৭ জুলাই থেকে সব কাস্টম হাউসে কার্যকর, সহজ হবে পণ্য খালাস ও রাজস্ব আদায়
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত শুল্ক ও কর অনলাইনে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য ‘এ চালান’ নামে একটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করেছে। শনিবার (৫ জুলাই) এনবিআরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন অর্থবছরের শুরুতে চালু হওয়া এই ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্টরা এখন ঘরে বসেই ২৪ ঘণ্টা, সাত দিন যে কোনো স্থান থেকে শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে পারবেন। পেমেন্ট করা যাবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, উপায়, রকেট, এমক্যাশ, ট্রাস্টপে ইত্যাদির মাধ্যমে। একইসঙ্গে দেশের ৬১টি ব্যাংকের ১১ হাজার ৭০০টি শাখা থেকেও চেক ক্লিয়ারিং বা অ্যাকাউন্ট ডেবিটের মাধ্যমে শুল্ক-কর জমা দেওয়া যাবে।
শুল্ক-কর পরিশোধের পর, সিস্টেম থেকে একটি রসিদ নম্বর জেনারেট হবে, যা ব্যবহার করে সহজেই বন্দরে পণ্য খালাস নেওয়া যাবে।
এনবিআরের এ চালান ব্যবস্থা সরকারের অর্থ বিভাগের ‘আইবিএএস++’ প্ল্যাটফর্ম এবং এনবিআরের ‘অ্যাসিকুডা ওয়ার্ল্ড’ কাস্টমস সফটওয়্যারের সঙ্গে প্রযুক্তিগতভাবে সংযুক্ত। এর ফলে করদাতারা অনলাইন বা অফলাইন যেকোনো মাধ্যমেই অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন এবং সেই অর্থ সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি কোষাগারে জমা হবে। এতে সরকারের তাৎক্ষণিক ব্যয়ের সক্ষমতাও বাড়বে।
আগে আরটিজিএস পদ্ধতিতে কর পরিশোধ করলেও তা সরকারি কোষাগারে পৌঁছাতে একাধিক দিন সময় লাগত। ফলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জটিলতা দেখা দিত। নতুন এ চালান ব্যবস্থায় সেই বিলম্ব দূর হবে এবং পণ্য খালাসও হবে দ্রুততম সময়ে।
এনবিআর জানায়, গত ২৩ এপ্রিল প্রথমবারের মতো কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসে এ চালান পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়। পরে পানগাঁও কাস্টমস হাউসে এটি সম্প্রসারিত হয়। সর্বশেষ ৩ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে এ পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই ৭৫টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে ১৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব সরাসরি কোষাগারে জমা হয়।
এনবিআর আরও জানায়, আগামী ৭ জুলাই থেকে ঢাকা কাস্টম হাউসসহ দেশের সব কাস্টমস স্টেশনেই এই আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হবে।
এ বিষয়ে এনবিআরের শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসনের সদস্য মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “এ চালান চালুর মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ হবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনাও আরও সুশৃঙ্খল হবে।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশা করছে, এ চালান পদ্ধতি কেবল রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করবে না, ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও গতি আনবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

