জমি বিক্রয়ের শর্তে টাকা গ্রহণের রসিদ ও চুক্তিপত্র (নমুনা)
এই নমুনাটি একটি জমি বিক্রয়ের চুক্তিপত্র (টাকা গ্রহণের রসিদ ও শর্তাবলী) এর সাধারণ কাঠামো উপস্থাপন করে। বাস্তবে কোনো চুক্তি সম্পাদনের আগে সংশ্লিষ্ট জমির সকল রেকর্ড যাচাই করা এবং একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচের চুক্তিপত্রটি সম্পাদনা করে সহজবোধ্য চলিত বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে এবং সকল ব্যক্তিগত তথ্য কাল্পনিক তথ্য দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রথম পক্ষ / বিক্রেতা:
নাম: আব্দুস সালাম
পিতা: আব্দুল হাকিম
ঠিকানা: গ্রাম: কাকাইল, ডাকঘর: নয়নাবাদ, থানা: আড়াই হাজার, জেলা: নারায়ণগঞ্জ
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
ধর্ম: ইসলাম
পেশা: কৃষি
দ্বিতীয় পক্ষ / ক্রেতা:
নাম: রফিকুল ইসলাম
পিতা: জহিরুল ইসলাম
ঠিকানা: গ্রাম: বন্দর, ডাকঘর: বন্দর, থানা: বন্দর, জেলা: নারায়ণগঞ্জ
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
ধর্ম: ইসলাম
পেশা: ব্যবসা
প্রস্তাবনা:
প্রথম পক্ষের মালিকানাধীন গ্রাম- কাকাইল, মোড়া সগুড়া বাড়ি, ডাকঘর: নয়নাবাদ, ইউনিয়ন: খাক্কানন্দা, থানা: আড়াই হাজার, জেলা: নারায়ণগঞ্জ- এ অবস্থিত ১৪ (চৌদ্দ) গন্ডা জমি বিক্রয় করতে চাইলে দ্বিতীয় পক্ষ তা ক্রয় করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর নিম্নলিখিত শর্তে উক্ত জমি বিক্রয়ের জন্য এই চুক্তিপত্রে উভয় পক্ষ নিজ নিজ সই ও স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির শর্তাবলী:
১। প্রথম পক্ষের ১৪ (চৌদ্দ) গন্ডা জমির মূল্য ৮,০০,০০০/- (আট লক্ষ) টাকা নির্ধারণ করা হয়।
২। গত ০৭/০৭/২০১৭ ইং তারিখে প্রথম পক্ষ উক্ত জমি বিক্রয়ের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় পক্ষের কাছ থেকে নগদ ৭,০০,০০০/- (সাত লক্ষ) টাকা গ্রহণ করেছেন। এই টাকা গ্রহণের রসিদ এই দলিলের মাধ্যমেই স্বীকৃত হলো।
৩। প্রথম পক্ষ উল্লেখিত ১৪ (চৌদ্দ) গন্ডা জমির দখল দ্বিতীয় পক্ষকে বুঝিয়ে দেবেন এবং বাকি ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা নগদ বুঝে নিয়ে উক্ত জমি দ্বিতীয় পক্ষের নামে আইনসম্মতভাবে রেজিস্ট্রি করে দিবেন।
৪। প্রথম পক্ষ আগামী অক্টোবর, ২০১৯ সালের মধ্যে জমির যাবতীয় বাধা-বিপত্তি মুক্ত করে নিষ্কন্টক অবস্থায় উক্ত ১৪ (চৌদ্দ) গন্ডা জমি দ্বিতীয় পক্ষের নামে রেজিস্ট্রি করে দিতে বাধ্য থাকবেন।
৫। প্রথম পক্ষের অবর্তমানে তার ওলি (বিধিসম্মত প্রতিনিধি) ও ওয়ারিশগণও উক্ত জমি দ্বিতীয় পক্ষের নামে রেজিস্ট্রি করে দিতে বাধ্য থাকবেন।
৬। প্রথম পক্ষ নিশ্চিত করেন যে, জমিটি কোনো প্রকার আইনি জটিলতা, দেনা, বন্ধক বা দ্বন্দ্বমুক্ত। কোনো প্রকার জটিলতা দেখা দিলে প্রথম পক্ষ এবং তার ওয়ারিশগণই সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয়া দ্বিতীয় পক্ষের সকল ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবেন।
৭। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম পক্ষ যদি জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে ব্যর্থ হন,তাহলে তিনি প্রাপ্ত ৭,০০,০০০/- (সাত লক্ষ) টাকা অতিরিক্ত ১২% বার্ষিক হারে সুদ সহ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন।
তফসিল:
জেলা: নারায়ণগঞ্জ
থানা: আড়াই হাজার
মৌজা: কাকাইল
জমির দাগ নং: ১২৩৪
জমির পরিমাণ: ১৪ (চৌদ্দ) গন্ডা
আমরা উভয় পক্ষ সম্পূর্ণ স্বজ্ঞানে ও সুস্থ মস্তিষ্কে, অন্যের কোনো প্ররোচনা ছাড়াই, এই চুক্তিনামা দলিলটি পড়ে, বুঝে এবং উপলব্ধি করে উপরোক্ত শর্তাবলী পালন করার অঙ্গীকার করছি। নিম্নে স্বাক্ষরকারী স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে আমরা নিজ নিজ নামে সই ও স্বাক্ষর করলাম।
ইতি, তারিখ: ১৫ নভেম্বর, ২০২৩
(এই দলিলটি ৩ (তিন) পাতায় কম্পিউটারে কম্পোজকৃত)
স্বাক্ষীগণের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর:
১. নাম: মো: জাহিদ হাসান
ঠিকানা: গ্রাম: কাকাইল, থানা: আড়াই হাজার
স্বাক্ষর: _________________
২. নাম: আব্দুল মান্নান
ঠিকানা: গ্রাম: নয়নাবাদ, থানা: আড়াই হাজার
স্বাক্ষর: _________________
৩. নাম: অমিত রায়
ঠিকানা: গ্রাম: খাক্কানন্দা, থানা: আড়াই হাজার
স্বাক্ষর: _________________
৪. নাম: সুমন মিয়া
ঠিকানা: গ্রাম: মোড়া সগুড়া, থানা: আড়াই হাজার
স্বাক্ষর: _________________
৫. নাম: করিমুল ইসলাম
ঠিকানা: গ্রাম: কাকাইল, থানা: আড়াই হাজার
স্বাক্ষর: _________________
| প্রথম পক্ষ/ বিক্রেতার স্বাক্ষর | দ্বিতীয় পক্ষ/ ক্রেতার স্বাক্ষর |
|---|---|
| (আব্দুস সালাম) | (রফিকুল ইসলাম) |
মুসাবিদাকারক (তৈরি করেছেন):
(মো: সাকিব আহমেদ)
৭৫, মাদারটেক, সবুজবাগ, ঢাকা।
পরামর্শ:
১. সব রেকর্ড যাচাই করুন: চুক্তি করার আগে জমির সি.এস., এস.এ., আর.এস. রেকর্ড, খতিয়ান, এবং সর্বশেষ খাজনা দেওয়ার রসিদ ভালোভাবে যাচাই করে নিন। জমিটি কোনো দেনা, বন্ধক বা আইনি মামলায় জড়িত কি না তা নিশ্চিত হোন।
২. ভূমি পরিমাপ করুন: চুক্তিতে উল্লিখিত জমির পরিমাণ (১৪ গন্ডা) প্রকৃত ভূমি পরিমাপের সাথে মিলিয়ে নিন। একটি লাইসেন্সধারী জরিপকারী (licensed surveyor)-এর মাধ্যমে জরিপ করিয়ে নেওয়া উত্তম।
৩. স্পষ্ট সময়সীমা: চুক্তিতে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার জন্য একটি স্পষ্ট এবং বাস্তবসম্মত সময়সীমা উল্লেখ করুন। দেরি হলে জরিমানার ধারা (clause) যোগ করুন, যেমন বার্ষিক সুদের হার উল্লেখ করা।
৪. আইনগত পরামর্শ: যেকোনো জমি লেনদেনে একজন অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবীর পরামর্শ নিন। তিনি চুক্তির ভাষ্য পর্যালোচনা করে দিতে পারবেন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারবেন।
৫. টাকার রসিদ রাখুন: প্রদত্ত সমস্ত টাকার জন্য স্বাক্ষী সমক্ষে প্রাপ্তি রসিদ (Money Receipt) আলাদাভাবে তৈরি করে রাখুন। ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করা আরও নিরাপদ।

