নাফিসা আলী: দ্যা মেট্রো একট্রেস
একজন মানুষ, নারী, মা ও অভিনেত্রী। এমনটাতো হতেই পারে। হয়ও। কিন্তু ইনি তারচেয়ে বেশী কিছু। বলছি বলিউডের বাঙালী নায়িকা নাফিসা আলীর কথা। ইনি সুন্দরী, নায়িকা, ক্রীড়া্িদ ও সমাজকর্মী এমনকি শেষে রাজনীতিতেও নাম লিখিয়েছেন।
নাফিসা আলী একাধারে সাঁতার, মডেলিং, অভিনয়, এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সাফল্যের সাক্ষর রেখেছেন। ১৯৭২-৭৪ সালে তিনি ভারতের জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। ১৯৭৬ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া খেতাব জেতার পর মিস ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার-আপ হন।
বলিউডে তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে জুনুন (১৯৭৯), মেজর সাব (১৯৯৮), বেওয়াফা (২০০৫), লাইফ ইন এ মেট্রো (২০০৭), এবং ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা (২০১০)। তিনি মালায়ালাম চলচ্চিত্র বিগ বি-তেও অভিনয় করেন। লাইফ ইন এ মেট্রো সিনেমায় অসাধারন অভিনয় করে ছিলেন।রাজনীতির সঙ্গে ও ছিল তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ।কলকাতা থেকে লড়েছেন নির্বাচনেও।ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল,অর্জুন পুরস্কার প্রাপ্ত পোলো খেলোয়াড় আর এস সোধি কে বিবাহ করেন তিনি এবং তিন সন্তানের জননী।
ভারতের একজন প্রতিভাময়ী মানুষ এবং একজন অগ্রসর হিসাবে তিনি প্রথম সারিতে থাকবেন।
নাফিসা আলী ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে এক অনন্য নাম। ১৯৫৭ সালের ১৮ জানুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা নাফিসার পিতা আহমেদ আলী ছিলেন একজন বাঙালি, আর মা ফিলোমেনা টরেসান ছিলেন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার পিতামহ এস ওয়াজিদ আলী ছিলেন একজন লেখক, এবং তার পিসি জাইব-উন-নিসা হামিদুল্লাহ পাকিস্তানের একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
রাজনীতিতেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। ২০০৪ সালে কংগ্রেসের হয়ে এবং ২০০৯ সালে সমাজবাদী পার্টির হয়ে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে তিনি আবার কংগ্রেসে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে অংশ নেন।
২০১৮ সালে নাফিসা ঘোষণা করেন যে তিনি ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার সন্তানদের সমর্থন তাকে এই লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

