দোকান বিক্রয় দলিল
একটি দোকান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিক্রয়ের সময় একটি সঠিক ও আইনগতভাবে বৈধ বিক্রয় দলিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দলিল ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই অধিকার ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে এবং ভবিষ্যতে কোনো দ্বন্দ্ব বা misunderstandings এড়াতে সহায়তা করে। নিম্নে একটি আদর্শ দোকান বিক্রয় দলিলের উদাহরণ দেওয়া হলো।
বিক্রয় দলিল
নাম: মোঃ সোহেল রহমান, পিতা: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকানা: ৪৫/বি, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬, জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।
(প্রথম পক্ষ / বিক্রেতা)
প্রথম পক্ষ:
আমি, মোঃ কামরুল হাসান (ডাকনাম: সাগর), আমার নগদ টাকার প্রয়োজন হওয়ায়, ভাড়া নেওয়া আমার একটি দোকান ও অন্যান্য সম্পত্তি বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উক্ত দোকানের মালিকানা নিয়ে বাড়িওয়ালার সাথে আমার কোনো বিরোধ নেই মর্মে নিশ্চিত করছি।
প্রথম পক্ষ আমি, মোঃ সোহেল রহমান, বাড়িওয়ালার সাথে পূর্ব আলোচনা সাপেক্ষে নিম্নলিখিত শর্তে আমার দোকান ও মালামাল বিক্রির প্রস্তাব করিলাম। আলোচনা অনুযায়ী, বিক্রির অগ্রিম (এডভান্স) বাবদ মোট ৭০,০০০/- (সত্তর হাজার) টাকা আমি গ্রহণ করিয়াছি। এছাড়া, দোকানের জন্য কোকাকোলা কোম্পানির সাথে একটি ডিল/চুক্তি রয়েছে, তারিখ: ০৫/১২/২০২৩ ইং। আমি, মোঃ সোহেল রহমান, আরও উল্লেখ করছি যে, দোকানের ভেতর থাকা একটি আইসক্রীম ফ্রিজ, একটি ব্র্যান্ডেড কাউন্টার (ব্রক) এবং দোকানের যাবতীয় মালামালসহ সমস্ত কিছুর মোট মূল্য ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকায় বিক্রি করার জন্য প্রস্তাব করিলাম।
দ্বিতীয় পক্ষ:
মোঃ রিয়াদ আহমেদ, পিতা: মোঃ নূর মোহাম্মদ, ঠিকানা: ৮৭/সি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭। আমি, মোঃ রিয়াদ আহমেদ, উক্ত দোকানের দুইটি ফ্রিজ (কোক আইসক্রীম ফ্রিজসহ) এবং দোকানের যাবতীয় মালামাল আলোচনা সাপেক্ষে সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে মোট ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকায় ক্রয় করার জন্য প্রস্তাব করি। প্রথম পক্ষ উক্ত দামে রাজি থাকাতে, আমি দ্বিতীয় পক্ষ হিসাবে সম্পূর্ণ রাজি থাকায়, প্রথম পক্ষ মোঃ সোহেল রহমানকে মোট টাকার অবশিষ্টাংশ ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা নগদ হিসাবে পরিশোধ করিয়া সম্পূর্ণ টাকা বুঝাইয়া দিলাম এবং নিম্নে আমি স্বাক্ষর করিলাম।
শর্তাবলী:
১. প্রথম পক্ষ (বিক্রেতা) নিশ্চয়তা দিলেন যে, দোকানের ফ্রিজগুলি নিয়ে বাড়িওয়ালার সাথে কোনো রকমের তর্ক-বিতর্ক বা আইনগত জটিলতা না থাকিবে। যদি ভবিষ্যৎ কোনো কারণে ফ্রিজ নিয়ে বাড়িওয়ালার সাথে কোনো সমস্যা দেখা দেয় এবং ফ্রিজটি হস্তান্তর করা না যায়, তাহলে প্রথম পক্ষ দ্বিতীয় পক্ষকে প্রাপ্ত মোট ১,০০,০০০/- টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকিবেন।
২. কোকাকোলা কোম্পানির সাথে চুক্তিটি (ডিড) হস্তান্তর সম্পর্কিত সকল দায়দায়িত্ব প্রথম পক্ষের পরীক্ষা কাল হবে. কোম্পানী যদি আনুষ্ঠানিকতা চায়, তাহলে প্রথম পক্ষ, মোঃ সোহেল রহমান, দ্বিতীয় পক্ষ মোঃ রিয়াদ আহমেদ-কে সেই চুক্তিপত্র হস্তান্তর করতে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকিবেন।
৩. দোকান ভাড়া সম্পর্কিত বিষয়সমূহ বাড়িওয়ালার সাথে পৃথকভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং এটি এই বিক্রয় দলিলের আওতাভুক্ত নয়।
এতদ্ব্যতীত, স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ শরীরে, সরল মনে, অন্যের বিনা প্ররোচনায় অত্র দলিল পাঠ করিয়া ও পাঠ করাইয়া, শুনিয়া, উহার সম্যক মর্ম ভালভাবে অবগত হইয়া বিক্রির সমুদয় টাকা নগদ হাতে হাতে বুঝিয়া পাইয়া উপস্থিত স্বাক্ষরকারী স্বাক্ষীগণের মোকাবেলায় অত্র বিক্রয় দলিল সহি সম্পাদন করিলাম।
ইতি, তারিখ: ২৫শে ডিসেম্বর, ২০২৩ ইং
| প্রথম পক্ষ (বিক্রেতা) | দ্বিতীয় পক্ষ (ক্রেতা) | সাক্ষী (তৃতীয় পক্ষ) |
|---|---|---|
| মোঃ সোহেল রহমান মোবাইল: ০১৭১XXXXXXX |
মোঃ রিয়াদ আহমেদ মোবাইল: ০১৮১XXXXXXX |
মোঃ জaved করিম মোবাইল: ০১৯১XXXXXXX |
সাক্ষীগণ:
১. নাম: সাকিব আল হাসান, পিতা: মোঃ আলীমউল্লাহ, ঠিকানা: ১২/ডি, খিলগাঁও, ঢাকা
স্বাক্ষর: __________________
২. নাম: নুসরাত জাহান, পিতা: মোঃ সেলিম খান, ঠিকানা: ৩০/ই, বাড্ডা, ঢাকা
স্বাক্ষর: __________________
পরামর্শ:
১. আইনী পরামর্শ নিন: যেকোনো সম্পত্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিক্রির আগে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি দলিলটি আইনগতভাবে শক্তিশালী করতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবেন।
২. নিশ্চিত করুন: ক্রেতা হিসেবে বিক্রেতার সাথে মূল দোকান ভাড়ার চুক্তি এবং বাড়িওয়ালার নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) দেখে নিশ্চিত হোন যে দোকানটি আইনগতভাবে হস্তান্তরযোগ্য।
৩. টাকা লেনদেন: টাকার লেনদেন ব্যাংক চেক বা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে করুন এবং এর প্রমাণ (রসিদ) সংরক্ষণ করুন। নগদ টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করুন।
৪. চুক্তিপত্র রাখুন: এই দলিলের অন্তত দুটি কপি তৈরি করুন এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই যেন একটি করে স্বাক্ষরিত কপি সংরক্ষণ করেন।

