বাড়ন্ত শিশু
শিশুর বেড়ে উঠার সময় মা বাবার মনোযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ

সতর্ক থাকুন সোনামনি বেড়ে উঠছে

সতর্ক থাকুন সোনামনি বেড়ে উঠছে

 

আপনার সোনামনি বড়ো হচ্ছে। বসা থেকে হামাগুড়ি তারপর হাঁটতে শুরু করেছে। এটাওটা মোটকথা হাতের কাছে যা পা্য় ধরছে। মুখে দিচ্ছে। এটা ওটা দেয়ার জন্য বায়না করছে। বড়োদের জুতা পরছে। ওড়না দেয় ঘোমটা দেয়ার চেষ্টা করছে। দা ও কাঁচি দিয়ে কিছু কাটতে চাচ্ছে। পানি নিয়ে খেলতে পছন্দ করছে। আপনার দেখতে বেশ ভালো লাগছে। দুষ্টুমির মাঝে আবার সুন্দর ক’টা দাঁত বের করে মায়াময় হাসি হাসছে। আপনি হয়তো তামাশা দেখছেন। তবে এই সময়ে কোনো ভাবেই অসাবধানী হলে চলবেনা।

১. ব্লেড, দা, চাকু, সুই সাবধানে রাখুন

আপনার কাটাকুটি দেখে শিশুর কৌতুহলে হবে সে দা কাচি ব্লেড দিয়ে কাটতে চাইবে বা খেলতে চাইবে এই সময় শিশুর অন্তত এই ইচ্চাকে প্রাধান্য দেবেন না। মারাত্বক কোনো বিপদ বয়ে আসতে পারে। হাত পা এমনকি চোখ মুখও কাটা যেতে পারে। এ ছাড়া এগুলো এমনভাবে রাখবেন না। যাতে শিশুর হাঁটা চলার পথে তার হাতে পায়ে লাগতে পারে।

২. ঔষধ নাগালের বাইরে রাখুন

বড়োদের বা যেকোন কারো খাওয়ার ঔষধ. অয়েন্টমেন্ট কিংবা ট্যাবলেট ক্যাপসুল এমন স্থানে রাখুন যাতে শিশু ধরতে না পারে। শিশু এগুলো কৌতুল বশত মুখে দিতে পারে, গায়ে মাখতে পারে এমনকি ভেঙ্গে নষ্ট করে ফেলতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন।

৩. কীটনাশক হাতের কাছে নয়

আপনার জমির জন্য কিংবা তেলাপোকা পিপড়া আরশোলার জন্য ঘরে কীটনাশক থাকতে পারে। কীটনাশক বিষ ছাড়া আর কিছু নয়। বহু মানুষ কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে। রেটকিলার খেয়েও মানুষ মৃত্যর ঘটনা ঘটে। তাই এসব জিনিস অবশ্যই অবশ্যই শিশুর নজরের বাইরে রাখুন। একটি ছোট ভুল আপনাকে কান্নার সাগরে ভাসাতে পারে। তাই এসব ব্যাপারে একটুও গাফিলতি নয়।

৪. ম্যাচ, আগুন, সাবান, মরিচ দূরে রাখুন

ছোট শিশুদের আগুনের প্রতি কৌতুহল থাকে তাই আগুন ধরতে চেষ্টা করে। দিয়াশলাই ছোট একটা বাক্স শিশু এগুলো হাতে পেলে ণস্ট করতে পারে। সাবানে হাত লাগিয়ে পরে হাত মুখে কিংবা চোখেও লাগাতে পারে। বিশেষ করে মরিচ ধরে শিশু যদি আবার চোখে হাত দেয় তাহলে চোখ জ্বলবে। প্রথমত এগুলো যেন শিশু ধরতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। কোন কারণে ধরে বসলে হাত ভালো করে ধুয়ে দিন।

৫. পানি ও বালতি

ভাবছেন পানি আর বালতি আবার কি ক্ষতি করলো। এটাতো আগুনও নয় মরিচও নয়। আধাবালতি পানি আপনার শিশুর জীবন নাশের কারণ হতে পারে। প্রতিবছর অসংখ্য শিশু অল্প পানি আছে এমন বালতিতে খেলতে গিয়ে প্রাণ হারায়। শিশু পানি ধরতে চেয়ে বালতির মধ্যে নিচের দিকে মাথা দেয় ঠিক সেসময় উপুড় হয়ে পড়ে গেলে বালতিতে যদি ২ ইঞ্চি পানি থাকে শিশুর মাথা পড়ার পর পানির উচ্চতা ৪ ইঞ্চি বা তার বেশী হয়ে যায় ফলে শিশুর নাক ও মুখ উল্টোভাবে পানিতে ডুবে যায়। তখন শিশু কানতে কিংবা চিৎকার করতে পারে না। আর ঠিক সেসময়ে মা কিংবা পরিবারের কেউ না দেখলে কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে শিশুর মৃত্য হতে পারে। তাই সাবধান থাকুন এবং সতর্ক থাকুন।

৬. বেশীক্ষণ চোখের আড়াল রাখবেন না:

শিশু হাঁটতে শিখলে সারাক্ষণ চঞ্ছলভাবে এদিক সেদিক দৌড়াতে পারে। শিশুর দিকে নজর দিন। গ্রামে হলে পানিতে বা পুকুরে চলে যেতে পারে শহরে সিড়ির কাছে চলে গেলে সিড়ি গড়িয়ে পড়ে মারাত্বক দূঘটনা হতে পারে। এছাড়া ঘরের বাইরে গেলে আজকাল শিশু চুরির মতো ঘটনা ঘটছে। একটি চক্র কোনো একটা শিশুকে টার্গেট করে আশেপাশে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকে তারপর কয়দিন পর শিশুটি চুরি করে পালিয়ে যায়। তারপর হয়তো মুক্তিপন দাবী করে নয়তো শিশুটিকে বেচে দেয়।

৭. হাত ও পায়ের দিকে খেয়াল রাখুন:

শিশু এদিক ওদিক হাঁটছে ঘুরছে েএটা ওটা দেখছে আবার ধরছে। হাতের দিকে খেয়াল করুন কিছু ধরতে গিয়ে হাতে ময়লা লাগতে পারে। পরে চোখে হাতি দিলে চোখ জ্বলতে পারে কিংবা কোনো কিছু মুখে দিলে সে ময়লা মুখে চলে যেতে পারে। এতে কোনো ক্ষতির কারণ হতে পারে। পায়ে ময়লা লাগলে সাথে সাথে পরিষ্কার করুন। শিশুর পা থেকে ময়লা অন্যকিছুতে লাগতে পারে। ময়লার কারণে রাতে শিশু ঘুমালে পা চুলকাতে পারে। যেখানে সেখানে বসে গেয়ে প্যান্ট ময়লা করলেও পাল্টে নিন। হিসু করে দিলেও তাই করুন।

৮. খেলনা উপকরণ বাছাইতে সাবধানী হোন

এই সময়ে বিশেষ করে ১ থেকে ৫ বছর বয়সে শিশুকে অনেকে খেলার জন্য মারবেল, কিংবা কয়েন দিয়ে থাকেন এমন ভুল করবেন না। এ ধরনের ভুল থেকে বড়ো ধরনের বিপদ হতে পারে। শিশু মারবেল ও মুদ্রা মুখে দিতে পারে তা পেটে চলে যেতে পারে কিংবা গলায় আটকে যেতে পারে। গলায় মারবেলে আটকে শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। মোটকথা এমন কিছু শিশুর হাতে দেবেন না। যা শিশু মুখে পুরে দিতে পারে।

৯. কাগজ কাঁচের বোতল রান্না করা দ্রব্য সাবধানে রাখন

কাগজ মানে বইপত্র। এই বয়সটা শিশুর কাছে একটা এক্সপেরিমেন্টাল বয়স। শিশু হাতের কাছে যা পাবে তা মুখে মুরে দিতে পারে। ছিড়ে ফেলে নস্ট করে দিতে পারে। এমনকি জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিতে পারে। ওর কৌতুলি মন ওকে পরীক্ষামুলকভাবে এটা করতে উৎসাহিত করে। কখনো কখনো জানালা দিয়ে মোবাইল ফোন বা দরকারী কিছু ফেলে দিয়ে শিশু আনন্দ পায়। তাই এগুলো হেফাজতে রাখুন। জরূরী কাগজ ছিড়ে ফেলতে পারে। কাঁচের বোতল হাত থেকে ফেলে ভেঙ্গে ফেলতে পারে। তরি তরকারী ফেলে দিতে পারে।

 

আপনার অসাবধানী মন যেমন বড়ো বিপদের কারণ হতে পারে। তেমনি আপনার সতর্কতার কারণে কোনো বিপদ থেকে সমাধান মিলতে পারে। তাই সোনামনির জন্য সাবধানী হোন। কোনো অঘটন ঘটে গেলে আপনাকে কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবেনা সেই মিষ্টি চাহনী। কেউ কোলে এনে দিবেনা আপনার জীবনপন ধনকে।

লেখা-জাহাঙ্গীর আলম শোভন

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply