অ্যামিশ: মৌলকে ধরে রাখা এক আমেরিকান জাতিসত্ত্বা

অ্যামিশ: মৌলকে ধরে রাখা এক আমেরিকান জাতিসত্ত্বা

অ্যামিশ: মৌলকে ধরে রাখা এক আমেরিকান জাতিসত্ত্বা

অ্যামিশ সম্প্রদায়ের জীবনধারা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং সামাজিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাদের জীবনযাপন আধুনিক প্রযুক্তি থেকে দূরে, সরলতা এবং সম্প্রদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে। নিচে অ্যামিশদের জীবনধারার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

পরিবার

পরিবার অ্যামিশ সমাজের মূল ভিত্তি। সাধারণত একটি পরিবারে সাত থেকে দশটি সন্তান থাকে, যা সম্প্রদায়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। চারজনের মধ্যে প্রায় তিনজন সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গির্জায় বাপ্তাইজিত হয়ে থেকে যায়। বেশ কয়েক প্রজন্ম একই ছাদের নিচে বসবাস করে, যা পরিবারে ধারাবাহিকতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। বয়স্ক সদস্যদের সম্মান ও যত্ন প্রদান করা হয়, এবং তারা প্রায়শই বাড়ির সাথে সংযুক্ত বিশেষ অংশে বসবাস করেন। অ্যামিশরা সাধারণত সামাজিক নিরাপত্তা গ্রহণ করে না এবং নার্সিং হোম ব্যবহারে বিরত থাকে।

পোশাকের ধরন

অ্যামিশদের সরল পোশাক তাদের বিশ্বাস, পবিত্রতা এবং সমাজ থেকে পৃথক থাকার প্রতীক। এটি গোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্য এবং পরিচয় প্রদর্শন করে, পাশাপাশি গোষ্ঠীর মানদণ্ড মেনে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

পুরুষদের পোশাক: গাঢ় রঙের স্যুট, সোজা-কাটা কোট (ল্যাপেল ছাড়া), ব্রডফল ট্রাউজার, সাসপেন্ডার, সলিড-রঙের শার্ট, কালো মোজা ও জুতা, এবং কালো বা খড়ের চওড়া-ব্রিমযুক্ত টুপি পরিধান করেন। শার্টে সাধারণ বোতাম ব্যবহার করা হয়; স্যুট কোট এবং ভেস্ট হুক এবং আই দিয়ে বন্ধ করা হয়। পুরুষরা গোঁফ রাখেন না এবং সাধারণত বিবাহের পর দাড়ি রাখতে শুরু করেন।

নারীদের পোশাক: মেয়েরা লম্বা হাতার এবং পূর্ণ স্কার্টের সলিড-রঙের পোশাক, কেপ এবং অ্যাপ্রন পরেন। পোশাকগুলি সোজা পিন বা স্ন্যাপ দিয়ে বন্ধ করা হয়। চুল কখনো কাটা হয় না এবং মাথার পিছনে বান করে রাখা হয়, যা প্রার্থনা কভারিং দিয়ে আবৃত থাকে। অবিবাহিত নারীরা গির্জার সেবায় কালো প্রার্থনা কভারিং পরেন; বিবাহিত নারীরা সাদা কভারিং ব্যবহার করেন।

ভাষা

অ্যামিশরা সাধারণত তিনটি ভাষা ব্যবহার করে:

পেনসিলভানিয়া ডাচ: প্রধানত বাড়িতে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে কথোপকথনে ব্যবহৃত হয়।

উচ্চ জার্মান: ধর্মীয় সেবায় ব্যবহৃত হয়।

ইংরেজি: বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।

বিদ্যুৎ এবং প্রযুক্তি ব্যবহার

অ্যামিশরা সাধারণত বিদ্যুৎ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে বিরত থাকে, কারণ তারা বিশ্বাস করে যে এগুলি তাদের সমাজে বাইরের প্রভাব নিয়ে আসতে পারে এবং সম্প্রদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, কিছু অ্যামিশ সম্প্রদায় সীমিত পরিমাণে প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যেমন ব্যাটারি-চালিত লাইট বা প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটর।

পরিবহন

অ্যামিশরা ঘোড়ার গাড়ি (বাগি) ব্যবহার করে যাতায়াত করে, যা তাদের সরল জীবনধারার প্রতীক। তারা মোটরগাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকে, তবে প্রয়োজনে বাইরের পরিবহন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারে।

অর্থনীতি

অ্যামিশদের প্রধান জীবিকা কৃষি, বিশেষ করে দুগ্ধ খামার, শস্য চাষ এবং বাগান করা। তারা হস্তশিল্প, কাঠের কাজ এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসার সাথেও জড়িত। অ্যামিশরা সাধারণত কর প্রদান করে, তবে সামাজিক নিরাপত্তা এবং বীমা সুবিধা গ্রহণ করে না।

বিনোদন

অ্যামিশরা বিনোদনের জন্য সাধারণত পরিবার এবং সম্প্রদায়কেন্দ্রিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে, যেমন পিকনিক, খেলাধুলা এবং সামাজিক সমাবেশ। তারা টেলিভিশন, রেডিও বা ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকে।

স্বাস্থ্য চর্চা

অ্যামিশরা প্রাথমিকভাবে প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে। তবে, গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে তারা আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। তারা স্বাস্থ্য বীমা ব্যবহার করে না এবং চিকিৎসা খরচ সাধারণত পরিবার বা সম্প্রদায়ের মাধ্যমে মেটানো হয়।

অ্যামিশদের জীবনধারা সরলতা, সম্প্রদায় এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা তাদের আধুনিক সমাজ থেকে পৃথক করে রেখেছে।
সূত্র: www.discoverlancaster.com

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply