পড়া মনে রাখার উপায়
মা বাবারা সন্তানের যেসব বিষয় নিয়ে বিচলিত সেগুলোর আরেকটি হলো পড়ালেখা। তারা চায় সন্তান ফল ভালো করুক, পড়া মনে রাখুক এবং পরীক্ষার খাতায় লিখতে পারুক। এজন্য গমগমড়ম মুখস্থ বিদ্যার জয়জয়কার। অথচ আমরা ভুলে যাইযে পড়া শেখার বা মনে রাখার জন্য মুখস্থ বিদ্যা ভালো উপায় নয়। আসুন তবে এই বিষয়ে আজ পাঠ করা যাক।
১. বুঝে পড়াটা গুরুত্বপূর্ণ
না বুঝে পড়ার প্রবণতা ও মানসিকতা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করেছে। এর ফল হলো মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে পাশ করে আসা এবং পাস করার পর ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে শিক্ষার অকার্যকারিতা। কিন্তু কেন আমরা শুধু পরীক্ষা পাসের জন্য সন্তানকে পড়াবো? পরীক্ষা পাস করাতো জীবনের ছোট একটা অংশ। আপনার সন্তান জীবন যুদ্ধে পাশ করুক এটা কি আপনি চান না। যদি চান তবে কেন অবহেলা? তাই অবশ্যই আপনার সন্তান যেন যা ই পড়ে, সেটা বুঝে পড়ে। বুঝে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বুঝে পড়লে সে পরীক্ষায়ও পাস করতে পারবে এবং শিক্ষাকে নিজের জীবনেও কাজে লাগাতে পারবে।
২. লেখার সঙ্গে চিত্রটা থাকুক
আমরা কোনো নাম বা তথ্য মনে রাখি তার সাথে নিশ্চই আমরা বাস্তবিক বা কাল্পনিক কোনো ইমেজ মনে রাখি বা রাখার চেষ্টা করি। আমাদের মস্তিস্ক সেভাবেই আমাদের মাথায় সব কিছু সেভ করে। যেমন আমার বন্ধুর নামের সাথে ছবিটাও আমি আমার মাথায় জমা রাখি। এভাবে আমরা একটা ভিজুয়ালের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ করি। তাই যা পড়ি তার ছবি, ইমেজ, স্কেচ, ভিডিও, বাস্তব বস্তু এগুলো আমরা দেখে রাখতে পারি। আর কিছু না হোক শব্দের ওয়ার্ড আর্ট অনেক সময় আমাদের মনে দাগ কাটে। যেমন আমরা হয়তো বাটা শব্দটা যতটা জুতো দিয়ে মনে রাখি তার চেয়ে বেশী বাটা লেখা লোগো আমার মনে ভেসে উঠে। এভাবে আমরা কোনো জিনিস ভালোভাবে বুঝে তার একটা দৃশ্যেকল্পের মাধ্যমে আমরা বিষয়টা মনে রাখি।
৩. ব্যবহারিক জ্ঞান আয়ত্ত করা চাই
বিদ্যালয়ে কিছু কিছু বিষয়ে ব্যবহারিক পাঠদান থাকে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই থাকে না। কিন্তু আমাদের অনেক সিলেবাস বোঝাই বই এর চেয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান দরকারী বিদ্যাটা আয়ত্ব করার জন্য, সেটা দিতে পারে, যেটাকে আমরা বলি হাতে কলমে শিক্ষা। একটা কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে? এই প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থী নোট বইতে মুখস্ত করবে কেন? এটাতো সে কম্পিউটার শিখে ও দেখে শিখবে।
৪. মাঝে মাঝে পূনরাবৃত্তি প্রয়োজন
একটা পড়া শেখার বা আয়ত্ত করার পর মাঝে মধ্যে দেখা উচিত সেটা শিক্ষার্থীর মনে আছে কিনা? এটা একজন ছাত্র মা-বাবা, টিচার, বন্ধু এমনকি নিজে নিজেও করতে পারে। যাই শিখি মাঝে মধ্যে ঝালাই করে নিলে আর ছুটবেনা।
৫. পড়ার সঙ্গে নোট করুন
পড়া নোট করা ভালো অভ্যাস কোনো বিষয় পাঠ করার সঙ্গে সঙ্গে সেটি খাতায় লিখতে হবে। একবার পড়ে কয়েকবার লিখলে সেটা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়। এতে বানান সঠিক হয় এবং হাতের লেখা দ্রুত হতে সাহায্য করে। পড়া মনে রাখতে হলে শেখার সঙ্গে সঙ্গে বেশি বেশি লেখার অভ্যাস করতে হবে। সাধারণত কোনো বিষয়ে পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একবার লিখতে হয়।
৬. শেখার পর নিজেকে মূল্যায়ন করুন
পড়া বোঝা হলো শেখাও হলো। কিন্তু সেটা কোন মানের? মানে ছাত্র পড়াটা যতটা পড়েছে ততটা যদি সে লিখে বা প্রকাশ করে আসলে কতটা প্রকাশ করতে পারে? আর প্রকাশ করলেও সে খানে কত মার্কস পাবে। আর যে শেখা হয়েছে সেটাই বা কতটা হয়েছে। এটা নিজে লিখে বা প্রশ্ন করে উত্তর নিয়ে যাচাই করা উত্তম। এতে করে একজন শিক্ষার্থী ওই বিষয়ে তার ভুল ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়।
৭. শেখা বিষয়টা গল্পের ছলে ডিসকাশন
গ্রুপ ডিসকাশন একটা বহুল প্রচলিত ও কার্যকর উপায়। কোনো বিষয় ক্লাসে পড়ার পর সেটা আড্ডার সময় বন্ধুদের সঙ্গে গল্পের মতো করে উপস্থাপন করতে হবে। তাহলে যেকোনো বিষয় একটা গল্পের মতো মনে হবে। এখানে উচ্চতর বিদ্যায় গ্রুপ ডিসকাশন একটি অন্যতম ব্যাপার। বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ে টিউটোরিয়াল ক্লাস এর কথা আমরা জানি। একজন যা জানলো বা বুঝলো একজন আরেজনের কাছ থেকে জানলো তা শুনলো। এভাবে কারো কোনো জায়গায় ঘাটতি থাকলে তা পূরণ হয়ে যায়।
- লেখা জাহাঙ্গীর আলম শোভন
- লেখাটি কপি পেষ্ট করে প্রকাশ করা নিষেধ
- সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার, ইমেইলে লিংক প্রকাশ সাপেক্ষ
- অংশবিশেষ বা কোনো রেফারেন্স প্রকাশ করতে হলে তথ্যসূত্র উল্লেখ করা বাঞ্চনীয়।

