খ্রিষ্ঠান ধর্ম আধুনিক বিজ্ঞানের সাংঘর্ষিকতা,  চার্চগুলোর উদ্যোগ নিয়েছে? এবং অনুসারীরা   

খ্রিষ্ঠান ধর্ম আধুনিক বিজ্ঞানের সাংঘর্ষিকতা,  চার্চগুলোর উদ্যোগ নিয়েছে? এবং অনুসারীরা   

ধর্ম  বিশ্বাস অন্যদিকে বিজ্ঞান থেকে মানুষ জ্ঞান আহরণ করে। খ্রিস্টধর্ম অন্যতম একটি বৃহৎ ধর্ম যা মানুষকে দীর্ঘসময় ধরে মূল্যবোধ, নীতি নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার বাণী শুনিয়ে আসছে। অন্যদিকে আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণের মাধ্যমে ফোন একটি বিষয় আলোচনা করে। দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার জন্য ইতিহাসে অনেক সময় বিজ্ঞান ও খ্রিষ্ট ধর্মের মধ্যে সংঘাত দেখা দিয়েছে। এই বিষয়গুলো  নিয়ে আজকের আলোচনা। 

আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে খ্রিস্ট ধর্ম যে বিষয়গুলিতে সাংঘর্ষিক 

বাইবেলের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে খ্রিস্টধর্ম প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। অন্যদিকে আধুনিক বিজ্ঞান যথাযথ গবেষণা, পর্যবেক্ষণ, যুক্তি ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করে। তাই কিছু বিষয় রয়েছে যেখানে মতপার্থক্য রয়েছে-

১. বাইবেলে বলা রয়েছে এই এই বিশ্ব ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে কিন্তু বিজ্ঞানের মতে বিগ ব্যাং ও বিবর্তনের মাধ্যমে কোটি কোটি বছর ধরে উদ্ভব হয়েছে পৃথিবী ও প্রাণীর। 

২. বাইবেলে আদম ইভের কথা বলা রয়েছে কিন্তু বিজ্ঞান বলে আসছে মানুষ বিবর্তনের মাধ্যমে প্রাচীন প্রাইমেট থেকে এসেছে। 

৩. বাইবেলের হিসাব মতে পৃথিবী মাত্র কয়েক হাজার বছরের পুরনো হতে পারে কিন্তু বিগ ব্যাং থিওরির মাধ্যমে বিজ্ঞান প্রমাণ করছে পৃথিবীর বয়স  প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন বছর।  

৪. বাইবেলের বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা যেমন যীশুর  মৃতকে  জীবিত করা,  পানির উপরে যীশুর হাটা এগুলি বিজ্ঞানসম্মত ভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। 

সমস্যা নিরসনে চার্চ ও আর্চবিশপদের নেওয়া উদ্যোগ

ধর্ম ও বিজ্ঞানের এই সংঘাত দূর করতে চার্চ ও আর্চবিশপরা বিভিন্ন সময় যেসব উদ্যোগ নিয়েছেন-

  • আজকাল ভ্যাটিকানের ক্যাথলিক চার্চ স্বীকার করেন যে বিগ ব্যাং ও বিবর্তন তত্ত্ব পুরোপুরিভাবে বাইবেলের শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক নয় বরং এই প্রক্রিয়া ঈশ্বরই শুরু করেছেন বলে তারা মনে করেন। 
  • আধুনিক পোপ ও আর্চবিশপ বিজ্ঞানের অবদানকে স্বীকার করেন। যেমন পোপ ফ্রান্সিস বলেন, পরিবেশ রক্ষায় ও জলবায়ু পরিবর্তনে বিজ্ঞানের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। 
  • চার্চগুলো ধর্মতত্ত্ববিদ এবং বিজ্ঞানীদের ভিতরে সংলাপ, গবেষণা ও সম্মেলনের মাধ্যমে সেতুবন্ধন রচিত করতে চান যাতে বিশ্বাস ও বিজ্ঞান  উভয়ের সমন্বয় হয়। 
  • খ্রিস্টান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে একসাথে ধর্ম ও বিজ্ঞান পড়ানো হয় এতে ছাত্ররা দুইদিকে বুঝতে পারবে। এছাড়াও ভুল তথ্য, জনশ্রুতি ও বৈষম্য কমাতে লেকচার সিরিজ, স্কুলের কারিকুলাম আপডেট প্রভৃতি চালু করা আছে। 

অনুসারীগণ যেভাবে দেখে 

খ্রিস্টানরা ধর্মকে শুধু বিশ্বাস হিসেবে নয় বরং জীবনের নিয়ম মনে করেন। ধর্ম ও বিজ্ঞান কে তারা যেভাবে দেখেন-

বিজ্ঞান ও ধর্মের মিল 

খ্রিস্টান অনেকেই মনে করেন, কোন বিষয় কিভাবে হয় তা বিজ্ঞান আলোচনা করে আর ধর্ম আলোচনা করে বিষয়টি কেন হয়। সংঘাত হিসেবে নয় বরং তারা পরিপূরক হিসেবে চিন্তা করেন। 

মূল বিশ্বাস

অধিকাংশ খ্রিষ্টান চার্লসের নিয়মিত যায়, বাইবেল পড়ে, প্রার্থনা করে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যিশুর শিক্ষাকে প্রয়োগ করার চেষ্টা করে। 

বাস্তবতা মেনে নেওয়া 

নতুন প্রজন্মের খ্রিস্টানরা বাইবেল কি দেখে প্রতীকীভাবে। তাদের কাছে ধর্ম হলো বিশ্বাস যা আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শন করে বৈজ্ঞানিক তথ্য নয়। 

মানব কল্যাণ করে 

খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীরা দানশীলতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ রক্ষায় আগ্রহভরে অংশগ্রহণ করে। 

বিজ্ঞান ও খ্রিস্ট  ধর্মের মধ্যে সংঘাত থাকলেও বর্তমানে চার্চ ও আর্চবিশপরা সমঝোতার দিকে এগিয়েছে। তারা ধর্মবিশ্বাসকে দেখে জীবনের আলো হিসেবে এবং উন্নতি সাধনের জন্য বিজ্ঞানকে গ্রহণ করে । তাই বলা যায় আধুনিক বিজ্ঞান ও খ্রিস্টধর্ম এখন অনেক ক্ষেত্রে সহাবস্থানের পথে রয়েছে। 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply