ই-কমার্স
ই-কমার্স পেশা হিসেবে এখনো মজবুত ভিত্তিতে যায়নি। নানা টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এই খাতের উদ্যোক্তা ও কর্মীরা।

কর্মক্ষেত্র হিসেবে ই-কমার্স চ্যালেন্জিং এবং সম্ভাবনাময়

কর্মক্ষেত্র হিসেবে ই-কমার্স চ্যালেন্জিং এবং সম্ভাবনাময়

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

ডিজিটাল মাধ্যম ও ইন্টারনেট যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে ব্যবসা করা হয় তাকে ডিজিটাল কমার্স বলা হবে। ব্যাপক অর্থে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ দ্বারা ক্রেতা ভিন্ন ঠিকানা থেকে অনলাইনে  প্রদর্শিত পণ্য সেবার ফরমায়েশ প্রদান, মূল্য পরিশোধ কিংবা পণ্য-সেবা গ্রহণ করলে তা ডিজিটাল কমার্সের অন্তভূক্ত কার্যক্রম বলে বিবেচিত হবে।

যেকোনো বাণিজ্য ই-বাণিজ্য হওয়ার প্রাথমিক শর্ত পণ্য বা সেবাটি অনলাইনে প্রদর্শিত বা ঘোষিত হতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত পণ্য বা সেবাটি অনলাইনে ফরমায়েশ  প্রদান অথবা অনলাইনে গ্রহণ অথবা অনলাইনে মূল্য পরিশোধ যেকোনো একটি হতে হবে। প্রথমত শর্ত, ওয়েবসাইট, অনলাইনশপ, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, মোবাইল এ্যাপ, অনলাইন সামাজিক মাধ্যম যেকোনো মাধ্যমে বিক্রয়ের উদ্যেশ্যে প্রদর্শিত বা ঘোষিত হবে। দ্বিতীয়ত পণ্যটি ক্রয়ের তিনটি প্রক্রিয়ার যেকোনো একটি অনলাইনে সম্পাদিত হবে তাতে যেকোনো পণ্য সেবার লেনদেনকে ই-বাণিজ্যের লেনদেন বলে অভিহিত করা হবে। হয়তো পণ্যটির শুধু অর্ডার অনলাইনে হতে পারে অথবা পণ্যটি ক্রেতার নিকট ডিজিটাল মাধ্যমে প্রেরিত হবে অথবা ক্রেতা অনলাইনে পণ্যটির মূল্য পরিশোধ করবেন। এর যেকোনো একটি হলে সেটি ডিজিটাল কমার্স বলে বিবেচিত হবে।

 

#  পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে উদ্যোক্তাদের সমস্যা:

করোনার আগে ও পরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির একটা প্রলণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সমস্যা প্রধানত দু’টি । এক তারা যখন প্রচলিত দামের উপর পরিকল্পনা করে এবং দাম যখন বদলে যায় তখন তারা বিষয়টি সমন্বয় করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ে।

দ্বিতীয় যে সমস্যা সেটা হলো, ক্রেতারা যে পণ্যের দাম বাড়ে সেটি ক্রয় করা কমিয়ে দেয়। এতে করে একদিকে যেমন বিক্রি কমে যায় অন্যদিকে পণ্য অনেকদিন স্টকে থেকে লোকসানের হার বাড়িয়ে দেয়।

অবাধ তথ্য প্রবাহ এবং বাজার সম্পর্কিত তথ্য সম্পর্কে স্বচ্চ ধারণা এক্ষেত্রে সহায়ক। যেখানে আমরা পিছিয়ে আছি। পণ্যমূল্য বাড়ানো বা কমানো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের হাতে থাকে না। সেক্ষেত্রে তথ্য ও উপাত্ত যদি থাকে এবং আগে থেকে যদি ধারণা করা যায় কোন পণ্যের দাম বাড়ছে বা কেন বাড়ছে তাহলে সেভাবে পরিকল্পনা করা যায়।

এখানে সবচেয়ে বেশী ভূমিকা থাকবে সরকারের। তবে প্রাইভেট সেক্টরেরও সহযোগিতার প্রয়োজন হবে। বাজার, পণ্যমূল্য ও বাজারের উত্থান পতনের তথ্যগুলো অবাধ হলে ভাল। প্রাইভেট সেক্টর থেকে সরকারী যথাযথ কতৃপক্ষকে বাজার সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করা এবং কতৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করে সেটা উপস্থাপন করা এটা হতে পারে এক্ষেত্রে সহায়ক কাজ।

বিশেষ করে ই-কমার্স নিয়ে আরো জরিপ ও গবেষণার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও বাজার সম্পর্কিত তথ্যগুলো সামনে নিয়ে আসা উচিৎ।

# তরুন উদ্যোক্তা

যারা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে তাদেরকে আমি অনুরোধ করবে তারা যেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরী হয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে। কর্মক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য এটা খুব জরুরী। কারণ আমাদের দেশে তরুনদের মধ্যে একটা প্রবণতা আছে তা হলে যখন কাজ করবো তখন শিখে নিবো। এটা একটা ভুল ও আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। কোনো কিছু শিখতে চাইলে এখন অনেক সুযোগ রয়েছে।

 

# কর্মসংস্থান

বেকার শব্দটাই থাকা ঠিক নয়। মানুষ কেন বেকার থাকবে? আমাদের দেশে বেকার থাকার কারণ হলো আমরা কাজ বাছাই করি। তাই আমি বলবো বেকার শব্দটাই ভুলে যান। যদি মনে হয়, আপনি প্রস্তুত নন বা কাংখিত কর্মক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ে যেতে পারছেন না। তাহলে হয়তো নিজেকে তৈরী করার জন্য কর্মভিত্তিক লেখাপড়া ও প্রশিক্ষণে মনোযোগ দিন অথবা যেকোনো কিছু শুরু করুন সেটা এফ কমার্স হোক, মার্কেটিং চাকরি হোক কিংবা অন্যকিছু।

 

 

ক্যারিয়ার হিসেবে ই-কমার্স একইসাথে সম্ভাবনাময় এবং চ্যালেঞ্জিং। এখানে দলগত এবং ব্যক্তিগত পারর্ম বিচার করা যায়। তাই যারা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে পারবে তাদের জন্য এটা একটা স্বর্ণালী ভবিষ্যতের হাতছানি আর যারা গতানুগতিক চাকরি বা কাজ করতে চায় এবং দায়সারা ভাবে দায়িত্ব পালন করতে চায় তারা এখানে কাজ করলে কিছুদিন ঝরে পড়বে।

যারা ভবিষ্যতের ডাকটা শুনতে পারবে, শত সমস্যার মুখে মাটি কামড়ে এখানে পড়ে থাকতে পারবে তাদের জন্য এখানে সফলতার হাতছানি আছে। বিশেষ করে যারা ৯টা-৫টা অফিস টাইম কিংবা কিছু একটা কাজ করাকে দায়িত্ব মনে করে না বরং একটা লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করবে এবং সে লক্ষ্য অর্জন ব্যতিত কাজ করে যাবে। তাদের জন্য এই খাত অপেক্ষা করছে।

পার্টটাইম কাজের জন্য পুরো বাংলাদেশটাই যথার্থ নয়। বাংলাদেশের কোনো খাতই যথার্থ নয়। তবে যাদের উন্নত ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সিস্টেম রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে টিম ও জুনিয়র পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ আছে। এটা যারা শিক্ষার্থী তাদের জন্য ঠিক আছে। ভবিষ্যতে সুযোগও তৈরী হবে। কিন্তু যারা এই খাতে নিজেকে শক্ত জায়গায় দেখতে চায় তাদের জন্য পার্টটাইম, খুব ভালো আইডিয়া নয়।

 

# ই-কমার্স পেশার আয়-রোজগার

এটা পারফর্মিং আর্ট মতো, যেখানে একজন শিল্পী কোটি টাকা কামাতে পারে আবার কেউ বিনা পারিশ্রমিকেও কাজ করতে পারে। আর এখানে এতো রকমের পদ ও পেশা রয়েছে নির্দিষ্ঠ করে বলা মুশকিল। যেমন একজন ডেলিভারী ম্যান ও একজন বাইক রাইডার মাসে ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকা রোজগার করতে পারে। আবার একজন কলসেন্টার এজেন্ট ১৫ থেকে ২০ হাজার, একজন ডিজিটাল মার্কেটার ২০ থেকে ২ লাখ টাকাও রোজগার করতে পারে। এখানে ছোট বড় কোম্পানী ও সেলস ভলিয়ম ভেদেও রোজগার ভিন্ন হতে পারে।

এটা আসলে এক কথায় বলা সম্ভব নয়। এখাতে ৩ হাজারের মতো পদ পদবি রয়েছে বাংলাদেশে অন্তত ৫শ পদ পদবি আছে। এগুলো আবার বিভিন্ন ধরনের রয়েছে। এই খাত বুঝতে হলে প্রথমে বুঝতে এটা কোনো আলাদা ব্যবসায়িক খাত নয়। ব্যবস্যার আলাদা একটা মাধ্যম মাত্র। যেমন একজন স্টোর কীপার যেমন এখানে ক্যাটালগ ম্যানেজার রয়েছে আবার স্টোরকীপারও আছে। তাই এই প্রশ্নটা আলাদাভাবে আসলে এটা ব্যাখ্যা করে বলা সম্ভব নয়।

 

# ই-কমার্সের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ

ই-কমার্সের প্রবৃদ্ধি বিগত বছরগুলো ৫০-৬০% ছিল।বিগত ২ বছর এটা ১০০% এর বেশী হয়েছে ক্ষেত্রবিমেষে ৩০০% প্রবৃদ্ধিও হয়েছে। শুধুমাত্র ফুড ডেলিভারী সেবায় বিশ্বের কোনো কোনো দেশে ৭০০% পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির খবর পাওয়া গিয়েছে করোনার কারণে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে হোটচ খেলেও ভবিষ্যতে বাজার অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক হবে ই-কমার্স খাত।

 

তবে ইতোপূর্বে আমাদের দেশে অনেক সেক্টর রয়েছে যেগুলোতে সমূহ সম্ভাবনা থাকা সত্বেও আমরা সে সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করেছি। এরকম নানা উদাহরণ রয়েছে এগুলো নিয়ে পরে এক সময় আলোচনা করব। আশাকরি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply