গ্রীস শেঙ্গেন ভিসা প্রসেসিং গাইড
গ্রীস ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য। প্রাচীন ইতিহাস, মনোরম সমুদ্র সৈকত এবং উজ্জ্বল সংস্কৃতি এই দেশকে পর্যটকদের কাছে বিশেষ করে তুলেছে। এথেন্সের ঐতিহাসিক স্থাপনা থেকে সান্তোরিনি দ্বীপের নীল-সাদা সৌন্দর্য—গ্রীস ভ্রমণ ভিসা আবেদনকারীদের স্বপ্নের জায়গা। তবে এই দেশ ভ্রমণের জন্য শেঙ্গেন ভিসা প্রয়োজন হয়। ভ্রমণের আগে ভিসা আবেদনের ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সতর্কতার বিষয়গুলো জানা জরুরি।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
গ্রীস শেঙ্গেন ভিসার জন্য আবেদনপত্র ইংরেজি বা গ্রিক ভাষায় পূরণ করতে হবে। যদি কোনো নথি অন্য ভাষায় হয়, তবে সেগুলো ইংরেজি বা গ্রিক ভাষায় অনুবাদ করতে হবে।
-
বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ২টি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও ৩ মাস বৈধ থাকতে হবে, সর্বোচ্চ ১০ বছরের মধ্যে ইস্যু হতে হবে, স্বাক্ষর থাকতে হবে)
-
আগের পাসপোর্ট (যদি থাকে)
-
পাসপোর্ট সাইজ ছবি (৩.৫ x ৪.৫ সেমি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, গত ৬ মাসের মধ্যে তোলা, মুখ পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান)
-
পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র
-
বায়োমেট্রিক ডেটা (ফিঙ্গারপ্রিন্ট)
-
ভিসা ফি
-
ভ্রমণ সম্পর্কিত নথি যেমন ট্রাভেল ইটিনারারি, ফিরতি টিকেট বা পরবর্তী যাত্রার প্রমাণ, ভ্রমণের কারণ, ফ্লাইট বুকিং
-
আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ (গত ৩ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সম্পত্তি বা অন্যান্য সম্পদ)
-
আবাসনের প্রমাণ (হোটেল বুকিং রেফারেন্স নম্বর, অবস্থান ও যোগাযোগ নম্বর)
-
ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা (সর্বনিম্ন কভারেজ ৩০,০০০ ইউরো, পুরো শেঙ্গেন এলাকায় বৈধ হতে হবে)
-
চাকরির প্রমাণপত্র (নিয়োগকর্তার নাম-ঠিকানা, চাকরির ধরন, বেতন, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও ছুটির সময়কাল উল্লেখ করতে হবে)
-
প্রয়োজনীয় কপি যেমন পাসপোর্ট আইডি পৃষ্ঠা, আগের শেঙ্গেন ভিসা, রেসিডেন্স পারমিট (যদি থাকে)
অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত নথি
-
জন্ম সনদের কপি
-
দত্তক নেওয়া হলে দত্তক সংক্রান্ত নথি
-
পিতামাতা বিবাহ বিচ্ছিন্ন হলে ডিভোর্স সনদ
-
কোনো পিতা-মাতা মৃত হলে মৃত্যু সনদ
-
দুই অভিভাবক বা অভিভাবকের সম্মতিপত্র
-
পিতামাতা বা অভিভাবকের পাসপোর্ট কপি
গ্রীস ভিসা ফি
-
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৮০ ইউরো
-
৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ফি নেই
-
কিছু স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রেও ফি মওকুফ হতে পারে
-
অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আলাদাভাবে দিতে হবে, যা ফেরতযোগ্য নয়
আবেদন প্রক্রিয়া
-
সব কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
-
আবেদনপত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য “Tourism” নির্বাচন করুন
-
একবার বা একাধিকবার প্রবেশের প্রয়োজন নির্ধারণ করুন
-
আবেদনপত্র পূরণ করুন ও প্রিন্ট কপি জমা দিন
-
গ্রীক কনস্যুলেট বা ভিসা সেন্টারে সময় নির্ধারণ করুন (কিছু ক্ষেত্রে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া জমা দেওয়া যায়)
-
বায়োমেট্রিক ডেটা দিন (১২ বছরের নিচে শিশুদের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ লাগবে না, তবে ৫ বছর থেকে ছবি বাধ্যতামূলক)
-
ভিসা ফি পরিশোধ করুন
কখন আবেদন করবেন
ভ্রমণের তারিখের অন্তত ১৫ দিন আগে আবেদন করতে হবে। তবে ভ্রমণের ৬ মাসের বেশি আগে আবেদন করা যাবে না। নিকটস্থ গ্রীক কনস্যুলেটে আবেদন জমা দিতে হবে। যদি কোনো দেশে গ্রীক কনস্যুলেট না থাকে, তবে অন্য শেঙ্গেন দেশের কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। আবেদন শুধুমাত্র নিজের দেশ বা বসবাসরত দেশ থেকেই জমা দেওয়া সম্ভব। সাধারণত ১৫ দিনে ভিসা প্রসেস হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ৬০ দিনও লাগতে পারে।
অনুমোদিত ভিসার পর করণীয়
ভিসার তথ্য সঠিক আছে কিনা যাচাই করুন। যাত্রার পরে কোনো পরিবর্তন হলে কনস্যুলেটকে জানান। মনে রাখবেন, ভিসা পাওয়া মানেই প্রবেশ নিশ্চিত নয়। প্রবেশের সময়ও আর্থিক সামর্থ্য বা আবাসনের প্রমাণ চাইতে পারে। প্রত্যাখ্যানের নোটিশে কারণ উল্লেখ থাকবে। প্রত্যাখ্যানের ৩ সপ্তাহের মধ্যে আপিল করার সুযোগ আছে।
ভ্রমণ সতর্কতা
পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি সবসময় আলাদা ফোল্ডারে রাখুন। স্থানীয় আইন-কানুন মেনে চলুন। ভ্রমণ বীমার শর্তগুলো যাচাই করুন। জাল নথি জমা দিলে ভিসা বাতিল হবে। প্রবেশ বন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত নথি চাইতে পারেন, তাই সব কপি সঙ্গে রাখুন।

