Doing Business বা ব্যবসা সহজীকরণ প্রসঙ্গ

Doing Business বা ব্যবসা সহজীকরণ প্রসঙ্গ

Doing Business বা ব্যবসা সহজীকরণ 

 

Doing Business বলতে বোঝানো হয় একটি দেশে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করার ক্ষেত্রে যে নিয়ম, প্রক্রিয়া, সময় ও খরচ জড়িত থাকে তার একটি পরিমাপ বা বিশ্লেষণ। সাধারণত এটি একটি বিশ্বব্যাপী সূচক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তুলনা করা হয়।

বিশদভাবে বলতে গেলে:

Doing Business বলতে বোঝায়:

  1. ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া (যেমন: রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স গ্রহণ)
  2. বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া ও ইউটিলিটি ব্যবস্থাপনা
  3. ট্যাক্স বা কর প্রদান পদ্ধতি
  4. ঋণ গ্রহণের সুযোগ ও আইনগত সুরক্ষা
  5. চুক্তি প্রয়োগযোগ্যতা ও বিচারব্যবস্থা
  6. সম্পত্তি নিবন্ধন ও মালিকানা হস্তান্তর
  7. সীমান্ত বাণিজ্যের নিয়ম ও সময়সীমা
  8. সংকটের সময়ে ব্যবসা বন্ধ বা দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া

Doing Business সূচক:

বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর “Doing Business Report” প্রকাশ করত (২০০৩-২০২০ সাল পর্যন্ত), যেখানে বিশ্বের ১৯০টি দেশের ব্যবসার পরিবেশ মূল্যায়ন করা হতো। এতে বাংলাদেশের অবস্থানও মূল্যায়িত হতো এবং সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পদক্ষেপ নিত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে:

Doing Business ভালো করার মানে হলো

  • ব্যবসা সহজ করা,
  • বিনিয়োগ আকর্ষণ করা,
  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা,
  • অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়ানো।

Doing Business বা ব্যবসা সহজীকরণ কতটা দরকার?

Doing Business বা ব্যবসা সহজীকরণ একটি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক ও নীতিগত দিক। এটি সরাসরি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রাজস্ব আয়, এবং সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত। নিচে বিভিন্ন দিক দিয়ে বিষয়টির গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:

 

১. বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণে সহায়ক

  • ব্যবসা সহজ হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উদ্বুদ্ধ হন।
  • বিশ্বব্যাংকের Doing Business সূচকে উন্নতি পাওয়া মানে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া।
  • উদাহরণস্বরূপ, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়া Doing Business র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি ঘটিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ বহুগুণ বাড়িয়েছে।

২. উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

  • সহজ ও কম খরচে ব্যবসা শুরু করা গেলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়।
  • SME এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
  • ফলে প্রচুর কর্মসংস্থান হয়, যা বেকারত্ব হ্রাস করে।

৩. রাজস্ব আয় ও অর্থনীতির আনুষ্ঠানিকীকরণ

  • সহজ ব্যবসা নীতির মাধ্যমে ফর্মাল সেক্টরে ব্যবসা বৃদ্ধি পায়।
  • সরকারের কর কাঠামোর আওতায় বেশি ব্যবসা আসায় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায়।
  • মুল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আয়কর, শুল্ক ইত্যাদি উৎস থেকে আয় বাড়ে।

৪. বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা

  • সহজ আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ায়।
  • বাংলাদেশের মতো রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।
  • Doing Business সূচকে ভাল র‍্যাংক থাকলে দেশের ইমেজ উন্নত হয় এবং বাণিজ্যিক চুক্তি সহজ হয়।

৫. অবকাঠামো ও সেবা উন্নয়নের উৎসাহ

  • ব্যবসা সহজ করতে গিয়ে সরকার বাধ্য হয় বিদ্যুৎ, গ্যাস, রাস্তাঘাট, প্রশাসনিক সেবা উন্নয়ন করতে।
  • ফলে দেশের অবকাঠামোও উন্নত হয় যা জনগণের জন্যও উপকার বয়ে আনে।

৬. আইনি নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন

  • ব্যবসায়িক চুক্তি বাস্তবায়ন সহজ হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে।
  • বিশেষ আদালত বা ADR ব্যবস্থার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও স্থিতিশীল হয়।
  • এর প্রভাবে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সুশাসনের মানোন্নয়ন ঘটে।

৭. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

  • Doing Business সূচকের প্রতিটি উপাদান যেমন: ব্যবসা শুরু, বিদ্যুৎ সংযোগ, কর পরিশোধ, চুক্তি বাস্তবায়ন—এই সবগুলোতেই উন্নয়ন হলে একটি দেশের GDP প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।
  • উদাহরণস্বরূপ, রুয়ান্ডা Doing Business সূচকে উত্তরণ ঘটিয়ে আফ্রিকার অন্যতম উদীয়মান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply