মিথ্যা সংবাদ প্রকাশে প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ যেভাবে করবেন
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ লিপি
কখনো আপনার বিপক্ষে বা পক্ষে সংবাদ প্রকাশ হলে আপনি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন। সাধারণত পক্ষে সংবাদ প্রকাশিত হলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হলেও সেটা দেখানো হয়না। তবে বিপক্ষে সংবাদ পরিবেশিত হলে অবশ্যই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানোটা স্বাভাবিক। এই প্রতিক্রিয়া স্বাবলিল স্বাভাবিক হতে পারে। যেমন-
অমুক পত্রিকায় অত তারিখে প্রকাশিত এই শিরোনামের সংবাদে আমাদের প্রতিক্রিয়া।
অথবা, গত ……….. তারিখে প্রকাশিত ……………. শিরোনামের সংবাদের বিষয়ে আমাদের তীব্র প্রতিবাদ।
কখনো কখনো প্রতিবাদ লিপির প্রয়োজন হয়ে পড়ে বিশেষ করে যখন বিষয়টা পিআর এর পর্যায়ে থাকেনা। কোনো সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যম যখন এমনকোনো সংবাদ প্রকাশ করে যার ফলে আপনার প্রতিষ্ঠানের সুনামের ক্ষয় হয়, কোনো নির্দিষ্ট পন্যের বদনাম হয় এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য বিষয়ে প্রশ্ন তুলে যাতে জনসাধারনের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশংকা তৈরী হয়।
এমনটা শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের নামে নয়, প্রতিষ্ঠানের কোনো পণ্যের নামে, ব্যক্তি বা মালিকের নামেও হতে পারে। যেক্ষেত্রে হোকনা কেন, প্রতিষ্ঠানের সুনামের ঘাটতি হলে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া হবে পত্রিকায় প্রতিবাদ লিপি পাঠানো এবং একই প্রতিবাদ লিপি অন্যান্য মাধ্যমে নিজেদের বøগ ওয়েবসাইট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র প্রচার করা।
কোন ক্ষেত্রে প্রতিবাদলিপি পাঠাতে হবে?
১. ইচ্চা বা অনিচ্ছায় কোনো সংবাদমাধ্যম অসত্য আপত্তিকর সংবাদ পরিবেশন করলে।
২. সংবাদের দ্বারা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করে বক্তব্য প্রদান করলে।
৩. কোনো পণ্য বা ব্রান্ডের বদনাম করলে এবং ক্রেতার আস্থা নষ্ট হলে।
৪. কোনো সংবাদ একচোখা, একপেশে এবং উভয়পক্ষের মন্তব্য ছাড়া প্রকাশ করলে।
৫. অন্যকোনো সংবাদের সাথে উক্ত কোম্পানীর কোনো তথ্য বা সংবাদ নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করলে।
প্রতিবাদ লিপি,
অন্যায় অসত্য এবং স্বার্থের হানি ঘটে এমনকোনো সংবাদ প্রকাশ করলে তার বিপরীতে প্রতিবাদ লিপি পাঠানো যায়।
একটি প্রতিবাদ লিপিতে কি থাকতে পারে?
১. প্রতিবাদের সুর্নিদিষ্ট কারণ ও ঠিক কোন অংশের প্রতিবাদ করা হচ্ছে তার উদৃতি।
২. প্রতিবাদের যুক্তি ও প্রতিবাদ সঠিক তার প্রমাণ সংক্রান্ত তথ্য ও সূত্র।
৩. প্রতিবাদ ছাপানোর অনুরোধ এবং না ছাপা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা তার বিবরণ।
৪. যে মিথ্যা বিবরণী ছাপা হয়েছে। তার বিপরীতে সত্য ঘটনাটিও তুলে ধরতে হবে।
৫. যিনি প্রতিবাদ পাঠাচ্ছেন। তার নাম পদবী ফোন নাম্বার ও ই মেইলে ইত্যাদি স্বাক্ষর ও তারিখসহ উল্লেখ করতে হবে।
মনে রাখতে হবে:
১. প্রতিবাদ পাঠানোর সময় অবশ্যই আপনার অবস্থান সঠিক ও শক্ত হতে হবে। এরচেয়ে শক্ত প্রমাণ তাদের কাছে থাকলে প্রতিবাদ ধোপে টিকবেনা এবং হিতে বিপরীত হতে পারে।
২. প্রতিবাদ ছাপবে কিনা সেটা একান্ত পত্রিকার নিজস্ব ব্যাপার। নৈতিক দিক চিন্তা করলে যুক্তি ও প্রমাণ সম্পন্ন প্রতিবাদলিপি ছাপা উচিত। আপনি যদি সংবাদ মাধ্যমের সাথে কোনো বিবাদে জড়াতে না চান। তাহলে বুদ্ধিমানের কাজ হবে প্রতিবাদ পত্র পাঠিয়ে তা ছাপানোর জন্য ভদ্রোচিত অনুরোধ করা।
৩. বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রতিবাদের একটি ছোট অংশ প্রকাশ করে থাকে। এবং তার বিপরীতে প্রতিবেদকের বক্তব্যও প্রকাশ করে থাকে। তখন পুরো বিষয়টি পাঠকের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়।
৪. যে পত্রিকায় আপত্তিকর খবরটি ছাপা হয়েছে। সে পত্রিকার একটা নৈতিক অবস্থান থাকে প্রতিবাদ লিপি ছাপানোর ব্যাপারে। এ ব্যাপারে অন্য পত্রিকা মোটেও আগ্রহী হবেনা প্রতিবাদপত্রটি ছাপতে সেক্ষেত্রে আরো বেশী জনসাধারণকে বিষয়টি খুব ভালোভাবে জানিয়ে দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ অন্যান্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘‘দৈনিক অমুক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শিরোনামে প্রকাশ করে থাকে।
৫. এছাড়া নিজস্ব বøগ, নিউজ সেকশন, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ প্রকাশ করা যায়। অনেকে ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। অনেকে সরাসরি লাইভে এসে তাদের ক্রেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মাধ্যমে এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিয়ে থাকেন।
৪. চিঠিপত্র
এটা খুব স্বাবলীল একটা ব্যাপার। এ ধরনের কনটেন্ট পত্রিকা অফিসে পাঠানোর জন্য কোনো উপলক্ষ্য যেমন জরুরী নয়। তেমনি আপনার পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো সংবাদ পরিবেশনও জরুরী নয়। কি কারণে আপনি পত্রিকায় চিঠিপত্র কলামে লেখা লিখতে পারেন?
১. আপনার এলাকায় কোনো সমস্যা, ফ্লাইওভার নেই, বেওয়ারিশ কুকুরের যন্ত্রণা, ম্যানহোলের ডাকনা চুরি হয়েছে, মশার ব্যাপক উপদ্রæব ইত্যাদি ব্যাপারে চিঠিপত্র লেখা যায়।
২. কিন্তু ঈদানিং আপনি আপনার সুবিধা নিয়েও লিখতে দেখা যায়। একজন লিখেছে তার এলাকায় কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের শাখা নেই, আরেকজন লিখেছেন তিনি অনলাইনে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। কারণ তার এলাকায় যে পোস্ট অিিফস রয়েছে সেখান থেকে ই-কমার্সের জন্য পণ্য বুকিং দেয়া যায়না। এভাবে পরোক্ষভাবে এখানে প্রচার নেয়া যেতে পারে যদি কৌশলটা আপনি বুঝে থাকেন।
৩. এছাড়া চিঠিপত্র কলামে আপনি লিখতে পারেন, কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-কমার্স পড়ানো হয়না? আপনি লিখতে পারেন কেন পরিবেশ সচেতনতামূলক অধ্যায় পাঠ্যবইতে যুক্ত হয়না যাতে মানুষ রাস্তায় ময়লা ফেলা যে একটা অপরাধ তা জানতে পারত।
এছাড়া জনস্বােের্থর যেকোনো বিষয় আপনি নিয়ে আসতে পারেন। চিঠিপত্র কলামে। একটা কভার লেটার দিমেয় পাঠিয়ে দিন পোস্ট অফিস বা মেইলের মাধ্যমে। মোটামোটি মানের লেখাও এসব কলামে হরদম ছাপা হয়। আর কিছু না হোক পরিচিতির জায়গায়ও যদি আপনি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠানের নাম তুলে ধরেন। এখান থেকেওতো ছোট একটা প্রচার সুবিধা নিতে পারেন।
নমূনা-
বরাবর
সম্পাদক
দেশ রুপান্তর
আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার চিঠিপত্র কলামে নিন্মের লেখাটি ছাপলে কৃতার্থ হবো।
নিবেদক
…………………
……………………
মেরুল বাড্ডায় ওভার ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ
মেরুল বাড্ডা, রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। এখানে রাস্তার দুইপাশে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করে। রয়েছে বেশকিছু স্কুল কলেজ ও বাণিজ্যিক অফিস। রাস্তার দুইপাশেই আবাসিক এলাকা। এখানকার বাসিন্দারা প্রতিদিন তাদের কর্মসংক্রান্ত কাজে ছুটে যান শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। রাস্তারা দুপাশেই আছে মসজিদ ও খাবার রেস্তোরা। এতে করে রাস্তা পারাপারের জন্য সব সময় জনসাধারণকে রাস্তায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় কখন রাস্তা একটু ফাঁকা হবে কিংবা ট্রাফিক সিগনাল পড়বে। বলা বাহুল্য এখানে রাজধানীর একমাত্র ইউলুপটি অবস্থিত বিধায় এখানে কোনো ট্রাফিক সিগনাল নেই। উপরন্তু ইউলুপের কারণে রাস্তায় যানবাহনের পরিমাণ ও গতি দুটোই বেড়েছে।
এছাড়া ঠিক মেরুল বাড্ডা বাসস্ট্যান্ড এর উল্টোপাশে রয়েছে নির্বাচন কমিশন এর গুলশান বাড্ডাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার অফিস। ফলে প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসেন তাদের ভোটার আইডি কার্ড সংক্রান্ত কাজে। তাদেরকেও রাস্তা পার হতে হয়। এছাড়া অদূরে রয়েছে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ আফতাবনগর ও আনন্দনগর আবাসিক এলাকার প্রবেশ পথ।
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে জনসাধারণ এর রাস্তাপারাপারের সুবিধার্থে ওভারব্রিজ থাকলেও এখানে তা নেই। প্রতিদিন পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী শিশু ও বৃদ্ধরা যেভাবে চোখে মুখে আতংক নিয়ে রাস্তা পার হন তা যেকোনো সচেতন নাগরিককে মর্মাহত করবে।
আমাদের দেশে দেখা যায় কোনো এলাকায় দূর্ঘটনা হলে পরে তখন সেখানে ওভার ব্রিজ বসানো হয়। এলাকার একজন ভূক্তভোগী নাগরিক হিসেবে আমি কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই। কোনো রুপ দূর্ঘটনার মাধ্যমে কোনো মায়ের বুক খালি হওয়ার আগে এখানে একটি ওভারব্রিজ স্থাপন করা হোক।
নিবেদক
মিয়া জুম্বুর আলী তালুকদার
এলাকাবাসীর পক্ষে।
একটি সমস্যামূলক চিঠিতে যে বিষয়গুলো থাকবে
১. অবশ্যই সাথে একটি কভার লেটার থাকবে।
১. চিঠি ই-মেইল, ডাকযোগে বা সরাসরি পাঠানো যাবে
২. মূল বিষয়টির ভ’মিকা উল্লেখ করতে হবে।
৩. এলাকার ঠিকানা বিস্তারিত ও সমস্যাটি তুলে ধরতে হবে।
৪. সমস্যার সমাধান এর জন্য করনীয় তুলে ধরতে হবে।
৫. জানা থাকলে এ ব্যাপারে যথাযথ কতৃপক্ষের নাম উল্লেখ করতে হবে।
৬. সমস্যা কারণে কি পরিমাণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বা সমাধান হলে কি পরিমাণ মানুষ উপকৃত হবে তা উল্লেখ করতে হবে।
৭. পাশাপাশি যিনি চিঠি লিখছেন তার পরিচয় উল্লেখ করতে হবে।
৪. পাঠকের প্রতিক্রিয়া
পাঠকের প্রতিক্রিয়া দুটো বিষয় মূলত আপনি সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া পাঠাতে পারেন।
১. দেশে বিদেশে কোনো ঘটনার উপর আপনার বিশ্লেষণী মতামত।
২. পত্রিকায় প্রকাশিত কোনো সংবাদ বা রিপোর্টের বিষয়ে আপনার অভিমত।
পাঠকের প্রতিক্রিয়া প্রত্রিকাগুলো ২ ভাবে প্রকাশ করে
১. সামাজিক মাধ্যম বা নিউজের নিচে প্রকাশিত সংবাদভিত্তিক প্রতিক্রিয়াগুলো বা সেগুলোর অংশবিশেষ একটি শিরোনামের অধীনে প্রকাশ করে সংবাদ মাধ্যমগুলো।
২. কখনো কখনো কোনো বিষয়ে সঠিক তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সংক্রান্ত পাঠক প্রতিক্রিয়া একক শিরোনামে প্রকাশ করা হয়।
উদাহরণ: একই শিরোনামে একাধিক প্রতিক্রিয়া।
এখানে বইমেলা নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে ১৮ ফ্রেব্রæয়ারী ২০২০ প্রকাশিত দর্শক পাঠক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো-
ভিডিও প্রতিক্রিয়া
আজকাল ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার বদৌলতে ভিডিও কনটেন্ট এর গুরুত্ব বেড়েছে। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। বিশেষ করে টিভি এবং ইউটিউবের জন্য ভিডিও বাইটের প্রয়োজন হয়। এখানে ৩০ সেকেন্ড এর একটি সংবাদ এর ক্ষেত্রেও প্রয়োজন হতে পারে ১৫ সেকেন্ড এর একটি সাক্ষাৎকার। ভয়েস ওভারের প্রয়োজনীয়তার কথাতো বলাই বাহুল্য। তাই অবশ্যই চেষ্টা করবেন পুরো পিআরটা না হলেও অন্তত কিছু ভিডিও বাইট বা ভিডিও প্রতিক্রিয়া টিভিতে পাঠাতে। অনেক সময় অন্য সংবাদের ভেতরে সেটাও প্রাসঙ্গিকতার কারণে প্রকাশিত হতে পারে।
আবার কখনো শুধুমাত্র ভয়েস বা অডিও বক্তব্য দিলেও সেখানে ছবি বা ইমেজ দিয়ে টিভিতে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। এজন্য একটি ভয়েস ওভার যথেষ্ঠ বা অডিও বাইট। তা সংবাদ মাধ্যমে পাঠিয়ে সাথে ছবিযুক্ত করে দিলে তাদের অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট পেতে সহজ হয়ে যায়।
বই: প্রেস রিলিজ গাইড লাইনস
লেখক: জাহাঙ্গীর আলম শোভন
