কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম

কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম

কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

একটি এলাকার বসবাসকৃত মানুষের মাঝে পারস্পরিক সহ- যোগিতার মাধ্যমে, বৈষম্য দূরীকরণ, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে তাদেরকে কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজমে কাজে লাগানো হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বলা যায় বাংলাদেশে সামাজিক পর্যটন এর উদ্দেশ্য হবে স্থানীয় ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে সংরক্ষণ করা। দেশীয় ও লোকজ সংস্কৃতির মাধ্যমে আমাদের দেশীয় নিজস্বতাকে তুলে ধরা। স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সম্পর্ক গড়ে তোলার পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পর্যটন উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা।
একটি এলাকায় পর্যটকদের বিভিন্ন সেবার প্রয়োজন হয়। এগুলো স্থানীয় উৎস থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা সংকুলান করবেন। এটা বিচ্ছিন্নভাবে না হয়ে সংগঠিত ও দায়িত্বপূর্ণভাবে করা হবে। এটাই হলো কমিউনিটি ট্যুরিজম বা সিবিটির মূল কথা। সিবিটির মাধ্যমে শুধু ট্যুরিস্ট কল্যাণ হবে না, এলাকার এবং এলাকার মানুষের আর্থিক কল্যাণও সাধিত হবে।
কমিউনিটি ট্যুরিজমের মূল ধারণা হলো, একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষ ও প্রকৃতিকে তুলে ধরা এবং সম্পৃক্ত করা। এখানকার মানুষ ও তাদের জীবনকে জানা। এবং তাদের সংস্কৃতিকে সম্মানের সহিত তুলে ধরা। পাশাপাশি এর মাধ্যমে গ্রামের প্রান্তিক সরাসরি উপকার পাবেন। এ ধরনের ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হলে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এর বুনিয়াদ শক্তিশালী হয়।
ইতোমধ্যে বলিভিয়া, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড, সোয়াজিল্যান্ড এমনকি কম্বোডিয়ার মতো দেশ কমিউনিটি ট্যুরিজমকে কাজে লাগিয়ে দশগুণ পর্যন্ত বেশী পর্যটন আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
কম্বোডিয়াও এক্ষেত্রে ঈর্ষনীয় সাফল্য ছু’তে পেরেছে। যেমন ১৯৯৮ সালে কম্বোডিয়ায় আসা পর্যটক সংখ্যা ছিলো ৯৬ হাজার । এর মধ্যে কম্বোডিয়ার বেশকিছু এলাকায় কমুইনিটি বেজড ট্যুরিজম প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। । ২০০৬ সালে এসে কম্বোডিয়ায় পর্যেটকের সংখ্যা দাড়ায় ২০ লাখে ।
বলিভিয়ায় কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল (সিআই) যৌথভাবে ১৯৯৫ সালে ecolodge প্রকৃতি ভিত্তিক পর্যটন যাত্রা শুরু করে। ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রামবাসী নিজেরা পরিপূর্ণভাবে সিআই থেকে প্রকল্পের মালিকানা লাভ করে। বর্তমানে এই প্রকল্প থেকে ৭৪টি পরিবার কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণ পেয়ে থাকে।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মাউলিনং নামে ছোট গ্রামটি আজ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে এখানে দেশ বিদেশ থেকে হাজারো পর্যটকে শুধুমাত্র একটি গ্রাম দেখার জন্য সেখানে ছুটে যায়। এই গ্রামের প্রতিটি বাড়িই এখন একেকটি অতিথিশালায় । এটা সম্ভব হয়েছে কমিউনিটি ট্যুরিজম কারণে।
এবার বাংলাদেশের পালা। আমাদের সমস্যা নেই, সেটা আমি বলবোনা কিন্তু সমস্যার গায়ে হেলান দিয়ে বসে থাকার মানে নেই। আমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে। আর তাই সিবিটি বা কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম হলো সে কাজ যা আমাদের এই সময়ে করা উচিত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply