ইসলামী সম্মেলন সংস্থা ওআইসি ও এর সদস্য দেশ
ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা (OIC) বা Organization of Islamic Cooperation (OIC) বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ রক্ষা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে।
সংক্ষেপ পরিচিতি:
-
নাম: Organisation of Islamic Cooperation (OIC)
-
বাংলা নাম: ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা
-
প্রতিষ্ঠা: ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯
-
সদর দফতর: জেদ্দা, সৌদি আরব
-
সদস্য সংখ্যা: ৫৭টি দেশ
-
দর্শন (Motto): “The collective voice of the Muslim world”
ওআইসি সদস্যপদ লাভের শর্ত:
১. আবেদনকারী দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে হবে, বা মুসলিম জনগোষ্ঠী একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে হবে।
২. সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হতে হবে (জাতিসংঘ সদস্য হওয়া সহায়ক)।
৩. OIC এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।
৪. OIC-এর সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন পেতে হবে।
ওআইসি-এর ৫৭টি সদস্য দেশ (আংশিক তালিকা):
| অঞ্চল | দেশসমূহ |
|---|---|
| মধ্যপ্রাচ্য | সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, ওমান, ইয়েমেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, সিরিয়া |
| দক্ষিণ এশিয়া | বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ |
| আফ্রিকা | মিসর, নাইজার, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, মালি, চাদ, সুদান, সোমালিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, তিউনিসিয়া |
| ইউরোপ | তুরস্ক, আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা |
| মধ্য এশিয়া | কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান |
| দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া | ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই |
মোট জনসংখ্যা ও মুসলিম অনুপাত:
-
সদস্য দেশের সম্মিলিত জনসংখ্যা (২০২৩ অনুযায়ী): প্রায় ১.৯ বিলিয়ন (১৯০ কোটিরও বেশি)
-
মুসলিম জনসংখ্যা: আনুমানিক ১.৬ বিলিয়ন (৮৫% এর বেশি)
-
অর্থাৎ বিশ্ব মুসলিমদের প্রায় ৯৫% মানুষই OIC সদস্য দেশের নাগরিক।
ওআইসি-এর মূল কাজ ও কার্যক্রম:
-
মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও সহযোগিতা।
-
ফিলিস্তিন ও মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান।
-
ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণার প্রতিবাদ ও স্পষ্টীকরণ।
-
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়ানো।
-
মানবাধিকার ও শিক্ষা উন্নয়ন, বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা।
-
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ রক্ষা।
ওআইসি-এর উল্লেখযোগ্য সফলতা:
| সফলতা | বর্ণনা |
|---|---|
| ️ ফিলিস্তিন ইস্যুতে সক্রিয়তা | ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ে অন্যতম আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর। |
| ইসলামফোবিয়া প্রতিরোধে বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য | জাতিসংঘে ১৫ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক ইসলামফোবিয়া বিরোধী দিবস’ ঘোষণার প্রস্তাবনা দেয়। |
| ISESCO প্রতিষ্ঠা | ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে ISESCO (Islamic World Educational, Scientific and Cultural Organization) প্রতিষ্ঠা। |
| Islamic Solidarity Fund (ISF) | দুর্যোগপীড়িত মুসলিম দেশগুলোতে আর্থিক সহায়তা প্রদান। |
| বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলন | মুসলিম দেশগুলোকে প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভর করার আহ্বান ও সম্মেলন আয়োজন। |
| Scholarship Programs | মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি, বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে। |
সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জ:
-
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতানৈক্য OIC-এর কার্যকারিতাকে ক্ষুণ্ণ করে।
-
সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরান-সৌদি দ্বন্দ্ব, রোহিঙ্গা সংকট ইত্যাদি ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকার ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
-
ফিলিস্তিন ইস্যুতে শক্তপোক্ত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ কম।
উপসংহার:
OIC বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যা মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, উন্নয়ন ও আত্মরক্ষায় কাজ করে। যদিও বাস্তবায়নের দিক থেকে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে এটি মুসলিম দেশগুলোর কণ্ঠ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

