বাংলাদেশী বা এশিয়ানরা যদি রাশিয়ায় অভিবাসন চান?
রাশিয়া আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ। তবে শীতপ্রধান ও বরফপ্রবণ দেশ হওয়াতে রাশিয়াতে আরামদায়ক বা বাংলাদেশী তথা এশিয়ার লোকদের বসবাস উপযোগী জায়গা খুব বেশী নয়। সেজন্য অভিবাসনের রাশিয়া জনপ্রিয় নয়। তবে রাশিয়াতে কিছু সুযোগ সুবিধা রয়েছে। শান্ত ও স্থির জীবন যাপনের জন্য রাশিয়ান বেল্ট এর দেশগুলো বেশ উপযোগী। রাশিয়ার নাগরিকত্বও কঠিন কিছু নয়। কিছু শর্ত, নিয়ম সময়ের ফারাকে সেটা মিলে যেতে পারে। রাশিয়ায় বাংলাদেশ বা এশিয়ার অভিবাসীদের জন্য উপযোগী প্রদেশ বা শহর নির্ধারণে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ:
রাশিয়ার নাগরিকত্ব অর্জন করতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বেশ কয়েকটি ধাপ ও শর্ত রয়েছে। নিম্নে এই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
১. অস্থায়ী বাসস্থান (Temporary Residence Permit – TRP) প্রাপ্তি:
প্রথম ধাপে, আপনাকে রাশিয়ায় অস্থায়ী বাসস্থানের অনুমতি (TRP) নিতে হবে। এটি সাধারণত ৩ বছরের জন্য মঞ্জুর হয়। TRP পাওয়ার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করতে হবে:
ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ: রাশিয়ার একজন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দার কাছ থেকে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করতে হবে। এটি রাশিয়ায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয়।
ওভিআইআর (OVIR) এর মাধ্যমে আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া: আমন্ত্রণকারী ব্যক্তিকে স্থানীয় অভিবাসন অফিস (OVIR) এ আবেদন জমা দিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১ মাস সময় লাগতে পারে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা: TRP এর জন্য আবেদন করার সময় পাসপোর্ট, ভিসা, আয়ের প্রমাণপত্র, চিকিৎসা বীমা এবং বসবাসের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
২. স্থায়ী বাসস্থান (Permanent Residence Permit – PRP) প্রাপ্তি:
TRP পাওয়ার পর, আপনি স্থায়ী বাসস্থানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্থায়ী বাসস্থান পাওয়ার জন্য সাধারণত রাশিয়ায় ১ বছর অস্থায়ী বাসস্থানে বসবাস করতে হয়।
৩. নাগরিকত্বের জন্য আবেদন:
স্থায়ী বাসস্থান পাওয়ার পর, আপনি রাশিয়ার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য সাধারণত নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ করতে হয়:
বসবাসের মেয়াদ: স্থায়ী বাসস্থানের পর কমপক্ষে ৫ বছর রাশিয়ায় বসবাস করতে হবে।
ভাষা দক্ষতা: রাশিয়ান ভাষায় দক্ষতা প্রদর্শন করতে হবে।
আইন মেনে চলা: রাশিয়ার আইন ও শৃঙ্খলা মেনে চলার প্রমাণ দিতে হবে।
আয়ের প্রমাণ: নিয়মিত ও বৈধ আয়ের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
নাগরিকত্বের জন্য আবেদনপত্র।
স্থায়ী বাসস্থানের অনুমতিপত্র।
আয়ের প্রমাণপত্র।
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।
জন্ম সনদ।
বিবাহ সনদ (যদি প্রযোজ্য হয়)।
আবেদন প্রক্রিয়া:
উপরোক্ত কাগজপত্রসহ স্থানীয় পাসপোর্ট ও ভিসা বিভাগে আবেদন জমা দিতে হবে। সাধারণত, সরলীকৃত প্রক্রিয়ায় ৬ মাস এবং সাধারণ প্রক্রিয়ায় ১ বছর সময় লাগতে পারে।
DUSPEECH
উল্লেখযোগ্য বিষয়:
নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে, আপনি আদালতে আপিল করতে পারেন।
রাশিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার পর, আপনি রাশিয়ান পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
রাশিয়ার নাগরিকত্ব প্রাপ্তির প্রক্রিয়া জটিল এবং সময়সাপেক্ষ হতে পারে। সঠিক তথ্য ও নির্দেশনার জন্য রাশিয়ার স্থানীয় অভিবাসন অফিস বা রাশিয়ান দূতাবাসের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।
আবহাওয়া ও প্রকৃতি:
রাশিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলে শীতকাল দীর্ঘ ও তীব্র হয়, যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ১১ থেকে মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। তবে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে তুলনামূলকভাবে মৃদু আবহাওয়া পাওয়া যায়।
যোগাযোগ ও যাতায়াত:
মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরগুলোতে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যা অভিবাসীদের জন্য সুবিধাজনক।
পানীয় জল ও জ্বালানি:
বড় শহরগুলোতে নিরাপদ পানীয় জল ও জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত।
কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য:
কৃষি উৎপাদন প্রধানত দক্ষিণাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত, যেখানে খাদ্য সহজলভ্য।
ধর্ম ও রাজনীতি:
রাশিয়া একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে।
পেশা ও ব্যবসা:
বড় শহরগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি। উদাহরণস্বরূপ, রাশিয়ায় শিপ পেইন্টার, শিপ আউটফিটিং অ্যাসেম্বলার, শিপ হাল ফিটার ও শিপ পাইপ ফিটার পদে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে বেতন ৫৪,০০০ থেকে ৬৬,০০০ টাকার মধ্যে। (সংবাদ পত্র থেকে জানা গেছে।)
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা:
মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো শহরগুলোতে উচ্চমানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পাওয়া যায়। রাশিয়া সরকার বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে ১২৪টি বৃত্তি দিয়ে থাকে।
তাপমাত্রা ও তার উঠানামা:
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।
অভিবাসন ও আইন:
রাশিয়া বাংলাদেশকে ‘বন্ধু’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা অভিবাসন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে।
সংস্কৃতি ও অভিবাসন:
বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ বসবাস করে, যা অভিবাসীদের জন্য সহনশীল পরিবেশ তৈরি করে।
সহনশীলতা ও মানবাধিকার:
রাশিয়ায় বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থান রয়েছে।
ভিসা ও নাগরিকত্ব: বন্ধু দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ফলে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।
উপরোক্ত বিবেচনায়, মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলো বাংলাদেশি ও এশিয়ার অভিবাসীদের জন্য উপযোগী হতে পারে। তবে অভিবাসনের আগে সংশ্লিষ্ট শহরের আবহাওয়া, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা উচিত।
তথ্য: ইন্টারনেট, ছবি : FreePiK

