ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হস্তান্তর চুক্তিপত্র
কখনো কখনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই শর্তে হস্তাসন্তর হয় যে, প্রতিষ্ঠানের অফিস, ফার্নিচার, ব্যাংক একাউন্ট কোনো কিছুই পরিবর্তন হয়না। শুধুমাত্র নামটি অন্য কেউ গ্রহণ করে সে নামে তিনি নতুন করে নতুন ঠিকানায় ব্যবসা করতে পারেন।
তখন এ ধরনের একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করতে হয়।
তাং- …………….
প্রথম পক্ষ: বিক্রেতা
জনাব: মোহাম্মদ আলী খান
পিতা: আব্দুল হক
মাতা: রোকেয়া বেগম
ঠিকানা: ১২/৩ মিরপুর রোড, ঢাকা।
জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী, ধর্ম: ইসলাম।
জাতীয় পরিচয় পত্র নং: ১২৩৪৫৬৭৮৯০
দ্বিতীয় পক্ষ: ক্রেতা
জনাব: সোহেল রানা
পিতা: মোহাম্মদ ইকবাল
মাতা: সাবেরা বেগম
ঠিকানা: ৫৬/৭ গুলশান-২, ঢাকা।
জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী, ধর্ম: ইসলাম।
জাতীয় পরিচয় পত্র নং: ৯০৮৭৬৫৪৩২১
চুক্তির প্রেক্ষাপট
প্রথম পক্ষ তার ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “এবিসি এন্টার প্রাইজ” দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত কারণে এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বিক্রয় করতে ইচ্ছুক। দ্বিতীয় পক্ষ এই প্রতিষ্ঠানের নাম, ফেসবুক পেইজ, ডোমেইন নাম এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ক্রয় করতে আগ্রহী। উভয় পক্ষ নিম্নোক্ত শর্তে একমত হয়েছেন:
১। প্রতিষ্ঠানের নাম ও মালিকানা
প্রথম পক্ষের মালিকানাধীন “এবিসি এন্টার প্রাইজ” নামক প্রতিষ্ঠানটির নাম, ফেসবুক পেইজ, ডোমেইন নাম এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি দ্বিতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে, প্রতিষ্ঠানের শারীরিক স্থাবর সম্পত্তি, আসবাবপত্র, প্রযুক্তি বা অন্যান্য মালামাল এই হস্তান্তরের অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।
২। নাম ব্যবহারের অধিকার
যেহেতু “এবিসি এন্টার প্রাইজ” একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং এর কোনো লিমিটেড কোম্পানীর নিবন্ধন নেই, তাই দ্বিতীয় পক্ষ এই নামটি দেশের অন্য কোনো স্থানে ব্যবহার করতে পারবেন। প্রথম পক্ষ এই বিষয়ে কোনো আপত্তি তুলতে পারবেন না।
৩। বিনিময়মূল্য
উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নাম, ফেসবুক পেইজ, ডোমেইন নাম এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি হস্তান্তরের জন্য একটি বিনিময়মূল্য নির্ধারণ করবেন। এই মূল্য চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের সময় পরিশোধ করা হবে।
৪। ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য অনুমোদন
প্রথম পক্ষের ট্রেড লাইসেন্স দীর্ঘদিন ধরে হালনাগাদ করা হয়নি। দ্বিতীয় পক্ষ চাইলে এই ট্রেড লাইসেন্স নিজ নামে হালনাগাদ করতে পারবেন। তবে, কোনো নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া ও খরচ দ্বিতীয় পক্ষ বহন করবেন।
৫। ফেসবুক পেইজ ও ডোমেইন নাম
প্রথম পক্ষের মালিকানাধীন ফেসবুক পেইজ এবং ডোমেইন নামের নিয়ন্ত্রণ দ্বিতীয় পক্ষকে হস্তান্তর করা হবে। তবে, যদি কোনো কারণে এই ডোমেইন নামটি গ্রহণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে দ্বিতীয় পক্ষ প্রথম পক্ষকে কোনো দোষারোপ করতে পারবেন না।
৬। দায়-দেনা ও আর্থিক বিষয়াদি
প্রথম পক্ষের প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো দায়-দেনা, ব্যাংক ঋণ, সমিতি ঋণ, সরবরাহকারীর পাওনা বা ক্রেতার পাওনা থাকলে, সেগুলো প্রথম পক্ষই বহন করবেন। এই হস্তান্তরের পর দ্বিতীয় পক্ষের উপর কোনো আর্থিক দায় থাকবে না।
৭। ভবিষ্যতে দাবী ও আপত্তি
চুক্তির পর, প্রথম পক্ষ এই প্রতিষ্ঠানের নাম, ফেসবুক পেইজ, ডোমেইন নাম বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো দাবী বা আপত্তি তুলতে পারবেন না। দ্বিতীয় পক্ষ এই নাম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ব্যবহার করতে সম্পূর্ণ স্বাধীন হবেন।
৮। সদস্যপদ ও অন্যান্য সুবিধা
প্রতিষ্ঠানের কোনো সদস্যপদ, অনুমোদন বা অন্যান্য সুবিধা থাকলে, সেগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এবং খরচ সম্পর্কে উভয় পক্ষ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
৯। চুক্তির নিষ্পত্তি
মালিকানা হস্তান্তর ও লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর, প্রথম পক্ষের কোনো দাবী বা আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। এই চুক্তি উভয় পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক হবে।
স্বাক্ষর:
প্রথম পক্ষের স্বাক্ষর
মোহাম্মদ আলী খান
দ্বিতীয় পক্ষের স্বাক্ষর
সোহেল রানা
স্বাক্ষীগণের স্বাক্ষর:
১. নাম:
স্বাক্ষর:
২. নাম:
স্বাক্ষর:
এই চুক্তিপত্রটি উভয় পক্ষের সম্মতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো পক্ষের আপত্তি বা দাবী থাকলে, তা এই চুক্তির শর্তাবলীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না।
