ই-কমার্স প্রতারণা

অন্তভূক্তিমুলক খাত হিসেবে ই-কমার্স টেকসই উন্নয়নের অংশ

অন্তভূক্তিমুলক খাত হিসেবে ই-কমার্স টেকসই উন্নয়নের অংশ

২০৪১ সালের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্যে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা ও সমাধান প্রস্তাবনা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ই-কমার্স খাতের সম্ভাবনা অপার। তবে, এ খাতের টেকসই বিকাশের জন্য কিছু বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা প্রয়োজন। নিম্নে খাতভিত্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য সমাধানের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হলো।

১. ব্যবসায় প্রবেশ সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা

সমস্যা:

সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ই-কমার্স বা ডিজিটাল কমার্স নামে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায় না।

ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে ১০% হারে জরিমানা একটি বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাধান:

ট্রেড লাইসেন্স আইন সংশোধন করে ই-কমার্স ব্যবসার জন্য স্বতন্ত্র লাইসেন্স চালু করা।

ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জরিমানা ১০% থেকে কমিয়ে ২% করা।

নারী, ছাত্র, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ ও আবাসিক উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স ফি ৫০% কমানো।

অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য ভাড়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া।

প্রত্যাশিত ফলাফল:

উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরু করা সহজ হবে।

তরুণ ও বিশেষভাবে সক্ষম জনগোষ্ঠী ব্যবসায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

২. ই-কমার্স সাপ্লাই চেইন

সমস্যা:

লাস্ট মাইল ডেলিভারি বিস্তারের প্রতিবন্ধকতা।

১৬/১৬/১৬ মাপের ডেলিভারি বক্সসহ বাইক অনুমোদিত নয়।

উচ্চ লজিস্টিক খরচ।

সমাধান:

ডাক বিভাগের কেন্দ্রগুলোকে ই-কমার্স লজিস্টিক হাব হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া।

১৬/১৬/১৬ মাপের বক্সসহ বাইকের অনুমোদন দেওয়া।

লজিস্টিকস অংশ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধা প্রদান।

প্রত্যাশিত ফলাফল:

সারা দেশে লজিস্টিক সেবার বিস্তার।

ই-কমার্স পণ্য সরবরাহে গতি ও সাশ্রয়।

৩. উদ্যোক্তা ও কর্মীদের দক্ষতা

সমস্যা:

উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীর অভাব।

দক্ষ কর্মীদের বিদেশ গমনের প্রবণতা।

সমাধান:

সর্বশেষ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষাক্রম উন্নয়ন।

দক্ষতা উন্নয়নে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু।

বিদেশি প্রশিক্ষক যুক্ত করে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ।

প্রত্যাশিত ফলাফল:

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।

৪. ডিজিটাল পেমেন্ট

সমস্যা:

এসক্রো সেবা কার্যকর হয়নি।

পেপালের মতো আন্তর্জাতিক গেটওয়ের অভাব।

সমাধান:

এসক্রো বাস্তবায়ন করে অন্যান্য অবকাঠামোর সংযোগ নিশ্চিত করা।

আন্তর্জাতিক গেটওয়ে আনার ব্যবস্থা করা।

প্রত্যাশিত ফলাফল:

ই-কমার্সে গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ হবে।

৫. অর্থায়ন ও বিনিয়োগ

সমস্যা:

ই-কমার্স উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণ সুবিধা পান না।

সমাধান:

ই-কমার্স খাতের জন্য উপযোগী ঋণসুবিধা চালু করা।

প্রত্যাশিত ফলাফল:

উদ্যোক্তারা সহজে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবেন।

ই-কমার্স খাত আরও বিকশিত হবে।

৬. ক্রসবর্ডার ই-কমার্স

সমস্যা:

পণ্য ফেরত বা অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।

উচ্চ শিপিং খরচ।

অ্যামাজনে পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়া জটিল।

সমাধান:

ক্রসবর্ডার ই-কমার্স নীতিমালা উন্নয়ন।

শিপিং চার্জ ও পণ্যমূল্যের সমন্বয়।

আমদানি-রপ্তানি সহজতর করা।

প্রত্যাশিত ফলাফল:

রপ্তানিমুখী ই-কমার্স বৃদ্ধি পাবে।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সহজ হবে।

৭. করনীতি সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা

সমস্যা:

বিদ্যমান করনীতি ও ভ্যাট আইন অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসার জন্য প্রতিবন্ধক।

সমাধান:

ব্যবসাবান্ধব আইন প্রণয়ন।

ব্যবসার বিকাশে সহায়ক নীতিমালা গ্রহণ।

প্রত্যাশিত ফলাফল:

উদ্যোক্তারা হয়রানি ছাড়াই কর পরিশোধ করতে পারবেন।

ব্যবসার সহজীকরণ হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের টেকসই বিকাশের জন্য উল্লিখিত প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা জরুরি। নীতি সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সহজতর ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে ২০৪১ সালের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনীতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply