PR or MMP, Voter Area

পিআর বা আনুপাতিক নাকি এমএমপি বা মিশ্র কোন পদ্ধতি যথাযথ

পিআর নয় এমএমপি পদ্ধতি হলো সেরা ও বহুমাত্রিক সমাধান

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থায় সারাবিশ্বের বর্তমান কিছু বড় ত্রুটি রয়েছে যেগুলো একেবারেই নীতিগত। তারসাথে রয়েছে বাংলাদেশের পদ্ধতিগত কিছু ত্রুটি। এই দুইটি বিষয় যখন কোনো সচেতন মানুষের সামনে আসবে তখন তিনি বুঝবেন যে কি ভয়ঙ্কর ভুলের পিছে আমরা দৌঁড়াই। কেন এত দল মত পরিবর্তন হওয়ার পরও মুল সিস্টেমের কোনো পরিবর্তন হয় না সে ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যাবে হয়তো । অন্তত ২৪ বছর আগে আমি বিষয়টি নিয়ে একবার লিখেছি (২০০১)। একাধিকবার বিভিন্ন পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ আমি কিছু সমন্বিত সমাধান প্রস্তাব করেছি। আজ তার আদ্যপ্রান্ত বলব।

গণতন্ত্রের ত্রুটিগুলো তুলে ধরে সেগুলো সারাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কি ধরনের ব্যবস্থা রেখেছে সেটাও থাকবে আলোচনায়।

বৈশ্বিক পর্যায়ে গণতন্ত্রের প্রধান ২টি ফাঁক ফোকর

১। ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা

ধরুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে জনগন সরাসরি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার তার অসীম ক্ষমতা দেখা যায়। মানে তিনি তখন অনেক কিছুই করতে পারেন। যদিও ইমপিচমেন্ট এর সুযোগ আছে তবুও সে প্রক্রিয়া খুব সহজ নয়। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশ এই সমস্যা কাটাতে ওমবাডসম্যান বা ন্যায়পাল ও সাংবিধানিক আদালত রেখেছে যাতে কিছু জায়গায় প্রেসিডেন্টকে আটকানো যায় বা সংসদকে জবাবদিহি করা যায়। অথবা এ ধরনের সংকট দূর করা যায়।

অনেক দেশেই প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর অসীম ক্ষমতা ঠেকাতে বা নিয়ন্ত্রিত রাখতে নানারকম সাংবিধানিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এগুলোকে বলা হয় “চেকস অ্যান্ড ব্যালান্স” (Checks and Balances)। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করে রাখা হয়, যাতে একটিমাত্র ব্যক্তি বা দফতর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হতে না পারে।

যেমন জার্মানিতে শক্তিশালী ফেডারাল সিস্টেম ও শক্তিশালী সাংবিধানিক আদালত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রধানত আনুষ্ঠানিক। সেখানে চ্যান্সেলর (PM সমতুল্য) পার্লামেন্টের প্রতি দায়বদ্ধ, প্রেসিডেন্ট মূলত শপথ ও প্রতীকী কাজ করেন।

ফ্রান্সে রয়েছে- সেমি-প্রেসিডেনশিয়াল সিস্টেম এতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতা ভাগ (কো-হাবিটেশন হলে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ভিন্ন দল থেকে হয়)।

২।  কম শতাংশ ভোটে জয়ী হওয়া

এবার আসি ভোটের হিসেবে। মনে করুন একটি নির্বাচনে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ২০ শতাংশ ভোট পেলেন। বাকীরা  ১৮% ,১৬% , ১৫% , ১৪% কেউ ১২% , ৫%। এভাবে ভোট পাওয়ার পর মাত্র ২০% ভোট পেয়ে একজন নির্বাচিত হলেন। বাকীরা হেরে গেলেন। তারচেয়ে কম ভোট পেয়ে। এতে দেখা গেল যিনি জয়লাভ করেছেন তার বিরুদ্ধে ৮০% ভোট পড়েছে। মানে জনগনের একটা বিরাট অংশ যাকে পছন্দ করে না, সে নির্বাচিত হয়েছে। ব্যাপারটা কিছুটা এরকম পুরোপুরো হয়তো নয়। আবার হয়তো এটাই সত্যি। কারণ ২জন প্রার্থী হলে ব্যাপারটা হয়তো বোঝা যেত। কিন্তু আবার সে ২ জনের কাউকে যদি আমি পছন্দ না করি তাহলে কি হবে? আমারতো ‘‘না’’ ভোট দেয়ার সুযোগ নেই।

আপনি বিগত নির্বাচনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখবেন। বিজয়ীদের বিপক্ষে ৬৫-৭০% শতাংশ ভোট পড়েছে। গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র এটা কি তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। বাংলাদেশে কেউ কেউ এই কারণে অন্যের ভোট কাটতে অর্থসংযোগে বিরোধীমতের একজনকে ডামি প্রার্থী বানানোর মতো কৌশলও ব্যবহার করে থাকেন।

এখন সমাধান কি?

প্রার্থীও কমানো যাবে না। আর জয়ী প্রার্থীর ভোটতো ৮০% করে দেয়া যায়না। জনগন কাকে ভোট দেবে। সেটা তাদের ব্যাপার।

কিন্তু এটিও সমাধানযোগ্য শুধু তাই এই সমস্যা সমাধানের একাধিক পথ আছে। প্রথম বিষয় হলো বিজয়ী হবেন সংখ্যাগুরু ভোটে। আর বিরোধী মত বা ভোটার পছন্দকেও সম্মান দিয়ে তার মতামত রাষ্ট্র গঠনে কাজে লাগানো হবে।

দ্বি-দফা ভোট

এজন্য অনেক দেশে নির্বাচনী বিজয়ী প্রথম এবং দ্বিতীয় মানে নিকটতম প্রতিদ্ধন্ধি এই দুইজনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভোট হয়। এটা ১ সপ্তাহ বা ১ মাস বা ৩ মাস পরে হতে পারে। তাতে কেউ একজন অর্ধেকের চেয়ে ১ ভোট হলেও বেশী পান তাতে তিনি জিতে যান। এটি মূলত রান-অফ ভোটিং (Runoff voting) বা দ্বি-দফা ভোট (Two-round system) নামে পরিচিত। এছাড়া কাউকে পছন্দ না হলে সেজন্য No Vote/ না ভোটও থাকে।

ফ্রান্স, ব্রাজিল, রাশিয়া, তুরষ্ক, চিলি, ইউক্রেন, পূর্তগাল, রোমানিয়া, পোল্যান্ড ও মরক্কোতে এভাবে ভোট হয়। এবং দ্বিতীয় পর্বে বিজয়ী প্রার্থী ৫০%+ ভোট পান। আর না ভোটের প্রচলণ রয়েছে বিশ্বের অর্ধ শতাধিক দেশে।

বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জ

অধিকন্তু বাংলাদেশে এই পদ্ধতির ২টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত-  নির্বাচনের ব্যয়, ও দ্বিতীয় দফায় সুষ্ঠু নির্বাচন যদিও এদেশে প্রথম দফাই সুষ্ঠু নির্বাচনের আশংকা থেকে যায়। দ্বিতীয়ত- নির্বাচনের ব্যয় প্রার্থী এবং সরকারের।

অন্য একটি পদ্ধতি হলো হেরে যাওয়া বা প্রতিন্ধন্ধী প্রার্থীদের ক্ষমতার কোনো একটা জায়গায় অঙ্গীভূত করা। বর্তমান বিশ্বে যেসব পদ্ধতি রয়েছে সেগুলো হলো যুক্ত রাজ্যে ছায়া সরকার ব্যবস্থা, এতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে বিরোধীদল থেকে একজন ছায়ামন্ত্রীও থাকেন। তার কোনো কাজের ক্ষমতা না থাকলেও তিনি চাইলে তথ্য পেতে পারেন।

সমাধানে অন্যান্য দেশ

কানাডাতে সংসদীয় কমিটিতে বিরোধীদলের প্রতিনিধিত্ব থাকে। সুইজারল্যান্ড, লেবানন, কেনিয়ায় ক্ষমতার ভাগাভাগি করে কোয়ালিশন সরকার হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিরোধী দলের নেতৃত্বে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠিত হয়। জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, সুইডেন আনপাতিক নেতৃত্ব থাকে।

প্রথমত, ছায়া সরকার এদেশে হতে পারে। এটা শুধু আসলে নামে ছায়া সরকার হলেও অন্তত একধাপ আগাবে। সরকারী কোনো ক্ষমতা সাধারণতা তাদের থাকে না। থাকতে পারে ছায়ামন্ত্রীও। যিনি সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রীকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে কাজ করবেন। এছাড়া সংসদীয় কমিটিতে অন্তত সহ-সভাপতি বিরোধী দল থেকে রাখা যায়। অন্য বিষয়গুলো স্বাভাবিক অবস্থায় বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়।

সমাধান

তাহলে কি করা যায়? ছায়া সরকারতো হবে যে দল বেশী আসন পাবে না। মানে ছায়া সরকারে তারা থাকবে যারা বা যে প্রার্থী জিতেছে। কিন্তু হেরে যাওয়া প্রার্থীরতো কিছু হলো না। তাই সকল প্রতিদ্ধন্ধী প্রার্থীকে নিয়ে ‘‘ছায়া সংসদ’’ হতে পারে। এদের নিয়মিত অধিবেশন জরুরী নয়। বছরে ২/৩টা অধিবেশন আর বেতন ভাড়া ও সুযোগ সুবিধার বদলে ‘‘অধিবেশনে যোগদান সম্মানি দেয়া যেতে পারে। এই অধিবেশন থেকে বিভিন্ন সুপারিশ সংসদে প্রেরণ করার বিধান রাখতে হবে। হয়তো এখানে বিরোধীদলের লোক বেশী থাকবে হয়তো এখানে হৈচৈ বেশী হবে তাতে কি? জনগনের মতামতকে সম্মান এবং প্রার্থীদের মতামত জানা এই দুটো কাজতো হবে। এতে নিকটতম প্রতিদ্ধন্ধি হওয়ার লড়াইটাও জমে উঠবে। এবং জনগন ভোট দেয়ার বিষয়ে আরো সচেতন হয়ে উঠবে।

এর পাশাপাশি যারা ১০% এর বেশী ভোট পাবে তাদেরকে বিভাগীয় ছায়া পরিষদ গঠন করতে হবে। তারাও একই ভাবে মতামত মূল সংসদে কার্যবিবরনী আকারে পাঠাতে পারবে। তাদের স্পিকারের জায়গায় পরিষদ-পতি, অধিবেশন ইত্যাদি সংবিধানে যুক্ত হবে যদি মুল সুপারিশ যুক্ত হয় এবং সবাই একমত হয়।

বলে রাখা ভাল আমার প্রস্তাব অনুযায়ী সংসদ ত্রিকক্ষ বিশিষ্ঠ হবে এবং বিভাগীয় সাংসদ ফোরাম ও বিভাগীয় উন্নয়ন পরিষদ থাকবে। বিভাগীয় উপ সংসদে তারা বসবেন। প্রথম কক্ষ প্রচলিত পদ্ধতিতে সরাসরি নির্বাচিত ৩০০ জন এবং পিআর পদ্ধতির ১০০ জন মোট ৪০০ জন। দ্বিতীয় কক্ষ: পেশাজীবি প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রতিনিধি সভা ১০০ জন, তৃতীয় কক্ষ- ছায়া সংসদ ৩০০ জন। পরের দুটি কক্ষ শুধু নানা সুপারিশ ও মতামত প্রথম কক্ষে প্রেরণ করবেন। আইন প্রণয়ন প্রথম পক্ষে হবে।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ২টি ফাঁকি

এবার বাংলাদেশে নিজস্ব দুটো মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে এই নির্বাচনী ব্যবস্থায় সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক। প্রয়োগজনিত ত্রুটিরতো শেষ নেই। সেগুলোর শুধু তালিকা করলে সে মাপের কাগজ বাজারে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। আমি শুধু নীতিগত ত্রুটিটাই বলব।

১। দরকার আইন প্রণেতা প্রার্থী আসলে মাঠ নেতা

বিষয়টা হচ্ছে আপনার দরকার একজন সিইও কিন্তু আপনি নিয়োগ দিচ্ছেন ফিল্ড অফিসার। দুজনেই লিডার কিন্তু ভুল জায়গায় কাজ করতে দেয়া হচ্ছে লোকদের। সিস্টেমটাই এভাবে তৈরী করা হয়েছে। তাই যারা ৭২ এর সংবিধান রক্ষার কথা বলেন তারা এদেশকে তলানিতে ফেলে রাখতে চান?

দেখুন ব্যাপারটা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি একজন প্রার্থীকে যাকে ভোট দিচ্ছেন। তিনিযে একজন সাংসদ ও দেশের আইন তৈরী করবেন এটা তিনি জানে ন না। তার পোষ্টারে লেখা থাকে এলাকার উন্নয়ন করার সুযোগ দিন। অথচ সংবিধান ও শপথ অনুযায়ী এটা তার কাজ নয়। উন্নয়নের জন্য জনপ্রতিনিধি থেকে সরকারের আরো নানা এজেন্সি ও নানা স্তর রয়েছে। এবং বাস্তবেও সে ব্যক্তি কন্টাকটরি, টেন্ডারবাজি এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আইন কি খায় না পরে এটা বেশীরভাগ সাংসদ জানে না। তাকে বিরোধীদল দমনের জন্য সন্ত্রাসী পালতে হয়। আর এজন্য বিগত দিতে সন্ত্রাসের গডফাদারদের বানানো হয়েছে সাংসদ, মেয়র আর চেয়ারম্যান।

এতে  জনগন সবসময় কনফিউশনে থাকেন। কাকে ভোট দেবেন। দল ভালো হলে প্রার্থী ভাল হয় না। প্রার্থী ভাল হলে দল ভাল হয় না। ভাল একজন প্রার্থীকে তার ভোট দেয়ার ইচ্ছে থাকলেও দলের জন্য দিতে পারেন না। আবার দলের কারণে খারাপ ব্যক্তিকে ভোট দিতে হয়। প্রার্থীর যেমন রয়েছে ভুলচারিতা আর ভোটারদের রয়েছে দ্বিচারিতা। না সঠিক নির্বাচনে দাঁড়ান না ভোটারদের সঠিক প্রার্থীকে ভোট দেয়ার সুযোগ রয়েছে! এভাবে ভুল সিস্টেম বছরের পর বছর ভুল মানুষকে ক্ষমতাই বসিয়ে ভুলভাবে দেশচালানো হচ্ছে। আমি ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকার একটি কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে ব্যালটপেপারে লিখে দিয়েছিলাম। ‘‘নির্বাচন পদ্ধতি পছন্দ না হওয়ায় এভাবেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করলাম’’।

২। মতামতের হিসেব নয় জেতার হিসেব

নির্বাচনের সময় প্রচারণা চালানো হয়। অমুক ছোট দলের প্রার্থী সে জিতবেনা। তাকে ভোট দিলে ভোট পঁচে যাবে। এবং ভোটারটাও ভাবে মিস্টার অমুক ভাল লোক। কিন্তু তাকে আমি একা ভোট দিয়ে লাভ কি উনিতো জিতবেনা। এভাবে ভাল প্রার্থী ২/১ জন থাকলেও তারা হেরে যান। আবার বেশীরভাগ ভাল যোগ্যতা এবং দেশের জন্য কাজ করার আগ্রহ থাকলেও পদ্ধতিগত এসব ত্রুটির কারণে নির্বাচনে প্রার্থী হন না। ফলে যুগের পর যুগ লুটেরা শ্রেণীর লোকদের একটা অংশ বা বিশাল অংশ এদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে।

অথচ একটা নির্বাচন শুধু কারো জয় বা পরাজয়ের জন্য নয়। বরং জনগন কি ভাবছে কোন পদ্ধতিকে কতজন সমর্থন দিচ্ছে? কোন ব্যক্তিকে কতজন পছন্দ করছে? কোন ব্যক্তির কর্মকান্ড জনগন সমর্থন করছে কার কাজ সমর্থন করছেনা সেটাও জানার জন্য নির্বাচন হয়। আর এদেশের ভুল পদ্ধতির কারণে জনগন যা বলতে চায় তা ব্যালটে লিখতে পারে না। জনগন কি ভাবে সেটা ভোটের ফলাফলে প্রকাশ পায়না। আর এভাবে চলছে ভুল দিকে দেশের ট্রেন। আর এজন্যই মৌলিক সংষ্কার ছাড়া দেশের সমস্যার কোনো সমাধান হবে না।

সমস্যার সমাধান হিসেবে পিআর পদ্ধতির প্রস্তাব এসেছে। তাহলে আমি জেনে নিতে চাই-

পিআর পদ্ধতি কি?

সহজ কথা হলো কোনো প্রার্থী থাকবেনা। দলকে ভোট দিতে হবে। সারাদেশে যতদল থাকবে। তারমধ্য থেকে জনগন শুধু দলের মার্কায় ভোট দিবে। কোনো প্রার্থী থাকবেনা। সারা দেশে একটি দল যত ভোট পাবে। তারা সে অনুপাতে আসন পাবে। ১০০ আসনের মধ্যে যারা ৪০% ভোট পাবে তারা ৪০ আসন পাবে। যারা ১০% ভোট তারা ১০ আসন পাবে।

সুবিধা

এর সুবিধা হলো  স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তি কেন্দ্রিক রেষারেষি হয়তো হবে না। টাকার খেলা কম থাকবে। মানুষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিবে কে কোন দলকে ভোট দিবে। ভোট পাওয়ার আশায় যে অনিয় ও স্বজনপ্রীতি হয় সেটা কমে আসবে।

তবে এর দ্বারা ছোট ছোট দলগুলোর ২/৪জন সাংসদ থাকতে পারে। তাতে এই দলগুলো সংসদ ও রাষ্ট্রপ্রক্রিয়ার তাদের চিন্তা, আদর্শ ও পরামর্শ দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

সমাধানযোগ্য অসুবিধা

আর অসুবিধা হলো, সারা দেশে ১০০ দল থাকলে ১০০ মার্কা দিতে হবে এবং বাংলাদেশের পুরো ব্যবস্থা এর অনুকূলে গড়ে উঠেনি। এছাড়া জনপ্রতিনিদেরকে জনগণ কাছে পাবে না।  যদিও মৌলিক কাঠামোগত সংষ্কারের মাধ্যমে মার্কা এবং অনুকূল ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে প্রায় ৩টি লেয়ার রয়েছে। সংসদেরা হবেন আইন প্রণেতা তারা জনগনের ঘরের কাছের হওয়া জরুরী নয়। তাছাড়া তারাতো কোনো কোনো ভাবে এই সমাজেরই বাসিন্দা। এটাও ঠিক আছে।

বাংলাদেশের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না এমন অসুবিধা

কিন্তু যে সমস্যা অকাট্য সেটা হলো, রাজনৈতিক দলগুলো এই পদগুলো বিক্রি করতে পারে। এবং তারা ভুল লোককে নির্বাচিত করতে পারে। যদিও এখনো বিক্রি হচ্ছে তখন ৪০% হিসেবে ১২০ আসন বিক্রি করবে এখন ৩শ আসন করছে। যদিও বর্তমান প্রক্রিয়ায় ১০% সঠিক ও যোগ্যলোক হয়তো নির্বাচিত হয়। বাকীরাতো ‘‘মাশাআল্লাহ’’। বিগত দিনের সাংসদ নয় শুধু মন্ত্রী পরিষদ তালিকা দেখলে তা পরিষ্কার হয়ে যায়।

পিআর পদ্ধতির আরেকটি সমস্যা হলো, স্বতন্ত্র বা দলহীন প্রার্থীদের নির্বাচনের সুযোগ থাকবেনা। এটা গণতন্ত্রের মূল