ডিজিটাল কমার্স নয় ই-কমার্স
আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে যে রূপকল্প ২০২১ নামে নির্বাচনী ঘোষণা করেন। তার মূল শিরোনাম ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। ১২ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে এই ঘোষণা আসে। এর পর তারা সবকিছুর সাথে ডিজিটাল শব্দ ব্যবহার করা শুরু করে।
১০১৭ সালে যখন ই-কমার্স পলিসি খসড়া করা হয় আইসিটি বিভাগ এতে ‘‘ডিজিাটল কমার্স পলিসি’’ নাম দেয়। যা পরে ‘ডিজিাটল কমার্স পলিসি-২০১৮ নামে পাস হয় এবং ২০২০ সালে সংশোধন করা হয়। পরে এই ‘ডিজিাটাল শব্দটি রাখার জন্য সব ক্ষেত্রে ‘ডিজিাটল কমার্স ব্যবহার করা হয়। যেমন- ‘ডিজিাটল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১’’ ‘ডিজিাটল আইডেন্টিটি- ডিবিআইডি, ‘ডিজিাটল কমার্স অ্যাক্ট-২০২২ যা রহিত করে ‘ডিজিাটল কমার্স অথরিটি অ্যাক্ট ২০২৩ খসড়া করা হয়।
কিন্তু সারা পৃথিবীতে ‘ডিজিাটল কমার্স ও ই-কমার্স দুটোই আইটি-আইটিইএস বা আওটি বিজনেস হলেও। দুটো ব্যবসাতে বেসিক কিছু পার্থ্ক্য রয়েছে। এজন্য বিভিন্ন সময়ে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। দুনিয়ার কোনো দেশে ই-কমার্সকে ‘ডিজিাটল কমার্স বলা হয়না কারণ ‘ডিজিাটল কমার্স এর অর্থ পুরোটাই আলাদা।
বিষয়টা ব্যাখা করা যাক-
ডিজিটাল কমার্স (Digital Commerce) এবং ই-কমার্স (E-commerce) উভয়ই অনলাইনে পণ্য ও সেবা কেনা-বেচার প্রক্রিয়া, তবে তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
ডিজিটাল কমার্স (Digital Commerce): ডিজিটাল কমার্স বলতে বোঝানো হয় ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্য বা সেবার কেনাবেচা, যার মধ্যে পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, গ্রাহক সেবা, এবং অন্যান্য ডিজিটাল পরিষেবাগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি ই-কমার্সের একটি বিস্তৃত রূপ, যেখানে শুধু পণ্য কেনাবেচা নয়, বরং সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবসা এবং প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি মূলত মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘটে।
ই-কমার্স (E-commerce): ই-কমার্স হচ্ছে একটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম যেখানে পণ্য বা সেবা অনলাইনে কেনাবেচা করা হয়। এটি বিশেষভাবে পণ্য বা সেবার লেনদেনের উপর কেন্দ্রিত থাকে। ই-কমার্সে প্রায়শই একটি ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে পণ্য কিনতে হয় এবং পেমেন্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করা হয়।
পার্থক্য:
পাঠ্য ক্ষেত্র: ই-কমার্স শুধুমাত্র পণ্য বা সেবার কেনাবেচা সম্পর্কিত, whereas ডিজিটাল কমার্সে সেগুলোর পাশাপাশি পেমেন্ট সিস্টেম, গ্রাহক সেবা, এবং অন্যান্য ডিজিটাল পন্য ও সেবা যুক্ত থাকে। সব ই-কমার্স ডিজিটাল কমার্স হলেও সব ডিজিটাল কমার্স ই-কমার্স না। যেমন- সফটওয়ার একটি ডিজিটাল কমার্ কিন্তু্ এর বিপনন ও পেমেন্ট কিছুই যদি ই-কমার্স মডেলে না হয়। তাহলে এটাকে ই-কমার্স বলা যায়না।
প্রক্রিয়া: ডিজিটাল কমার্স ব্যবসার পুরো চক্র (পণ্য প্রদর্শন থেকে পেমেন্ট গ্রহণ পর্যন্ত) অনলাইনে সম্পাদিত হলেও, ই-কমার্স শুধুমাত্র পণ্য বা সেবা কেনাবেচার জন্য সীমিত।
প্রযুক্তি ব্যবহার: ডিজিটাল কমার্সে আরও ব্যাপক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় যেমন ক্লাউড সেবা, ডিজিটাল মার্কেটিং, এবং ডেটা এনালিটিক্স, যা ই-কমার্সে সাধারণত নেই। প্রযুক্তি ই-কমার্সের একটা অংশমাত্র।
সারাংশে, ই-কমার্স হল ডিজিটাল কমার্সের একটি অংশ।
তাই বিভ্রান্তি দূর করতে সকল সরকারী ক্ষেত্রে ডিজিটাল কমার্সের জায়গহায় ই-কমার্স ভ্যবহার করা জরুরী।

