রাজা-বাদশার সন্তানসংখ্যা
রাজা-বাদশার সন্তানসংখ্যা

রাজা-বাদশার সন্তানসংখ্যার বিস্ময়কর তথ্য

রাজা-বাদশার সন্তানসংখ্যা: ইতিহাসের বিস্ময়কর রেকর্ড

ইতিহাসে এমন অনেক সম্রাট রয়েছেন, যাদের পরিবার, সন্তানসংখ্যা এবং হেরেমের জীবন সাধারণ মানুষকে চমকে দেয়। মরক্কোর সম্রাট মুলাই ইসমাইল (Mulai Ishmail-1646-1727) ছিলেন এই তালিকার শীর্ষে। সম্রাট মুলাই ইসমাইলের সন্তানের সংখ্যা ছিল অসাধারণ—মোট ৮৮৮ জন। এই বিশাল সংখ্যার পেছনে ছিল সম্রাটের দেহরক্ষী বাহিনী, হেরেমের কঠোর নিয়ম এবং গুইন্ড নামক প্রধান নাপিতের সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশ।

সম্রাট মুলাই ইসমাইলের দেহরক্ষী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল ৫৪০, এবং এই বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যই ছিলেন সম্রাটেরই পুত্র। রাজপ্রাসাদের হেরেমে সন্তানসংখ্যা গণনার দায়িত্বে ছিলেন প্রধান নাপিত গুইন্ড। হেরেমের নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনও বেগমের পুত্রসন্তান জন্মায়, নাপতিকে দিতে হতো একটি সোনার ক্ষুর। কন্যাসন্তান জন্মালে নাপতিকে দিতে হতো রূপার আয়না। এই নিয়মের মাধ্যমে সম্রাট সন্তানের সংখ্যা এবং লিঙ্গ শনাক্ত করতেন।

রাজত্বকালের শেষে গুইন্ড হিসাব করে দেখেন, মোট ৫৪৮টি সোনার ক্ষুর এবং ৩৪০টি রূপার আয়না জমা পড়েছে। এই হিসাব থেকে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায়, সম্রাট মুলাই ইসমাইলের সন্তানসংখ্যা ঠিক ৮৮৮ জন। এটি শুধু সংখ্যা নয়, বরং সেই সময়ের রাজপ্রাসাদের হেরেম এবং রাজনৈতিক কাঠামোর এক বিস্ময়কর রেকর্ড।

তুরস্কের ইতিহাসেও এমন চমকপ্রদ ঘটনা দেখা যায়। সুলতান আবদুল হামিদ দ্বিতীয় (Sultan Abdul Hamid II-1876-1909) ছিলেন এমনই একজন সম্রাট। তাঁর সন্তানসংখ্যা আনুমানিক ৫০০ জন। তবে যা আরও বিস্ময়কর, তাঁর বেগমের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০,০০০। এই বিশাল সংখ্যার বেগমদের সঙ্গে সুলতানকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে রাজপ্রাসাদ পরিচালনা করতে হতো। এটি ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত।

আরেক সম্রাট, তুরস্কের চতুর্থ মোস্তাফা (Sultan Mustapha IV-1717-1774)-এর জীবনও চমকপ্রদ। তাঁর সন্তানসংখ্যা ছিল ৫৮২ জন, এবং এরা সবাই পুত্র। তিনি কন্যাসন্তানের প্রতি বিশেষ আকাঙ্ক্ষা রাখতেন। তাই নতুন বেগম গ্রহণের সময় একটাই শর্ত রাখতেন—তাকে একটি কন্যাসন্তান উপহার দিতে হবে। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছরে একটিও কন্যা সন্তান তাঁর হেরেমে জন্মাতে পারেনি।

সম্রাট মোস্তাফার জীবনে বিয়ে ও শর্তের ঘটনা অত্যন্ত অনন্য। জীবনে মোট ৬৫২ জনকে বিয়ের জন্য পাকা কথা দিয়েছিলেন, তবে অনেকের সঙ্গে বিয়ে হয়নি। তিনি নিজস্বভাবে ৫৩ জন পুরুষকে বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু কারো সঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করতে পারেননি। তাঁর ২৩ বছরের বিবাহিত জীবনের হিসাব করলে দেখা যায়, প্রায় প্রতি ১২ দিন পর তিনি নিজের মত পরিবর্তন করতেন। এই রেকর্ড আজও ইতিহাসে বিরল।

এই ঘটনাগুলো শুধু সংখ্যা বা রেকর্ড নয়, বরং ইতিহাসের এক বিস্ময়কর দিকও তুলে ধরে। সন্তানসংখ্যা, হেরেমের নিয়মকানুন, বেগমদের সংখ্যা এবং সম্রাটদের ব্যক্তিগত জীবন—সব মিলিয়ে ইতিহাসে এই সম্রাটদের জীবন আজও পাঠককে বিস্মিত করে। তাদের জীবন আজও মনে করিয়ে দেয়, রাজা-বাদশাদের জীবন কখনও সাধারণ মানুষের জীবনকে অনুসরণ করে না। তাদের রাজত্ব, সন্তানের সংখ্যা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত—সবই ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য ছাপ রেখেছে।

সম্রাটদের এই বিস্ময়কর জীবনকাহিনি প্রমাণ করে যে, ইতিহাস শুধু যুদ্ধ, বিজয় বা রাজনীতিরই নয়, ব্যক্তিগত জীবন এবং পরিবারসংখ্যার বিচিত্রতা নিয়েও লেখা যায়। রাজা-বাদশার সন্তানসংখ্যা ও বেগমদের সংখ্যা আমাদেরকে মানব ইতিহাসের অদ্ভুত দিকগুলো অনুধাবন করতে সাহায্য করে।

সূত্র: জ্ঞানের কথা
সৌজন্যে: টিম শোভনীয়
ছবি: ইন্টারনেট

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply