mohsin

গুদামঘর ভাড়ার চুক্তি পত্র

ভাড়ার চুক্তি পত্র

গুদাম ভাড়ার চুক্তি হলো ভাড়াদাতা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে একটি আইনগত সমঝোতা, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়া ও শর্তসাপেক্ষে গুদাম ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা হয়। এই চুক্তিতে ভাড়া, মেয়াদ, ভাড়াটিয়ার দায়িত্ব ও কর্তব্য, গুদামের রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস বিল পরিশোধ, নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতির দায়ভারসহ অন্যান্য শর্তাবলি উল্লেখ থাকে। উভয় পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা ও ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ এড়ানোর জন্য গুদাম ভাড়ার ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গুদাম ভাড়ার চুক্তির জন্য একটি চেকলিস্ট নিচে দিলাম:

 গুদাম ভাড়ার চুক্তি চেকলিস্ট

  1. ভাড়ার শর্ত

    • ভাড়ার পরিমাণ ও প্রদানের সময়সূচি

    • ভাড়ার মেয়াদ (শুরুর তারিখ ও শেষের তারিখ)

    • ভাড়া নবায়নের নিয়ম

  2. ব্যবহার ও উদ্দেশ্য

    • গুদাম ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য উল্লেখ

    • অবৈধ/অঅনুমোদিত কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ

  3. রক্ষণাবেক্ষণ ও খরচ

    • রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়ভার কার

    • বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বিল কে পরিশোধ করবে

    • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

  4. নিরাপত্তা ও সুরক্ষা

    • সিসিটিভি, তালা, নিরাপত্তারক্ষী ব্যবস্থা

    • অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করা

    • বীমা (Insurance) এর দায়িত্ব

  5. ক্ষয়ক্ষতি ও দায়ভার

    • ভাড়াটিয়ার কারণে ক্ষতি হলে দায়ভার

    • প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা

  6. চুক্তি ভঙ্গের শর্ত

    • আগাম চুক্তি বাতিলের নিয়ম ও জরিমানা

    • বিরোধ মীমাংসার ধারা (আদালত/আরবিট্রেশন)

  7. চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা

    • ভাড়াদাতা ও ভাড়াটিয়ার পূর্ণাঙ্গ নাম, ঠিকানা ও পরিচয়পত্র তথ্য

    • উভয় পক্ষের স্বাক্ষর ও তারিখ

    • অন্তত দুইজন সাক্ষীর স্বাক্ষর

প্রথম পক্ষ:মালিক

(১)

নাম:

পরিচয় পত্র নং-

পিতা/স্বামী-

মাতা-

ঠিকানা:

ধর্ম-ইসলাম

পেশা-

জাতীয়তা: বাংলাদেশী ।

মোবাইল নং:

 

(২)

দ্বিতীয় পক্ষ: ভাড়াটে
নাম:

পরিচয় পত্র নং-

পিতা/স্বামী-

মাতা-

ঠিকানা:

ধর্ম-ইসলাম,

পেশা-

জাতীয়তা-বাংলাদেশী ।

মোবাইল:

 

চুক্তি পত্র

 

পরমকরুণাময় মহান আল্লাহ তা’লার নাম স্মরন করিয়া অত্র উচ্ছেদযোগ্য ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্রের বয়ান আরম্ভ করিলাম। যেহেতু আমি অত্র ২৩/৩ জান্নাতবাগ, বাইলেন, বিজলী মহল্লা, ব্লক এফ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা এই ঠিকানায় অবস্থিত বাড়ির মালিক ও দখলদার এবং আমি এর নিচতলা অংশ বিশেষ ভাড়া দিতে আগ্রহী।

উক্ত অংশটি বাড়ির নিচতলা সিড়ি সংলগ্ন ২টি কক্ষ ও একটি বারান্দা যা কক্ষে রুপদান করা হয়েছে। এই তিনটি অংশ ছাড়াও একটি রান্নাকক্ষ ও একটি টয়লেট রয়েছে।  এতে প্রবেশের জন্য ভেতর ও বাহির দিকে থেকে দুটো দরজা রয়েছে।

অত্র ২য় পক্ষ উক্ত দোকান ঘরটি মাসিক ১৪,৫০০ (চৌদ্ধ হাজার পাঁচশত) টাকা ভাড়া মোতাবেক ২ (দুই) মাসের ভাড়ার সমান ২৯,০০০ (উনত্রিশ হাজার) টাকা জামানত ভাড়া নেওয়ার জন্য আমার স্মরনাপন্ন হন। ২য়পক্ষ ডিমের ব্যবসার জন্য গুদামঘর ও কার্যায়ল হিসেবে ভাড়া নেয়ার জন্য প্রস্তাব করলে আমি আপনার প্রস্তাবে সম্মত হওয়ায় আমরা উভয়পক্ষ অদ্যরোজ অত্র ভাড়াটিয়া চুক্তি নামা দলিল সহি-সম্পাদন করলাম।

তাং-৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫বারঃ- শর্তাবলী :-
১। উক্ত জামানতের ২৯,০০০ (উনত্রিশ হাজার)  টাকা ১ম পক্ষ/মালিকের নিকট গচ্ছিত থাকবে। মেয়াদমধ্যে ঘরটির কোন ধরনের ক্ষতি করলে বা ভাড়া কিংবা বিল বকেয়া থাকলে তা জামানতের টাকা হতে বাদ দিয়ে জামানতের অবশিষ্ট অংশ মেয়াদ শেষে  ১ম পক্ষ ২য় পক্ষকে ফেরৎ দিবে।

২। উক্ত  ভাড়ায় প্রদানকরা অংশটির মাসিক ভাড়া ১৪,৫০০/-(চৌদ্দ হাজার পাঁচশত) টাকা ধার্য হইল যাহা ২য় পক্ষ ভাড়াটিয়া প্রতি চলতি ইংরেজী মাসের ১-২০ তারিখের মধ্যে ১ম পক্ষ/মালিক বা তার মনোনীত যে কোন ব্যক্তির নিকট অথবা তার নির্ধারিত ব্যাংক হিসেবে পরিশোধ করে রশিদ গ্রহন করবেন।
৩। একাধিকক্রমে ৩ (তিন) মাস ভাড়া বকেয়া থাকলে অত্র চুক্তিপত্র বাতিল বলে গন্য হবে এবং ১ম পক্ষ জামানতের টাকা থেকে টাকা বকেয়া ভাড়া রেখে বাসা বুঝে নিতে পারবেন। এবং বকেয়া ভাড়া, বকেয়া বিল যদি থাকে আদায় করতে পারবেন। ভাড়াকালীন সময়ে স্থাপনার কোনোরুপ স্থায়ী ক্ষতি হলেও তার জন্য ক্ষতিপুরন আদায় করতে পারবেন ৷ তাতে ২য় পক্ষ/ভাড়াটিয়া-এর কোন প্রকার ওজরাপত্তি থাকবেনা।

৪। ২য় পক্ষ/ভাড়াটিয়া শুধুমাত্র চুক্তিপত্রে উল্লেখিত ব্যবসার জন্য ভাড়া দেয়া হয়েছে এছাড়া অন্য কোনো ব্যবসা করতে হলে স্থাপনা মালিককে অবহিত করতে হবে। এমনকি অবহিতকরণ ব্যতিত এখানে কোনো সাব-লেট ভাড়া দিতে পারবেন না।

৫। ২য় পক্ষ/ভাড়াটিয়া ব্যাবসা পরিচালনার সুবিধার্থে কোন সংস্থা বা ব্যাংক থেকে লোন গ্রহন করিলে নিজ দায়ীত্বে নিবেন, বাড়ির মালিক কোন প্রকার দায়ী থাকিবেন না।

৬। বর্ণিত ভাড়ার সাথে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাসবিল, ময়লারবিল ও সার্ভিস চার্জ বাবদ মাসিক ৭শত টাকা প্রদান করবেন। পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের মূল কপি ১ম পক্ষকে প্রতি মাসে বুঝিয়ে দিবেন। অন্যান্য চার্জ ভাড়ার সাথে যুক্ত থাকবে।

৭। ২য় পক্ষ কোন প্রকার বে-আইনী মালামাল, চোরাই মাল, মাদক, নিষিদ্ধ বা দাহ্য দ্রব্য গচ্ছিত রাখতে বা ব্যবসা পারবেনা। কিংবা রাজনৈতিক কর্ম কান্ড পরিচালনা, গান বাজনা, উচ্চ স্বরে রেডিও টেলিভিশন বাজাতে পারবেনা।

৮। দ্বিতীয় পক্ষ কক্ষগুলিকে নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখবে। কোনোরুপ ময়লা ও দূর্গন্ধ ছড়াতে পারবেনা। যদি এই শর্তভঙ্গ হয় তাহলে প্রথমপক্ষ তাকে ঘর ছাড়ার নোটিশ দিতে পারবেন।

৯। উক্ত চুক্তি পত্রের মেয়াদ ২০২৫ সনের ১লা অক্টোবর থেকে আগামী ২০২৮ সনের ৩০ শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ (তিন) বৎসর বলবত থাকবে। বর্ণিত মেয়াদ শেষে ২য় পক্ষ দোকান ঘরটি খালি করে ১ম পক্ষকে বুঝিয়ে দিতে বাধ্য থাকবেন। তবে উভয় পক্ষ সম্মত হইলে তখনকার ন্যায় নতুন ভাবে চুক্তি নবায়ন করতে পারবেন।
১০। কোন কারণ বশতঃ ২য় পক্ষ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে দোকান ছাড়িয়া দিতে চাহিলে কিংবা ১ম পক্ষ / মালিক পক্ষের ব্যক্তিগত কাজে প্রয়োজন হলে এক পক্ষ অপর পক্ষকে ২ (দুই) মাস পূর্বে লিখিত ভাবে নোটিশ প্রদান করে ঘর ছেড়ে দিয়ে বা দখল গ্রহন করতে পারবেন।
১১। মেয়াদ পূর্ণ হলে বাসা ছাড়ার পূর্বেই ২য় পক্ষ সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করবেন এবং ঘর ছেড়ে দেওয়ার পর ১ম পক্ষ জামানতের অবশিষ্ট টাকা ২য় পক্ষকে ফেরৎ দিবেন।
১২। উপরের বর্ণিত শর্ত-সমূহ ২য় পক্ষ লংগন করলে অত্র ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র বাতিল বলে গন্য হবে। তদাবস্থায় ২য় পক্ষ ঘরটি খালি করে ১ম পক্ষকে দখল বুঝে দিতে বাধ্য থাকবে।

এতদ্বার্থে স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ শরীরে ও মুক্ত মস্তিষ্কে অন্যের বিনা প্ররোচনায় মোকাবেলায় আমরা উভয় পক্ষ অত্র দোকান ভাড়া চুক্তিনামা দলিল সম্পাদন করলাম ।

তারিখ-………………….. ইংরেজী।

ভাড়াকৃত গুদামঘরের তপসিল পরিচয়

জিলা-ঢাকা, থানা –মোহাম্মদপুর, বিজলী মহল্লা, ২৩/৩ জান্নাতবাগ, বাইলেন, অবস্থিত নিচতলা, দক্ষিণপাশ্ব = ০০০ বর্গফুট,
অত্র ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র দলিল ৩ (তিন) ফর্দে কম্পোজকৃত ও ২ (দুই) জন হাজিরান স্বাক্ষী বটে ।

 

১ম পক্ষ/মালিকের স্বাক্ষর : – ২য় পক্ষ/ভাড়াটিয়ার স্বাক্ষর : –

১।

২।

৩।

গুদাম ভাড়ার চুক্তি করার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও সতর্কতা অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হয়। প্রথমত, ভাড়ার অঙ্ক, প্রদানের সময়সূচি এবং মেয়াদ স্পষ্টভাবে লিখিত আকারে উল্লেখ থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, গুদামের ব্যবহারিক উদ্দেশ্য পরিষ্কার করা জরুরি, যেন কোনো অবৈধ বা অননুমোদিত কাজে ব্যবহার না হয়। গুদামের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস) কে বহন করবে তা নির্ধারণ করতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অগ্নি নির্বাপণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং বীমা (Insurance) সংক্রান্ত দায়ভারও চুক্তিতে যুক্ত করা উত্তম। পাশাপাশি, ভাড়া মেয়াদ শেষে গুদাম ফেরত দেওয়ার শর্ত, ক্ষয়ক্ষতি হলে দায়বদ্ধতা এবং চুক্তি ভঙ্গের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। সবশেষে, আইনগত জটিলতা এড়াতে উভয় পক্ষের স্বাক্ষর ও সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply