নিজেকে দেখুন
হাজারো কাজের ভীড়ে নিজেকে ভুলে যাবেন না।

নিজের প্রতি খেয়াল রাখুন

নিজের প্রতি খেয়াল রাখুন

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

কখনো কখনো এমন হয় আমরা ক্যারিয়ার, পরিবার, লেখাপড়া, কিংবা প্রিয় মানুষ এদের প্রতি নজর দিতে গিয়ে নিজের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ি। আর যখন টের পাই যে, নিজের প্রতি যতœ নেয়া হয়নি। তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই আসুন নিজের প্রতি যতœ নেয়ার বিষয়গুলো একটু মনে করিয়ে দিই।

সামাজিকতা মেনে চলুন
অনেকে নিজের প্রতি এতটাই কেয়ারফুল হোন যে, আশপাশের অনেক কিছুই দেখেন না। নিজের স্বার্থেই সামাজিকতা মেনে চলবেন। কারণ, সমাজের বাইরে বাস করতে পারবেন না। আজ অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে এলে আপনার প্রয়োজনে কাল অন্য কেউ এগিয়ে আসবে।

সময়কে গুরুত্ব দিন
মনে রাখুন। দিন সবার জন্য ২৪ ঘণ্টা। ৭ দিনে ১ সপ্তাহ আর ৩৬৫ দিনে ১ বছর। তা সত্তে¡ও মাত্র কয়েক বছর পৃথিবীতে বেঁচে থেকে কেউ শীর্ষ ধনী হয় আবার কেউ সারাজীবন ভিক্ষুকের জীবন ধারণ করে। তাই সময়কে গুরুত্ব দিন। সময়কে কাজে লাগানো আর না লাগানোর এই দুই দুই রকমের ফল দেয়। কর্মফল এবং সাফল্য ব্যর্থতার মাঝে ব্যবধান টেনে দেয়।

কাজকে উপভোগ করুন
যে কাজই করেন না কেন, সেটাকে যদি উপভোগ না করেন বা কেবল বাধ্য হয়ে করে যান তা হলে মানসিক শান্তি নষ্ট হয়ে যাবে। কাজকে নিজের মতো করে করাও একধরনের নিজের প্রতি খেয়াল রাখা।

শরীরের প্রতি যতœ নিন
আপনার শরীর মানেই আপনি। কারণ সত্যিকার অর্থে কিন্তু আপনি আপনাকে দেখতে পারছেন না। আামি আমাকে দেখতে পারছি না। আমি মনে করে আমাকে যেখানেই ছুঁতে যাব। সেটা আমার শরীরের কোনো না কোনো অংশ। তাই শরীরের প্রতি যতœ নিন। পরিশ্রম শেষে বিশ্রাম দিন, পরিচ্ছন্ন আশ্রয় ও নিরাপদ খাবার নিন। প্রয়োজনীয় পানি পান করুন, ক্ষতিকর খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার নিন। ব্যায়াম ও কায়িক শ্রম করুন। সময়মতো চেকআপ করুন। নিত্যদিনের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। আর হ্যাঁ প্রতিদিন অল্প হলেও ব্যায়াম করার কথা ভুলবেন না। সেটা সব বয়সের জন্যই।

খাবার গ্রহণে বিবেচক হোন
মনে রাখবেন খাবার গ্রহণ-প্রক্রিয়ার কারণে কারো ৭০ ভাগ রোগব্যাধি দূর হতে পারে। তাই খাবার গ্রহণে সাবধান হোন। তেল, ঝাল, মসলা, কোল ড্রিংকস, ধূমপান, এলকোহল এগুলো খাবার হিসেবে গ্রহণ করার আগে সতর্ক হোন।

পরিচ্ছন্নতাটাকে অবহেলা নয়
অনেকে অফিসে যাওয়ার সময় ফিটফাট হয়ে যান অন্যসময়ে তারা ময়লা কাপড়ও পরেন। কিন্তু এটা কাম্য নয়। পরিচ্ছন্নতা ব্যক্তিকে আশপোশের লোকদের কাছে সুন্দর করে তুলে ধরে।

পোশাক-পরিচ্ছেদ
আমরা যে সমাজে বসবাস করি, যেকোনো কারণে হোক এটা আদিম সমাজ নয়। এখানে পোশাক-পরিচ্ছদ এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তাই বৈঠক ও দিনভেদে পোশাকের প্রতি নজর দিন। পোশাকটা সব সময় নিজের বুদ্ধিতে হবে তা নয় দশজনকে দেখেও পোশাকের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
তবে যে ধরনের পোশাকই পরেন না কেন। সেটা পরিচ্ছন্ন ও ভদ্রোচিত কিংবা রুচিশীল হওয়া উচিত।

সঞ্চয়ের কথা ভাবুন
সঞ্চয়কে বলা হয় বিপদের দিনের বন্ধু। নিজেকে মহামানব ভাবার কোনো সুযোগ নেই যে, আমার কোনো সমস্যা হবে না। সঞ্চয় করার ভালো পদ্ধতি হলো প্রতিমাসে যা সঞ্চয় করবেন তা মাসের প্রথমে আলাদা করে রাখবেন। তারপর যে টাকা আছে সেটা দিয়ে সংসার চালানোর কাঠামো সাজাবেন। খরচ করে টাকা বাঁচলে সঞ্চয় হবেÑ এমন অঙ্ক করে সঞ্চয় করলে কখনোই সঞ্চয় হবে না। মোটকথা ভবিষ্যতের কথাও ভাবুন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply