Ride, Vote, Mark

নির্বাচনী প্রতীক ও বিধি

প্রস্তাবিত কিছু নির্বাচনী প্রতীক ও বিধি

প্রসঙ্গ কথা: আমি প্রায় ১ হাজার পৃষ্ঠায় ৮১ টি অধ্যায়ে বাংলাদেশ সংষ্কারের রুপরেখা ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছি। সেখানে একটি অংশ ছিল নতুন প্রতীক বরাদ্ধের নিয়ম। সেখান একটি অংশ এখানে লেখা আকারে তুলে ধরা হলো।

কেন নতুন প্রতীক দরকার

নতুন রাজনৈতিক দল আসবে। একদিকে তাদের জন্য প্রতীক বরাদ্ধ হবে।  কিছু প্রতীক রাজনৈতিক দলসমূহকে বরাদ্ধ করার পর স্থানীয় নির্বাচনের জন্য নতুন প্রতীক প্রয়োজন হবে।  যেহেতু আমি জাতীয় নির্বাচনে ৩টি ব্যালট প্রস্তাব করেছি। সেজন্য নতুন এই প্রতীক বিধিমালা বা নির্দেশিকা প্রয়োজন হবে।

ক) প্রথম ব্যালট: এলাকার প্রতিনিধির জন্য যিনি সংসদের প্রথম কক্ষে জনগনের পক্ষে কথা বলবেন। (৩০০ জন)

খ) দ্বিতীয় ব্যালট: উচ্চ কক্ষের জন্য যেখানে দলকে ভোট দেবে। এখানে সারা বাংলাদেশে দলগুলো তাদের নিজস্ব একক প্রতীক ব্যবহার করবে।  এই কক্ষের প্রতিনিধিরা (১০০ জন)

খ) তৃতীয় ব্যালট: এ ব্যালটে জনগন আদর্শকে ভোট দিবে বা তারা মতবাদকে ভোট দিবে বা রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি বাছাই করবে। এখানে ২৫ জন সদস্য নির্বাচিত হবে। যারা সাংবিধানিক কাউন্সিল থেকে আসবে। সাংবিধানিক কাউন্সিল হবে যতগুলো দল থাকবে সব দল থেকে একজন প্রতিনিধি থাকবে। তবে অবশ্যই সে দল সারা দেশে ১০% ভোট পেতে হবে। দলগুলো তাদের রাষ্ট্র পদ্ধনি মনোনীত করবে। সে অনুসারে ব্যালটে প্রতিক থাকবে। আর এখান থেকে সমানুপাতিক হারে সাংবিধানিক কাউন্সিল সাংবিধানিক আদালতের ওয়াকিং কমিটি নির্বাচন করবে। যারা সংবিধান নিয়ে কাজ করবে। সংবিধান লেখা ও পরিবর্তন ইত্যাদি। সংখ্যা ২৫ জন। এবং সাংবিধানিক আদালতকে মতামত দিবে। সাংবিধানিক আদালতের রুপরেখা আমি অন্য প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেছি।

 

দলীয় প্রতীক

ইতোমধ্যে যেসব দলীয় প্রতীক বরাদ্ধ হয়েছে। তার সাথে এগুলো যুক্ত হবে। যেমন-

মুষ্ঠিহাত, হ্যান্ডশেক, শাপলা, কাঠাল, দোয়েল, পাঞ্জাবী, টুপি, ঘড়ি, চশমা, পাঞ্জা, বাঘ, দোয়েল, তালগাছ, তাল, আম, মাছ, ঘোড়া, রাজহাস, প্রজাপতি, আনারস, তালা-চাবি, কলম, খোলা বই, কাপ পিরিচ, গ্লাস, জগ, মগ, ফুলদানি, ফুলের ঝুড়ি, গাছের ছারা, পাতা, চাপাতা, পাটপাতা, পাট, চিংড়ী, শার্ট, জামা, পানির বোতল, বোতল, মোবাইল, ল্যাপটপ, দরজা, ঘর, গেইট বা তোরণ, চামচ, চুলা, আঙুৃর (থোকা), সূর্যমূখী, নলকূপ, জগ, কলসি, মগ, গ্লাস, টেবিল, চেয়ার, জানালা, কার, রিক্সা, আয়না, আলমিরা, তাক, পালকী, রংধনূ, ঘোঢ়া, হাতি, উট, গরু, বিড়াল, বাঘ, হরিণ, সেলাই মেশিন, চামুচ-বাটি, বই, ঝুড়ি, টেবিল ল্যাম্প, বাতি, প্রদীপ, টচ লাইট, তালা, কলম, বই, চশমা, ঘড়ি, হাতঘড়ি, জাহাজ, ট্রাক, ট্রেন, ক্রেন, বিমান, হেলিকপ্টার, সিড়ি, মাইক, ঈগল, ইলিশ, ইদুর, মাউস, র‌্যাক, সিলিং ফ্যান, সোফা, হাতুড়ি, করাত, বোল, ফুটবল, শাবল, কোদাল, তাজ, নোঙর, মাস্তুল ও কোট ইত্যাদি

তাছাড়া কিছু প্রতীক জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য রাখতে হবে। 

যেমন:

প্রাণী: গরু, পাখির বাসা, ছিংড়ী, দোয়েল, মানুষে চোখ, বক, হাস, মুরগী, কবুতর, ময়না, টিয়ে, ফড়িং, চিল, বাজ, ছাগল, হরিণ, বাঘ, বিড়াল, মোরগ, কাকাতুয়া, হাস, রাজহাস

( স্থানীয় নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রতীকের জন্য রাখা যায়)

প্রকৃতি থেকে:  বটগাছ, খেজুর গাছ, তালগাছ, কলাগাছ, সুন্দরী গাছ, পাট গাছ, আনারস, আম, আঙুর, কাঠাল, কমলা, আপেল, পেয়ারা, গাজর, বেগুন, ফুলকপি, কলমি ফুল, জবা ফুল, রজনীগন্ধা, গোলাপ, সূর্যমুখী, গাঁদাফুল, চালতা, কদমফুল, তাল, গরু, ঘোড়া, পেয়াজ, রসুন, তেজপাতা, পানপাতা, শাপলা,  সূর্য, হাতি, হাত, চা-পাতা , চাঁদ, সূর্য, কলা পাতা, পাট, ( স্থানীয় নির্বাচনে মেম্বার প্রতীকের জন্যরাখা যেতে পারে)

ব্যক্তিগত ঘরোয়া ব্যবহার্য জিনিস:: হাতঘড়ি, দেয়াল ঘড়ি, কলম, চেয়ার, টেবিল,  বাক্স, ট্রাঙক, সিন্দুক,  গেট (ফটক),   টুল, বেলুন, ঘন্টি, কাঁটা চামচ, বোতল, তালা-চাবি, তালা, চাবি, বন্ধ বই, তীর ধনুক, কুড়েঘর, দরজা, জানালা, চিমনি, চুলা, মাটির চুলা, গ্যাসের চুলা, পাখির খাঁচা, বাটি,  লবনদানি, কলমদানি, আয়না, টিউব লাইট, হ্যাংগার, ঝুড়ি, রেক, টেবিল।

পরিবহন: টেক্সি, কার, ট্রাক, গাড়ি, ট্রেন, বাস, রিকসা, সাইকেল, চাকা,

প্রযুক্তি পণ্য:  মোবাইল,কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, লাইট, টিভি, ফ্রিজ ( ঠান্ডা আলমারি),  মাইক, ফ্যান, টেবিল ফ্যান, চার্জার, প্লাগ, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, টচ লাইট, হেডফোন

( সংসদ নির্বাচনে এলাকার প্রতিনিধির জন্য রাখা যেতে পারে)

ঘর গেরস্থালী: বালতি, কলস, বালিশ, রুমাল, পেনসিল, সেলাই মেশিন, সূতা, কাচি, চুলা, রুটি, বেলন, পিড়ি, হারিকেন, প্রদীপ, আলমারি, আলতা, সোফা, খাট,  বিস্কুট, পানির জগ, পানির গ্লাস, বাটি, কাপ পিরিচ, আইসক্রিম, পাওরুটি, তাওয়া,  লাউ, পেপে, চুলা,

কৃষি যন্ত্র: কাস্তে, দা, বটি, ঝুড়ি, থলে, মই, লাঙ্গল, টিউবওয়েল, গরুর গাড়ি, চাকা, ঘোড়ার গাড়ি, কলের লাঙ্গল, মই, কোদাল, ফুলের টব, কুলা,  মাটির হাড়ি, পাতিল, চামচ, নিড়ানি, মই, লুঙ্গি, শিকা, হুক্কা,

(বিভিন্ন সমিতির নির্বাবচনের জন্য রাখা যেতে পারে)

রাষ্ট্রপদ্ধতি বিষয়ক ব্যালটের প্রতীকগুলো হবে

ক) কোরআনের আইন যারা চায়: তাদের জন্য কোরআন রাখার রেহাল

খ) যারা সুন্নী আইন চায় তাদের জন্য মসজিদের ৩ তাকের সিড়ি

গ) যারা উদার ইসলামী নীতি চায় তাদের জন্য চাঁদ-তারা বা মিনার বা ইসলামী গেট

ঘ) যারা সংসদীয় গণতন্ত্র চায় তাদের জন্য সংসদ ভবনের ছবি।

ঙ) যারা রাষ্টপতি শাসিত সরকার চায় তাদের জন্য রাজ সিংহাসনের ছবি

চ) যারা সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র চায় তাদের জন্য সমান ভাগে ভাগ করা ৪টা বর্গ

ছ) যারা রক্ষনশীল সমাজতন্ত্র চায়। তাদের জন্য মাঝখানে বৃত্তে চারপাশে রিং।

– একই এলাকায় দেখতে বা শুনতে কাছাকাছি মনে হবে এমন প্রতীক থাকবেনা। যেমন বক ও হাস। একটি থাকলে অন্যটি থাকবেনা। কলম ও পেন্সিল, তালগাছ ও খেজুর গাছ, আপেল ও কমলা ইত্যাদি।

– জাতীয় নির্বাচনের দলীয় প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে না।

–  কোনো রাজনৈতিক দল একবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে যে প্রতীক পাবে যদি সে নির্বাচনে তারা মোট ৫% শতাংশ ভোট পায় অথবা ৩টি আসন পায় তাহলে কেবল তাদেরকে সে প্রতীক স্থায়ীভাবে বরাদ্ধ দেয়া হবে। প্রথমবার পাওয়ার পরে পর পর তিনটি নির্বাচনে ১টির কম আসন অথবা ৩% শতাংশ এর কম ভোট পেলে তাদের স্থায়ী প্রতীক থাকবেনা। তবে তারা নতুন প্রতীক নিতে পারবে।

আমি আমার অন্য লেখায়  এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতীকবিধি তুলে ধরেছি।

ধন্যবাদ- জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply