুকার দ্বারা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছেন।
সময়মতো উপস্থিত না হওয়া
আমরা মনে করি, অনুষ্ঠান যেহেতু ৩টায় আমাকে ৪টায় উপস্থিত হলেও চলবে। এভাবে আমরা সবকাজ প্রতিদিন ২ ঘণ্টা দেরিতে শুরু করি। ফলে আমরা সব সময় ২ ঘণ্টা পিছিয়ে থাকি। প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে বছরে অন্তত ৭০০ ঘণ্টা সময় নষ্ট করি। এটা শুধু আমাদের সমস্যা নয়। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এই প্রবণতা রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, উন্নত বিশ্বে এটা নেই। জাপান, জার্মান কিংবা ইউরোপ-আমেরিকায় এধরনের দেরি করাটা শিষ্টাচারবর্হিভূত। বুঝলেন তো, তারা কেন উন্নত আর আমরা কেন উন্নত নয়।
অন্যের বিষয় নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট না করা
আমাদের দেশের এটা একটা সামাজিক সমস্যা। এটা কিন্তু একদিনে তৈরি হয়নি এবং বিনা কারণে হয়নি। আমরা বিপদে-আপদে আশপাশের সবার প্রয়োজনে এগিয়ে আসি। ঠিক একই কারণে আমরা তার ভালোমন্দ নিয়ে ভাবি। ঠিক একই কারণে সে ভালো করলে খুশি হই। খারাপ করলে বদনাম করি। আমাদের প্রশংসটা রেখে বদনামটা কেটে দেয়া উচিত। কখনো কখনো পরশ্রীকাতর হই। এসব কারণে আড্ডার টেবিলে কিংবা পথে-প্রান্তরে দুজন মানুষ এক হয়ে তৃতীয় ব্যক্তিকে নিয়ে মাথা ঘামাই। অথচ এটা আমাদের জন্য কোনো মঙ্গল বয়ে আনে না, বরং বয়ে আসে বদনাম। কারণ এটা আমাদের নিত্যদিনের কাজ হয়ে যায়। আজ অমুকের নামে বলি তো কাল তমুকের নামে। একদিন আমি নিজেও এই বদনামের শিকার হয়ে পড়ি। ফলে আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের গোপন বিষয় বের করে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে পরিবেশন করি। আর প্রতিটি মানুষের চরিত্র খারাপ করে সামনে নিয়ে আসি। অন্যেকে খারাপ ভাবার মাঝে এক ধরনের তৃপ্তি পেয়ে নিজের ভালো বা বড় হওয়ার কথা ভুলে যাই।
অন্যের সমস্যা দেখা
কখনো কখনো আমরা নিজের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে এতটাই মনোযোগী থাকি যে, অন্যের সমস্যা দেখার সময় নেই। বাসে বসে জানালা খট করে পেছনে দিয়ে দিই। পরে দেখা যায় আরেকজনের হাতে চাপ লেগেছে। আবার পেছনের যাত্রীকে না বলে বাসের সিট পেছনের দিকে হেলিয়ে দিই। তারপর দেখা যায় তার হাঁটুতে গুঁতো লেগেছে। এটা তো ছোটোখাটো ব্যাপার। এর চেয়ে বড় ভুলও আমরা করি। যেমন আমার ঘোরার জন্য ৫০ হাজার টাকা খরচ করছি। হয়তো কেউ আমার কাছ থেকে বিশ হাজার টাকা পাবে, যার বাচ্চা হাসপাতালে। তাই ওগুলো খেয়াল করা উচিত।
বই: নিজেকে গড়ে তুলতে

